একটা করে সূর্য ডোবে আর শেষ হয়ে যায় সম্ভাবনার দিন। প্রতিদিন নতুন এক সূর্য দেখি। সেটা ডুবে গিয়ে টান লাগিয়ে দেয় ইচ্ছেমেঘ। সারারাত ঘোরে কালো হয়ে। গভীরতম রাতে বিরহী নিশাচরেরা ডাকে। আমি জেগে থাকি অথবা ঘুমের মধ্যে জেগে থাকি। মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিসঅর্ডারের মত। নিয়ন্ত্রণে নেই। চাপগুলো আমাকে পরিবর্তন করে দেয়। নতুন সূর্য দেখার কুসুমভোর টেনে নামায় রাস্তায়। কোথায় যেন গন্তব্য মনে পড়ে অফিসের ব্যাগ হাতে দেখে। দাড়িয়ে আছে পেটমোটা একটা মাইক্রোবাস, কিছুক্ষণের মধ্যে উগড়ে দেয় অফিসে।
সময় গড়ায়। ন'টার কাঁটা ছুঁইতে ফোনের দারস্ত হতে হয়। যা ছাড়া কোন কাজ করা সম্ভব নয়। ও'প্রান্তে যিনি থাকেন তার সাথে আমার সম্পর্ক জন্মান্তরের। তিনি জানেন না। হয়তো জানেন। তিনি বোঝেন না, হয়তো বোঝেন। কিন্তু আমি কোন হয়তো নই। জানি, বুঝি - সে আমার নিশ্বাস। কেবল জানি না কি করে সে নিশ্বাস বন্ধ করে থাকা যায়। আমার সে নিশ্বাস চেপে আসে কখনও, শরীর গুলায়, চোখদুটো বড় বড় হয়ে যায়, বুকের মধ্যে আকুপাকু করে শূণ্যতা। ভাষা যায় জনশূণ্য প্রান্তরে। আমি নিজের সাথে শব্দজট খেলি। ভালোবাসার অর্থ খুঁজি। সে নিশ্বাস দিলে আমি নিশ্বাস নিয়ে বাঁচি।
চায়ের কাপে চামচ ঘোরে, ঠান্ডা হতে থাকে। চুমুক দেয়া হয় না। আঙুলের টিপে কিবোর্ড অসার বসে থাকে, লেখা হয় না। আমি বিশ্বভ্রমণে নেমে পড়ি। পায়ের তলে দেখি দিগন্তের বিভাজন, অসামান্যের আহবান। নিজেকে বড় অপাঙতেয় মনে হয় বিশ্ববৈভবের সামনে। হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা। আমার মরণজ্বালা শুরু হয়। ইন্টারনেটের সর্পিল পথ পেড়িয়ে ইথারে ইথারে সংযুক্ত হতে দেখি দেহের পরে দেহে। তথ্যের সাথে। আমার বুকে জমতে থাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বরফ। বুকের জমিনে জমাট থাকতে পারে না। বের হয়ে আসে নাক, মুখ আর চোখ দিয়ে। হেঁচকি ওঠে। বন্ধ হয়ে যায় গুমোট পৃথিবী দেখে। সূর্যটা কে আর আলোদাত্রী মনে হয় না। তার কিরণ পুড়িয়ে দেয়।
আমি ডুবতে থাকি। আজকেও ডুববো ইচ্ছেমেঘে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



