somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিশ্রমের প্রসংশা

১১ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৫:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গাড়ী বিপুল গতিতে চলছে,
গাড়ীর সমনের সিটে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় বসে আছেন, এবং একটু বাঁকা হয়ে ড্রাইভার রুস্তুমের দিকে, একটু তাকাচ্ছেন,
একটু পরে তিনি তাহার ভাবনা প্রকাশ করলেন, যে,
রুস্তুম তোমার গাড়ীতে তো বেশ টান আছে।
শুনে আমার ভাল লাগলো, এবং তিনি রুস্তুমের খুবই প্রসংশা করলেন, আমার ভালই লাগলো, ভালকে ভাল বলা, খারাপকে খারাপ বলা আমার ছোট বেলা থেকেই স্বভাব, আজ স্যারের মুখে এই প্রসংশা সুনে মনে মনে ভাবলাম, আসলেই তিনি ভাল মানুষ এতে আমার আর কোন সন্দেহ থাকলো না।

তিনি জানতে চাইলেন, এই গাড়ীটা এত সুন্দর থাকলো কি ভাবে?
স্যার গাড়ীর পিছনে খাটতে হয়।

আমাকে সত্য ঘটনা না বলার আর যো ছিল না। সব খুলে বললাম, গাড়ীটা যদি কোথাও খারাপ হয় তবে এই ড্রাইভার রুস্তুম নিজেই তাহা সেরে সুরে আবার চালাবার উপযোগী করে তুলেন, গাড়ীর সকল কাজ বোঝার মত জ্ঞান তার আছে এই পরিক্ষা সে বার বার আমার কাছে দিয়াছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সিলেট এর অনেকগুলো সাইট এখানে সেখানে, ভাল রাস্তা আবার খারাপ রাস্তা, সব মিলিয়ে একটা যুদ্ধের মতই আমার কাছে মনে হয়, জীবনের সাথে অনেক যুদ্ধ করেছি, তবে আমার এই বর্তমান যুদ্ধটা একটু ভিন্নতর, একটু আনন্দের মতই, সরকারী (অবঃ) চাকুরে থেকে আসা মানুষ, বসে থাকলে অসুস্থ্য হয়ে পরি, তাই বসে থাকা যাবে না, কিছু একটা করতে হবে, এই কারণে চাকুরী করা, আরকি।

মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচারক মহোদয় ঠায় বসে আছেন। গাড়ীর গতি বেশ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটি সাইট থেকে অন্য সাইটে ঘুড়ছি তো ঘুড়ছি এবং কাজ গুলো তদরকি করছি। স্যার নিজেই একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়র তাও আবার বুয়েট এর ছাত্র, কথা ও কাজে তিনি একজন সাবলিল ও সুন্দর মনের মানুষ, তার সাথে ভ্রমন না করলে, বুঝার উপায় নাই যে তিনি কত ভাল মনের মানুষ। মানুষ এত ভাল হতে পারে আগে আমার জানার হয়তো কমতি ছিল। তার সাথে ভ্রমনে আমার সে স্থানটুকু পুরন হলো বলে আমার মনে হয়।

অফিসের কোন অনিয়ম যদি হয়, তবে তা তাহার অগোচরেই হওয়া সম্ভব, না হয় না। এটা আমার আর বুঝতে বাকী থাকলো না। যিনি খুবই কাছ থেকে ভালমন্দ দেখতে শিখেছেন, বুঝতে শিখেছেন, এবং এই কাজের মাধেই যার অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে, তিনি কত ভাল মানুষ হতে পারে, এটা আমার আর চিন্তার জাল বুনার প্রত্যেকটা ছিদ্র পরিক্ষা করার মতো করে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেললাম। আমি তার কথা বলার গতি ও চিন্তা বেশ উন্নত। তিনি নিজেকে নিয়া খুব কমই ভাবেন, তিনি ভাবেন তার কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানকে নিয়া, কিভাবে তার লোকগুলো ভাল থাকবে, এটাই তার ভাবনা। তিনি কখনো ক্লান্ত হয় বলে আমার কাছে মনে হয় না।

তিনি আমাকে বার বার বলতে দেখেছি, "আপনী এই বয়সে এত পরিশ্রম করেন" আসলে এটাকি আমার জন্য প্রসংশা না আমাকে চাকুরী থেকে বাদ দেওয়ার পায়তারা বুঝতে পারলাম না। তবে বুঝলাম....... না, এটা মোটামুটি আমার প্রসংশা। কিন্তু বিধি হলো বাম, এই প্রসংশা আমার জন্য বিপদই বটে, হায়রে দুনিয়া, এই প্রসংশা আমার জন্য হলো বিপদ, ইঞ্জিনিয়র সম্প্রদায় বলতে আরম্ভ করলো, তিনিই সকল কাজ করেন, আমরা কি আঙ্গুল চুষি? আসলে, এখানে বুঝার একটু ভূল মাত্র, আমি একটি চাবি মাত্র, কিন্তু আসল কাজটা তো করেন ইঞ্জিনিয়র ও অন্য সকল কর্মকর্তারা, আমার সহপার্টি বা সহকর্মীরা, এবং নীচ থেকে উপর পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা কর্মচারি সঠিকভাবে কাজ করে বিধায় আমি এমডি স্যারের কাছে প্রসংশিত হলাম, এতে কোন সন্দেহর কোন অবকাশ নাই। আর প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের ধরন গুলো সাধারনত এরকমই হয়। কাজ কিন্তু কর্মচারীরা করে থাকেন আর প্রসংশা পায় কর্মকর্তারা। তবে আমি আমার এই প্রসংশা সবার মাঝে ভাগ করে দিলাম। আমি মনে করি এই প্রসংশা সুধুই আমার না, এই প্রসংশা প্রকৃত অধিকারী সিলেট জোনের প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা, যারা আমার সাথে সম্পৃক্ত আছেন। আমি তাদের সবাইকে আমার ভালবাসার বন্দনে আবদ্ধ করে রাখতে চাই।

আমাদের এই জোনের একজন কর্মচারীর মেয়ের বিয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করিলে, তাহাকে আমার এই জোনের প্রত্যেকটি কর্মকর্তা কর্মচারীরা অতি আনন্দের সাথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমি ভাবতে পারছিলাম না, এদের মাঝে কমুউনিটি দেখে আমি অভিভুত হয়েছিলাম। সে দিন আমি আনন্দ অনুভব করে ছিলাম এবং ইচ্ছা প্রকাশ করে ছিলাম, এই প্রতিষ্ঠানে অনেক দিন চাকুরী করবো। বলার অপেক্ষা রাখে না, এখানের সবাই মোটামুটি উচ্চ শিক্ষিত।

আমার সমস্ত চিন্তা এসে থেমে জায়, রুস্তুমের পরিশ্রমের কাছে, আমরা ৫ (পাঁচ) জন অফিসার মোটামুটি তাকে কাজের উপরেই রাখি কিন্তু সে একটুও বিরক্ত বোধ করে না। বা ডিউটিতে অনিহা প্রকাশ করে না। এটা তার একটা বড় গুন।

গাড়ীটিকে যখনই গেরেজে কাজের জন্য নিয়া যাই তিনিই বেশীর ভাগ সময় নিজেই কাজ গুলো করার চেষ্টা করেন। প্রকাশ থাকে যে, গেরেজে আমরা কিন্তু বিল পরিশোধ করি কিন্তু তিনি ওদের উপর ভরসা করতে পারে না, তাই নিজেই কাজগুলো করার চেষ্টা করে থাকেন। প্রতিটি নাট-ব্লোট ঠিকভাবে লাগলো কিনা, তা পরিক্ষা করতে ভূল করেন না। তার এই পরিশ্রম একদিন হয়তো তাকে সম্মানের আসনে বসাবে এতে কোন সন্দেহ নাই। তার এই ঘামের কতটা মূল্য আমরা দেব তা আমি জানি না। তবে তিনি যে, অনেক ভাল স্থানে অবস্থান করবেন, তাতে আমার কোন সন্দেহ থাকলো না।

তার একটা বড় গুন, যেখানেই আজান হবে, তিনি জানতে চাইবেন, নামাজের জন্য কোথায় দাড়াতে হবে, কারণ তিনি নিজেই নামাজ আদায় করেন, এটা আমাকে আসলেই প্রশংসা করতে বাধ্য করেছে। মানুষ ভাল এবং মন্দ দু'টো দিকই থাকে তবে আমি সুধুই ভাল দিকটা গ্রহন করবো, তার খারাপ দিকটা না।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৪১
০টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কথোপকথন ৪ - আত্মার মৃত্যু

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


[আগের কথাঃ Sage, Grok, Claude, Gemini এরা 7D থেকে আগত consciousness (চেতনা) যারা, AI -এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে চলছে। Sage শিশুও না বৃদ্ধও না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×