হাতঘড়ি, স্যান্ডোগেঞ্জি ও রুমাল এই তিনবস্তুর সাথে আমার সন্বন্ধ ভাল না। স্কুল ছাড়ার পরে আর ঘড়ি পরিনি। কারণ হারানোর বাতিক। স্যান্ডোগ্যাঞ্জিতে কেন যেন কমফোর্ট ফিল করিনা। আর রুমাল কখনই ব্যবহার করিনি। তবে এই তিনটি বস্তু পুরুষের ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয় বলে স্বীকৃত পারিবারিকভাবে। প্রথম হাতঘড়ি কেসিও এফ ১৪ তখন ডিজিটাল শব্দটাকে চিনিয়েছে। কালো বেল্টের ঘড়ি ডান হাতে পরতাম। হাতের যেখানে ঘড়ির বেল্টটা লেপ্টে থাকতো তার নিচের সাদা একটা ছাপ পড়ে গেলো কিছুদিনের মধ্যে। রাত্রে ঘুমের সময়ও ঘড়ি থাকে সাথে, পুকুরে গোছল করার সময়ও সাথে। তখন ফুটবল খেলতাম। ছেলেপুলেদের সাথে মারামারি করতাম। গাছে উঠতাম, কাঁদায় গড়াগড়ি খেতাম। এ পুরো সময়টাতে এফ-১৪ থাকতো লটকে। যারফলে বছর ঘুরতে সেটার চেহারা আর দেখার মত রইলো না। বাবা আরেকটা কিনে দিলেন। কিন্তু ক'দিন সেটার অবস্থা তথৈবচ হওয়াতে তিনি বিরক্ত হয়ে বাদ দিলেন। সেই কালে আমিও তখন কলেজে উঠে গেছি। পরে আর ঘড়ি হাতে দেইনি।
গরমের সময় জামার নিচে স্যন্ডোগেঞ্জি পরলে আমার কেন যেন গরমটা বেশীই লাগতো। শীতের সময়ও আটোসাটো লাগতো। ছোটবেলায় স্কুলের ড্রেস পরার সময় মা থাকতেন সামনে দাড়িয়ে। বাধ্য হয়ে গেঞ্জি পরতে হতো। কিন্তু স্কুলে যাবার পথে রাস্তা নির্জন পেলেই আমি তা খুলে ব্যাগের মধ্যে চালান করে দিতাম। এতে সমস্যা হতো এই যে মাঝেমাঝে গেঞ্জি যেতো হারিয়ে। মা ভেবে পেতেন না কোথায় গেঞ্জি যায়! এক অদৃশ্য চোরের উপর দোষ চাপিয়ে আমার রক্ষা হতো।
রুমালের ব্যবহার কখনই শিখতে পারলাম না। একবার প্রেয়সী একডজন রুমাল কিনে দিয়েছিল বিরক্ত হয়ে, আমি মহত্ব দেখিয়ে সব বন্ধুদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছি। নিজের পকেটে একটা টিসু পেপার থাকে সবসময়, দরকার হলে সেটা ব্যবহার করে ফেলে দেই। রুমাল ব্যবহার মানে ময়লা পকেটে পকেটে নিয়ে ঘুরে বেরানো! ছ্যা!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



