২০০২ এর ১৮ই অক্টোবর, ইংরেজী সাপ্তাহিক হলিডেতে চট্টগামের পাহাড় কাটা সংক্রান্ত একটা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে বলা হয়েছিল, অফিসিয়াল নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চ্ট্রগ্রামে জোরপূর্বক পাহাড় কাঁটা চলছে, অথচ এতদসংশ্লিষ্ট সংস্থা কিছুই করতে পারছে না অথবা আদৌ বিষয়টা দেখছে না। যার ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে পাহাড়বেষ্টিত সমুদ্রবন্দরটি। তাছাড়া পাহাড় কাটাঁর ফলে ভূতাত্বিক ভারসাম্যে মারাত্বক ঝুঁকি তৈরী হচ্ছে। অসমর্থিত সূত্র মতে, ২০০ এর উপরে পাহাড় গত দশ বছরে কেঁটে সমতল ভূমির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। এসমস্ত পাহাড়গুলো, নাসিরাবাদ, কুলশী, পলিটেকনিক এরিয়া, জাকির হোসেন রোড, লালখান বাজার এরিয়া, জালালাবাদ, হাটজারী ও কুমিরা অঞ্চলে হাউজিং এস্টেট তৈরীর নামে নয়তো মাটি বিক্রির জন্য কাঁটা হয়েছে। কুমিরা ও হাটাজারীতে অনেকগুলো ইটের বাটা তৈরী হয়েছে পাহাড় কেঁটে। চিটাগং ডেভলপমেন্ট অথরিটির সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, কিছু পাহাড়কতর্নকারীর বিরুদ্ধে কেস হওয়াতে পাহাড় কর্তনের পরিমান কমে গেলেও পুলিশের সহায়তায় অবৈধ পাহাড় কাটা এখনও চলছে। মাটি ও বালু ব্যবসায়ীদের একটা চক্র পাহাড় কাঁটার সাথে জড়িত বলে অনুমান করা হয়। চট্টগ্রামের বাসিন্দারা অসংখবার অভিযোগ তুলেছেন পাহাড় কেটে চট্টগ্রাম শহরের সৌন্দর্য্য নষ্ট করায়। বর্ষাকালে শহরের অনেক অংশে জলাবদ্ধতা তৈরী হয় কাঁটা পাহাড় থেতে মাটি নেমে ড্রেনেজ সিস্টেম বন্ধ হয়ে থাকায়।
২০০২ সালের অক্টোবর মাস পেড়িয়ে আজকে প্রায় পাঁচবছরের মাথায় সেই পাহাড় কাঁটার মূল্য দিল আশিটা প্রাণ। সেদিন মেয়র মহিউদ্দিন ছিলেন, সেদিন সরকার ছিল, সেদিন এগুলো দেখার লোকজনও ছিল। কিন্তু তাদের সেই অযোগ্য, অবিবেচনাপ্রসূত ও দূর্ণীতির জন্য আজকে এতগুলো মানুষকে প্রাণ দিতে হলো। এর দায়দায়িত্ব কে বহন করবে? কাকে দায়ী করবো আমরা?
চট্টগ্রামে অবৈধ পাহাড় কাঁটার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রতিটি সুবিধাভোগীকে বিচার করতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



