সন্ধ্যা হতেই সবকিছু আলোময় হয়ে উঠলো। চৈত্র সংক্রান্তির দিন। বনবাতাসীর সাথে দেখা হয়না অনেকদিন। তবে একটা মেসেজ সবকিছু পালটে দিল। তোমার সাথে দেখা করতে চাই। সন্ধ্যা যেন তখন দিনের দরজা খুলে দিল। আমি বনবাতাসীর বাসায় যাই। ছোট ভাই এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ভীষণ ব্যস্ত তার পড়াশুনা নিয়ে। আমি বনবাতাসীর রুমে। কথা ছিল আজকে ঘরে বসে আড্ডা হবে। কিন্তু হঠাৎ মনে হলো বাইরে ঘুরে আসি। বনবাতাসী আর আমি রাস্তায় নামি। এতকথা ইদানিং দুজনে যদি ও হয়তো লাগিয়ে বলি যে পুরোপুরি ভালোবাসার এক স্বপ্নরাজ্য তৈরী হয়ে যায়। এরমধ্যে বাকীবিল্লাহ ফোন করেছে। মধুর কেন্টিন চলে আসেন। সিএনজি ড্রাইভারকে মধুর কেন্টিনের দিকে যেতে বলি। আমাদের আলোচনা যদি, হয়তো বাদ দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তির ইতিহাসে এসে থামে।
কৃষক বধুরা তাদের স্বামীদের পরীক্ষা করতো এই দিনে, কেমন চাষ করেছে গতবছর, ফসল কি ভাল হবে, মনযোগ দিয়ে চাষ করেছেতো! আকালে পাকালে জন্ম নেয়া, যা আবাদ করতে হয় না এমন নানা পদের শাক, তরকারী রান্না করতো। কৃষকদের তা খেয়ে বলতে হবে কোনটা কোন শাক, যদি সে ঠিকমত বলতে পারে তার অর্থ মনযোগ দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করেছে।
বনবাতাসী বলে, ইন্টারেস্টিংতো! কোথায় শুনলে?
আমি বলি কিছুক্ষণ আগে ফরহাদ মজাহারকে একটা টিভি চ্যানেলে বলতে শুনলাম। তবে এখন সত্যিই তোমার হাতের শাকরান্না খেতে ইচ্ছে করছে?
বনবাতাসী বলে, আমি তোমাকে কখনই কিছু রান্না করে খাওয়াবো না! এককাপ চা'ও না! একদিন চা বানিয়ে খাওয়ানোর পরে কয়েকদিন চা বানানোর সময় তোমার কথা মনে করে দুইকাপ চা বানিয়েছি, এর কোন মানে হয়!
আমার বিমর্ষ হবার কথা। কিন্তু হই না। আমি বলি, একটু ভুল করলে, তুমি জান এখন আমি চা খাই না!
সে বলে, সে তো নিশ্চয়ই আমি খাইনি বলে! হেসে ওঠে।
মধুর কেন্টিনে গিয়ে অবশ্য দুজনই চা খাই বাকীবিল্লাহর সৌজন্যে। পহেলা বৈশাখের আগের রাত। মধুর কেন্টিনের পূর্বপাশে সনদান রাতব্যপী কনসার্ট করছে। ভারতের ফাল্গুনী পাটক এর মত দেখতে একজন গায়িকা, নাম শন বা শানা শুনলাম মনে হলো, দুই নেত্রীকে নিয়ে চমৎকার একটা গান গাইলো। তার গায়কী আর গানের কথায় দুই নেত্রীর হাতে কিভাবে জনগণ নিগৃহিত হয়েছে তার একটা গ্রাফিকাল চিত্র ফুটে উঠেছে। গান শেষে বাকী বিল্লাহ পহেলা বৈশাখে তাদের একটা প্রোগ্রামের কথা জানালো। রাজেন্দ্রপুরের শালবাগানে তার এক রাজনৈতিক সহকর্মীর বাসায় যাবে। আমরাও যেতে পারি।
বনবাতাসী আর আমি নিশ্চিত নই তবে মন বলছে যেভাবেই হোক যেতে হবে। অনেকদিন ঢাকার বাইরে যাওয়া হয় না, তারপরে দুজন দুজনকে পুরো একটা দিন কাছে পাওয়ার লোভ, এটা কোনভাবেই না হতে দেয়া যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




