দ্রিম দ্রিম করছে বুক। রাত্র সাড়ে আটটায় লঞ্চ। অনেকদিন পরে বরিশাল যাচ্ছি। বরিশালের লঞ্চ মানে হচ্ছে বিশাল একটা জাহাজ। গায়ে গতরে লঞ্চকে ক্ষুদ্রার্থে ধরা হলেও বরিশালের জাহাজগুলোকে লঞ্চ বলার কারণটা রহস্যাবৃত। একটা ডিসটিভি সমেত কেবিন, দুটো শোবার খাট, ছোট্ট একটু এটাচড ডেক এমন যাত্রা মানেই থ্রিলিং। মনে হয় সাগর পাড়ি দিচ্ছি। বরিশাল যখনই যাওয়া হয় প্রতিবারই লঞ্চে অসংখ্য পরিচিত মানুষের সাথে দেখা হয়। আর সদরঘাটে গেলে তো ঢাকায় আছি বলে মনেই হয় না। চারদিকে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার তুফান, মনে হয় চলে তো এলামই। এবার বরিশাল ভ্রমণ নিয়ে বেশ আনন্দিত, উৎফুল্ল। প্লান করেছি, বরিশালের রাস্তাঘাট, মহল্লা, বিভিন্ন স্থাপনার ছবি তুলবো, আর সেগুলো নিয়ে বরিশাল নামে একটা ব্লগ খুলে সেখানে সাজিয়ে রাখবো।
বরিশালে আমাদের বাসা ছিল বৌদ্যপাড়া। বিএম কলেজের পশ্চিমপাশে। আমি তখন রুটিন করে তিনবেলা গাজা খাই। বাসার পাশে পিন্টুদের একটা পুকুর ছিল। চারিপাশে অসংখ্য বৃক্ষরাজির মাঝে শানবাধানো ঘাটলায় বসে কত যে গাজা খেয়েছি, তার কোন শেষ নেই। কিছুদিন আগে পুকুরটা ভরাট করে ফেলেছে। সাই সাই করে এপার্টমেন্ট উঠেছে। এবার সেখানে যাবো, পরিচিতদের সাথে গপসপ করবো। সবেমাত্র দুইদিন থাকবো বরিশাল। যদি আর ক'টা দিন ছুটি পেতাম!
বরিশাল মানে আমার কাছে বিশাল কিছু। বরিশালের সবকিছু ভাল লাগে। বরিশালবাসীদেরকে আমার ভীষন সজিব, প্রানবন্ত আর উৎফুল্ল মনে হয়। স্বতস্ফুর্ত। সেই সাথে সার্বজনীন ঘাড়তেড়ামীও দারূণ উপভোগ্য। আর একটা বিষয় না বললে নয়, বরিশালের মানুষ প্রচন্ড চাপাবাজ, সেই সাথে সব কিছু একাই করে ফেলার মত দুঃসাহসী বাতচিত করতেও তারা পিছপা হয় না। আমার বরিশাইল্লাদের চাপাবাজি শুনতেও ভাল লাগে। বরিশালের কেউ যখন ঠিকানা দেয়, তখন সে বলবে, আমতলা গিয়ে খালী আমার নাম বলবেন, সবাই বাসা দেখাইয়া
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



