somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৃষ্টির জন্মরহস্য বা রহস্যময় সৃষ্টি

৩০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা কি এবং কেন তা শুরুতেই খোলাসা হবে না। কারণ লেখক লিখতে লিখতে নিজের কাছে পরিষ্কার হতে যাচ্ছেন। সুতরাং কি প্রশ্নের জবাবে হবে এটা একটা রচনা। যাকে প্রবন্ধ নামকরণে সিদ্ধ করা যায়। তবে এখানে রচনা ও প্রবন্ধ কিভাবে পার্থক্য সূচিত করবে সে ধারণা অজ্ঞাত। ধরে নিলাম এটা রচনা ও প্রবন্ধ, দুটোই। তাহলে রচনা ও প্রবন্ধের একই অর্থ নির্দিষ্ট করে দেয়া গেল। মানছেন না! ঠিক আছে তাহলে অর্থগুলো আপনার কাছে রেখে আমাকে ব্যকরণ অশুদ্ধ নিজস্ব বোধগম্যতায় ছেড়ে দিন। কিন্তু একটা প্রশ্ন করতেই হচ্ছে, এটা কি নিবন্ধ! আপনি মাথা চুলকাতে থাকুন আর আমি আপাতত সময় ক্ষেপন না করে, রচনা, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ সব একই অর্থ ধরে নিচ্ছি। কারণ বলার সময় আমরা কিছু লিখে এমনই বলি। রাজনৈতিক প্রবন্ধ যেটাকে বলা হয় তাকে রাজনৈতিক নিবন্ধ বললে ভিন্ন অর্থ প্রদান করে কি! আমার কাছে করে না। আপনার কাছে করলে আপনি মুষ্ঠিমেয় কতিপয়ের অনুলিপি, কারণ আমার মেধা কম কাজেই পরিমাণে সমগোত্রীয়দের সংখ্যাধিক্যই হবে বৈকী।

তাহলে এই লেখার বিষয় তার সাথে কেন লেখা এটা কি দ্বন্দ্ব তৈরী করছে! লেখার বিষয়টা যদি এই মুহূর্তে বলে দেয়া হয় তবে অন্য বিষয় আগমনের পথ রুদ্ধ করতে পারে। সুতরাং বিষয়টা শেষে ভাবলেও চলবে। আপাতত "কেন" সেটা নিয়ে ভাবার অবকাশ থাকছে। কেন প্রশ্নের জবাব খুঁজতে তাহলে একটা জটিল অনুসন্ধানে মেতে উঠতে হবে। কেন বলতে এমন কিছু থাকতে হবে যা একটা লক্ষ্য ও প্রয়োজনের বোধটাকে স্পষ্ট করে। যেমন তা এমনি এমনি হতে পারবে না। হতে হবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। মানে কেন শব্দে লেখার একটা লক্ষ্য স্পষ্ট করতে বলা হচ্ছে। ঠিক আছে, লেখার লক্ষ্য হচ্ছে “সৃষ্টি”। তারমানে একটা সৃষ্টি করার জন্য এই লেখা তৈরী হচ্ছে। একটু অদ্ভুত লাগছে! যদি অদ্ভুত অথবা সহজ স্বীকারোক্তিতে মাথা সায়চিন্থ দেয় তাহলে প্রয়োজনের দিকে ডানা মেলা সম্ভব। কেন সৃষ্টির প্রয়োজন? প্রশ্ন বড় জটিল হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য এটা ঠিক যে লেখাটা একটা দিকনির্দেশনা পাচ্ছে, অর্থাৎ লেখা কিন্তু নিজে তার বুকে ধারণ করে নিচ্ছে বিষয় এবং সাজিয়ে নিচ্ছে পরবর্তী পদক্ষেপ। তাহলে সৃষ্টির প্রয়োজন অন্বেষণে এখন মনোনিবেশ করতে হচ্ছে। এবং এখানে প্রয়োজন খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া গেল। ভালোলাগা। মানে নিজের কাছে ভালোলাগবে বলে লেখার সৃষ্টি! সৃষ্টি ও ভালোলাগা সমীকরণে কি আরো কিছু শব্দ নিয়ে আসতে ইচ্ছ করছে? যেমন সংস্কার, সাহিত্য, সৃজনশীলতা, একটা কিছু দৃপ্তময়ী, একটা কিছু নতুন! অসুবিধা কি, সেগুলোকে আপনি এখন লক্ষ্যে বসিয়ে দিন সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে। সে সবই তো সৃষ্টিরই অন্য নাম!

এখন সৃষ্টির রকমফের নিয়ে যত গবেষণা। সৃষ্টির নামকরণ বিষয় ও বণর্ণায় অনেকটা নিজে থেকেই নির্ধারিত হয়ে যায়। যেমন এটাকে গদ্য বলা যাচ্ছে, কবিতা নয়। গদ্যের মধ্যে এটাকে নিবন্ধ, প্রবন্ধ, রচণা বলা যাচ্ছে কিন্তু উপন্যাস বলা যাচ্ছে না। তাহলে উপন্যাসের আবহটা কিভাবে দেয়া সম্ভব! খুবই সহজ। এখন যদি বিসমিল্লাহ খান এখানে এসে সানাই বাজাতে থাকেন তাহলেই হয়ে যায়। বিশ্বাস করলেন না! আশ্চর্য্য! বিসমিল্লাহ খান এই বাংলা লেখাটা পড়তে পারছেন না। উনি কালো অক্ষরের ছাপানো লেখা দেখে ভাবলেন, দেবনাগরী বর্ণতো বোঝা যাচ্ছে কিন্তু হিন্দিতো নয়! ডাকলেন সুরকার অবনীশংকর দাসকে। ভদ্রলোক সবসময় বিসমিল্লাহ খানের সাথেই থাকেন। তিনি পৃষ্ঠাটা হাতে নিয়ে বললেন, গুরুজি, ইয়েতো বাংলা...! বিসমিল্লাহ খানের মনটা আনচান করে উঠলো। সেই উনিশশো তেতাল্লিশের পরে এমন একটা ছেড়া বাংলা কাগজ তার সামনে পড়লো! সেইবার ঢাকায় এসেছিলেন নবাব পরিবারের আহবানে। একদিন এমনই বাড়ীর আঙিনায় বসে ইয়ারদোস্তদের সাথে আড্ডা হচ্ছিল। হঠাৎ পায়ের কাছে উড়তে দেখলেন একটা ছেঁড়া পাতা। হাতে উঠিয়ে বুঝতে পারছিলেন না কোন ভাষার লিপি..!

কি পাঠক, আপনি কি বিষয় হারিয়ে ফেলছেন নাকি ভুলে গেলেন! মনে কি হচ্ছে এটা গল্প, উপন্যাস হতে পারে! একটু বোধহয় বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। ঠিক আছে আপনার ভালোলাগার সাথে এবার আমার গাটবাধা হলো। সৃষ্টিকে নাম দিয়ে তাকে লেখার চেয়ে সৃস্টিকে নামকরণের দিকে আমরা যাচ্ছিলাম। এখন তাহলে বর্ণনায় না গিয়ে বিষয়টার দিকে আপনাকে ফেলে দেই।

কে বিসমিল্লাহ খান, কে অবনীশংকার দাস তা খুঁজতে শুরু করবেন নাকি ঘটনাটা জানতে উৎসাহী হবেন! আমার তো মনে হয় কি হয়েছিল এই কৌতুহল আপনার মনে জেগেছে। কিন্তু ঘটনাতো আমিও জানি না। এটা হচ্ছে এমন একটা বিষয় যা আপনাকে সৃষ্টি করতে হবে। আর কিভাবে বর্ণনা করছেন সেটা হচ্ছে আপনার গাড়ী চালানোর দক্ষতা। কখন কিভাবে গাড়ীটাকে ঘুরিয়ে নেবেন, কোথায় পার্ক করবেন সেটা আপনার বিষয়। যাত্রীরূপী পাঠকগুলো সার্টিফিকেট জানিয়ে দেবে অচিরেই, আপনার গাড়ীতে চড়বে কিনা! এখন গাড়ী কোথায় নিয়ে চললেন? উপন্যাসে? নাকি এটাকে এখনও প্রবন্ধরূপে দেখতে চান! যদি তেমন কোমল, মলিন অথচ গুরুগম্ভীর শব্দে সব ধ্বংষ, ত্রাস, ঝঞ্ছা, ক্ষুব্ধতা নাঁচিয়ে দেয় অন্তরের যোগসজেস, আপনার নাভীতে চুলকে দেয়া ভুরুব্যাঙ্গ, তৈরী করে এক আকুলিবিকুলী লেখার তৈজষ, তাহলে আপনাকে আমি কানে কানে বলতে পারি, এখন কবিতা মনে হচ্ছে কি! আসলে এটা একটা কবিতার ধোয়াশা, আপনাকে ঠিক শিখে নিতে হবে, কোথায় আপনি একটু বেশী ধুয়ো ওড়াতে চান আর কোন অংশে একটা পরিষ্কার শারদীয় আকাশ!

সুতরাং লেখার বিষয় এতক্ষণে বোধহয় আঁচ থেকে স্থুল করে পুরোটুকুই নামাঙ্কিত হবে এইভাবে যে অদ্যকার লেখার বিষয় হচ্ছে লেখা। আর শিরোনামটা শুরুতে হলেও ওটার অবস্থান ছিল কিন্তু এখানে!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৫২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর সম্পূর্ণ সময়সূচি

লিখেছেন শিমুল মামুন, ২৭ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০২


২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর সম্পূর্ণ সময়সূচি (FIFA World Cup 2026 Round of 32 schedule)
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ীবিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ফিক্সচার (World Cup knockout fixtures Bangladesh time) নিচে দেওয়া হলো:

২৮ জুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্রিকেটের রাজাকার ট্যাগ পাচ্ছেন বুলবুল আহমেদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।
বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০


কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------






























... ...বাকিটুকু পড়ুন

×