somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগ-ই-বরাত উৎসব যেভাবে চালু হলো!

২০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জগৎবিখ্যাত ব্লগেশ্বর সিংহাসনে সমাসীন। তার সম্মুখে এক আজব চিড়িয়া। তাই নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন প্রধান পরিকল্পনাবিদ, উজির, মন্ত্রী, ষন্ত্রী আর পেয়াদা। প্রজাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়াতে রাজদরবারে কেবল কিছু বিড়ালের ছানা দৌড়ুদুরি করছে।

ব্লগেশ্বর কিছুক্ষণ পর পর মাথার উপরে বহমান বিশাল টানাপাখার দিকে চোখ মুদে, কিম্ভিতুততততত... একটা শব্দ করেন। প্রধান পরিকল্পনাবিদ সে আওয়াজে কেঁপে ওঠে। ব্লগেশ্বরের সম্মুখের এ চিড়িয়াখানি অন্য রাজ্য থেকে এসেছে। অদূরভবিষ্যতে এটা পাশ্ববর্তী রাজ্য দখলের সুযোগ করে দেবে। এখন দরকার এর পেট কেটে ব্লগের সুত্রগুলো ঢুকানো। মহামতি ব্লগেশ্বর প্রধান পরিকল্পনাবিদের উপরে কিঞ্চিত বিরক্ত। তিনি শুনেছিলেন, তার প্রজাদের মধ্যে অনেকেই এই চিড়িয়াখানির সাথে পরিচিত। অথচ প্রধান পরিকল্পনাবিদ এটাতে ব্লগ ঢুকাতে হিমশিম খাচ্ছে! ব্লগেশ্বর এতক্ষণ মুখে কুলুপ দিয়ে হুমবাকারমমম জাতিয় শব্দ করছিলেন। এবার তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। হুয়ামমমমপর, গড়গড় একটা শব্দের পরে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, পেয়াদা! পাকাড়াও হারকুল সিয়ান্দাম নবরুক কে! নিয়ে যাও কয়েকখানায়, একমাস তাকে ব্লগ খেতে দেবে না। হারকুল সিয়ান্দাম নবরুক হচ্ছে প্রধান পরিকল্পনাবিদের নাম।

প্রধান পরিকল্পনাবিদ এবার চোখে শর্ষেফুল দেখতে থাকেন। এই ব্লগেশ্বরের রাজ্যে তার সৃষ্ট ব্লগ নিয়ে সে এতদিন বড়াই করে এসেছে। আর তাকে কিনা এখন এই আজিব চিড়িয়ায় ব্লগ প্রতিস্থাপনে অসমর্থ হওয়াতে মূল্যহীন করে দেয়া হলো! ব্লগেশ্বরেরর এখন যেকোন মূল্যে চায় এর সমাধান। প্রয়োজনে অচ্ছ্যুত প্রজাদের তিনি রাজ দরবারে নিয়ে আনার ব্যবস্থা করবেন। হারকুলের সে দৃশ্য দেখার চেয়ে কয়েদখানা অনেক শান্তির মনে হয়।

ঢোল পড়ে দিকে দিকে। চিড়িয়ার রহস্যভেদ করা সম্ভব এমন একজন খোঁজ পড়ে। তার গলায় তুঘলকী শিরোস্ত্রাণের প্রান্ত বেঁধে নিয়ে আসা হয় রাজদরবারে। রাজা তখন মুরগীর মাথার ঝোল খাচ্ছিলেন লম্বা পাইপের অগ্রে রেখে। তামুক ও মুরগীর ঝোলে অমৃত স্বোয়াদে রাজার অক্ষিগোলক যখন নিভূ নিভূ তখন উজিরে আলা ইন্ডুলা য়াজা মিকুল নবরোজ রাজার পদপ্রান্তে এসে কুইকককুকুক বলে একটা শব্দ করেন। রাজা তার খানদানী নয়নের এক ভ্রু উর্ধ্বে তুলে দেখেন এক নগ্নপদ নিতান্ত নিরীহগোছের প্রজা। নাকের উপরে আতশ কাঁচের দুটো আংটা বাঁধা। রাজা এবার পুরো চোখ তুলে হাক ছাড়েন, বাছা আমাকে এ চিড়িয়াটার মধ্যে ব্লগ ঢুকিয়ে দাও!

নিরীহ গোছের প্রজা এবার পায়ের ভর বদল করে। সে শুনেছে পাশের রাজ্যের এ চিড়িয়া তাদের চিড়িয়ার চেয়ে অনেক দামী। দরিদ্র প্রজা তার সামর্থের চিড়িয়াতে ব্লগ খায় প্রতিদিন কত জঞ্জাল নিয়ে। কিছু কেউ সেখানে দান করলো তো তলা ফুটো হয়ে কোথায় হাওয়া হয়ে যায়। সেখানে বাগ আসে, বাগের ভয়ে সংগী সাথীরা ভয়ে তটস্থ হয়ে ব্লগের মধ্যে নিশ্চিন্তে যাতায়াত করতে পারে না। সে ব্লগের একদিক সোজা হয়তো অন্যদিকে পানি ওঠে। ছাগলের লাদি ঘোরে ব্লগের পকেটে, জিপারে, আর পুরো রাস্তায়। ক্ষুধার্ত প্রজারা সে ব্লগ কামড়ে কামড়ে খাবার চেষ্টা করে কিন্তু হাড্ডি কিলবিল করা ব্লগ দেয় না কোন স্বাদ। না মাছের টেস্ট না মাংসের। আর রাজা এখন দামী চিড়িয়ায় ব্লগ ভাজা তামুকের স্বাদে ভুরিভোজ করার প্লান করছে পাশের রাজ্য!

অসহায় প্রজা নিতান্তই অবহেলাবশে শিখে নিয়েছিলেন পাশের রাজ্যের চিড়িয়াতে ব্লগ পরিবেশনের সূত্র। এ ব্লগ এমন এক মাধ্যম যা কেবল ভাল একটা চিড়িয়াতে ভাল খেলবে তা নয়, এটাকে আরো ভালভাবে কষাতে হবে। প্রজা সেসব নিয়ে এক বৃহৎ পুথিঁ রচনা করেছিলেন, কিন্তু উচ্চাভিলাসী ব্লগেশ্বরেরর কাছে পৌছুঁতে পারে নি সে আর্জি। উপরন্তু, ব্লগশ্বরের বাগ খেয়ে ফেলেছে পুরোটা। প্রজা এবার মহামতি ব্লগেশ্বরের সম্মুখে দাড়িয়ে সাহস সঞ্চয় করে। সে কোমল ও বিনম্র স্বরে বলে, মহারাজ, আমরা দুমুঠো ব্লগ খেতে পারি না, উপরন্তু আমার সম্বল কেড়ে নিয়েছে আপনার ব্লগবাগ!

রাজা মুরগীর তেলে মুচুয়া ঠোটে জিহবা ঘসে বলে, হবে, সব হবে, আগে ব্লগ ভরো এই ম্যাকে!

প্রজা বলে, মহাশয়, আপনি আমাদের ব্লগকে ঠিক করে দিন, এ ব্লগের অধিবাসীরা সব না খেয়ে কোনমতে দিনাতিপাত করছে। আমি আপনার আজিব চিড়িয়ায় ব্লগ ঢুকিয়ে দেব!

রাজা তার বিশাপ বপু মেদের নাভিমূলে হাত বুলাতে বুলাতে বলে, তথাস্তু! এই তোরা কোথায় আছিস, হারকুল সিয়ান্দাম নবরুককে বের করে নিয়ে আয়!

প্রধান পরিকল্পনাবিদের আবার উদয় হয়। সিংহাসনের সম্মুখে উপনীত করার পরে রাজা বলে, হারকুল, তোমাকে মাফ করা হলো, তবে তুমি আমার এই প্রজার ব্লগ ঠিক করে দাও, তার বাগে খাওয়া ব্লগকে আবার ফিরিয়ে দাও!

ব্লগেশ্বরেরর ফরমান জারি হবার সাথে সাথে হারকুল রাজী হয়ে যায়। ব্লগকয়েদে যে ভীষণ বড় বড় ছাগুরাম তাকে তাড়া করছিল তার চেয়ে এই প্রজার চাহিদামত ব্লগ ঠিক করে দিলেই তো হয়! সবই তো মাত্র মিনিটখানেকের সার্চ!

হারকুলের কাজ শুরু হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রজাও কাজ শুরু করে দেয়। অল্পক্ষণের মধ্যেই আজীব চিড়িয়াতে প্রজা ব্লগ ঢুকিয়ে দেয়। ব্লগেশ্বর ব্লগ দেখে ম্যাক ম্যাক করে প্রজাকে এক পাত্র বিরল প্রজাতির কৃষ্ণপত্র রস পান করতে দেবার হুকুম দেয়। খাস খানসামা এক পাত্র সে কৃষ্ণরস যাকে ব্লগেশ্বর কফি বলে তা প্রজার হাতে দিতেই হারকুল হুয়াককককা বলে চেচিয়ে ওঠে। তারপরে অবনত হয়ে রাজার পদচুম্বন করে বলে, মহাশয়, এখন থেকে ব্লগ ছাগুরাম মুক্ত হলো! আপনার এ প্রজা ফিরে পেল তার সালাতামামী!

ব্লগেশ্বর খুশী ম্যাকভর্তি ব্লগ পেয়ে। প্রজা খুশি তার হারিয়ে যাওয়া ব্লগ পেয়ে। সন্ধ্যালোক যখন ম্রিয়মান হয়ে এসেছে, সে সময় প্রজা রাজপ্রসাদ থেকে খুশীর খবর নিয়ে বাইরে আসতেই ব্লগরাজ্যের হাজারো হাজারো নিরন্ন, অভূক্ত প্রজারা তাকে নিয়ে উৎসবে ঝাপিয়ে পড়ে।

উৎসবমুখর সেই রাতটা এর পর থেকে প্রতিবছর ব্লগ-ই-বরাত নামে উদযাপিত হয়ে আসছে।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×