আলুর উৎপাদন এতই হয়েছে যে দাম কমতে কমতে শূন্য প্রায়। অথচ চালের দাম আকাশ ছোঁয়া। একটা রাজনৈতিক দলতো ঘোষণা করে বসলো তারা ক্ষমতায় আসলে প্রতি কেজি চালের দাম করবে দশ টাকা। তখন ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০০৭ এর জানুয়ারির কোনো একদিন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলো ক্ষমতায়। যেদিন আসলো সেদিন বেশ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বাদ্য বাজিয়ে আসলো। কিছু বাদ্য ব্লগেও পড়লো। সকাল বেলা ব্লগ খুলে দেখি..ব্লগ নাই..একটা নোটিশ ঝুলছে। সে নোটিশে অবশ্য আলু বেশী বেশী খাবার কথা লেখা ছিলো না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরো কিছু বেলা যাওয়ার পরে একজন সেনাপ্রধান আলু খাবার কথা বলেছিলেন। তবে ঐ নোটিশে লেখা ছিলো সরকারী আদেশে ব্লগ আপাতত বন্ধ থাকবে।
আলুপ্রধান যখন সেনা খাবার কথা বললেন তখন মানুষজন অনেক হাসাহাসি করেছিলো। আমার তো দাঁত ধার করে হাসতে হয়েছিলো। তার বক্তব্য ছিলো আলু অনেক স্বাস্থ্যকর, আলু অনেক ভালো চালের চেয়ে, দাম কম, গরীব মানুষেরা তো এটা খেতে পারে। ব্লগ যখন ফের চালু হলো তখন সেই সেনাপ্রধানকে ব্যঙ্গ করে আলুর এমন সব অস্বাভাবিক কোয়ালিটির কথা ব্লগে লেখা হতে থাকলো যে আমাদের দিনরাত আনন্দে কেটে যেতো। ফেসবুক তখন ছিলো না। অনলাইনের যাপন মানে ব্লগই - যেখানে কথা বলা যায়, গল্প করা যায়, আড্ডা মারা যায়। একটা বিশাল ভার্চুয়াল আড্ডা কেন্দ্র বিকাশমান। একদিন ব্লগে না ঢুকলে আমাদের পেটে আলুপ্রধানের অভাব দেখা যায়। কিন্তু পাবলিক তাকে দু:খিত করে দিয়ে ভাতই খেতে থাকলো। বাপদাদা ভাত খেয়েছে, তার বাপদাদা ভাত খেয়েছে, তার বাপদাদাও। চৌদ্দপুরুষের ভেতো মুখের ভেতরে একদিন ভাত না ঢুকিয়ে যদি কেবল আলু ঠুসিয়ে বসে থাকে তবে তাদের পেট ফুলে থাকবে, বহির্নোঙর অঞ্চল বন্ধ করে। পুরো এক সৈন্যবাহিনী কুচকাওয়াজ করেও সে বদ্ধ জানালা খুলতে পারবে না।
তাই আমরা ভাতের উপরে চাপ কমালাম না। বেশী দামে চাল কিনে বেশী আশায় রাজনৈতিক দলটির দিকে তাকিয়ে ফাটিয়ে ভাত গলধ:করণ করতে থাকলাম। কিন্তু সেনাপ্রধান এতে দমে যাবার পাত্র নয়, তিনি আলুতেই জাতির মুক্তি দেখতে থাকলেন। এবং একসময় হজমও হয়ে গেলেন।
আজকে সেই দশ টাকার চালের স্বপ্ন দেখা রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতায়। অথচ তারাও বললো, ফেসবুকের উপরে চাপ কমান, বেশী বেশী আলু খান!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




