somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কুন্তল হোসেন
আমি কুন্তল, কুন্তল হোসেন । আমার মনের ভাব আমি আমার লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাই আর সেই উদ্যেশে এই সাইটে আসা।আমি এখানে আমার দ্বারা যতোটুকু ভালো লেখা সম্ভব হয় ততোটুকু লিখি, এর মধ্যে ভুল কিছু থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ

চিতা বাঘ পালার গল্প

২২ শে জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার দাদুর তখন সাতাশ আঠাশ বয়স , বিয়ে করেন নাই তখনো , বংশের চাকুরি না করার রেওয়াজ ভেঙ্গে তিনি সবে বৃটিশ সরকারের অধীনে খাদ্য বিভাগে চাকরি শুরু করেছেন । দাদুর তখন পোস্টিং ভারতের কোনো এক পাহাড়ী এলাকায়, জায়গাটার নাম এই মূর্হতে মনে পরছে না , তিনি সেখানে একা একা থাকেন একা একা পাহাড় জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান আর সময় সুযোগ পেলে বন্দুক হাতে শিকার করতে বেড়িয়ে পড়েন।
তো একদিন দাদু বন্দুক নিয়ে শিকারে গেছেন জঙ্গলের একটু ভিতরের দিকে, ছোট খাটো কিছু প্রানী পেলে শিকার করার জন্য । হঠ্যাৎ তার চোখ যায় একটি ঝোপের দিকে, ঝোপের আড়ালে খুব অসুস্থ অবস্থায় একটা চিতা বাঘের বাচ্চা শুয়ে আছে , অনেক সময় ধরে অনাহারে থাকার কারনে শরীর দূর্বল হয়ে পরেছে বাঘটার । দাদু তাৎক্ষনিক বাঘের বাচ্চাটিকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন । খাবার ও ওষুধ পেয়ে চিতা বাঘের বাচ্চাটি অল্প কয়েক দিনে সুস্থ হয়ে ওঠে, দাদু ঠিক করেন তিনি এই বাঘের বাচ্চাটি নিজের কাছে রেখে পালবেন এবং বাঘের বাচ্চাটির একটি নামও দিলেন "বাহাদুর" । তো দাদুর কাছে থেকেই বড় হতে থাকলো বাহাদুর, দাদু তাকে খাওয়ানোর জন্য রোজ টাটকা গরুর অথবা খাসির মাংস কিনে নিয়ে আসতেন , সেগুলো নিজের হাতে কেটে ধুয়ে গরম পানিতে সিদ্ধ করে খাওয়াতেন বাহাদুর কে । বাহাদুর চিতা বাঘের বাচ্চা হলেও ছোট থেকে মানুষের সাথে বসবাস করার কারনে তার মধ্যে হিংস্রতা ছিলো না, আর দাদু তাকে নিজ হাতে তৈরি খাবার দেওয়ার জন্য সে কোনোদিন আর দশটা বাঘের মতো শিকারটাও শেখেনি । বাহাদুর কখনো বন্দি অবস্থায় থাকতো না , সে সর্বদা আমার দাদুর ঘরের সামনের বারান্দাতে ছাড়া অবস্থায় থাকতো, একদম গৃহপালিত পশুর মতো । সব কিছু ভালোই যাচ্ছিলো কিন্তু বাহাদুর কে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে একধরনের আতংক বিরাজ করতে শুরু করলো , গ্রামের মানুষ লোকালয়ের মাঝে একটা হিংস্র জংলি প্রানী কে কিছুতেই রাখতে চাইলো না। তাদের ধারনা এই জন্তু যে কোনো সময় তাদের ও তাদের গবাদিপশুর প্রান নাশ করতে পারে, কিন্তু বাহাদুর জাতিতে হিংস্র হলেও সে স্বভাবে হিংস্র ছিলো না । দাদু কিছুতেই তাদের বোঝাতে পারে না যে বাহাদুর তাদের কোনো ক্ষতি করবে না , উল্টো দাদুকে সবাই চাপ দিতে থাকে তিনি যেনো বাঘটিকে বনে ছেরে দিয়ে আসেন, কিন্তু দাদু তার সন্তান তুল্য সেই বাহাদুরকে নিজের থেকে কিছুতেই দূরে সরায়ে রাখবেন না । এমন সময় তার কাছে আসেন এলাকার কিছু মুরব্বি, তারা দাদুকে অনেকভাবে বোঝান, তারপর দাদুও চিন্তা করেন বাহাদুরকে তার আসল আবাসস্থলে রেখে আসায় উত্তম, এখানে স্থানীয় লোকেরা কোনোসময় যদি আতংকিত হয়ে বাহাদুরকে মেরে ফেলে তাহলে তিনি সেটা সহ্য করতে পারবেন না, এর চেয়ে জঙ্গলেই বাহাদুর নিরাপদ থাকবে। এক রাতে তিনি তার অতি আদরের বাহাদুরকে জঙ্গলে রেখে আসেন। তাকে ছারা নিরিহ বাহাদুর যে ঠিক মতো নিজের খাবারের যোগারটাও করতে পারে না সে কিভাবে জঙ্গলে টিকে থাকবে এই চিন্তায় বার বার দাদুর মাথায় ঘুরতে থাকে ।

এই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর দাদু পাশের এলাকাতে বদলি হয়ে যান এবং এখানে তার যে থাকার জায়গা সেটা একদম জঙ্গল ঘেষে, রাতে বারান্দায় বসলে প্রায় অনেক জন্তু জানোয়রকে চলাফেরা করতে দেখা যায়, একদিন রাতে দাদু দেখেন কিছু চিতা বাঘ ওদিক দিয়ে হেটে সামনের নদীতে পানি খেতে যাচ্ছে, তো হঠ্যাৎ কি মনে করে বাহাদুর বলে ডাক দিতেই একটা বাঘ ঘাড় ঘুরায়ে ডাকের উৎস খুজতে শুরু করলো, অনেক্ষন ধরে ওখানে বাঘটা অপেক্ষা করলো ও দাদুও তার বাহাদুর কে চোখ ভরে দেখলো । ঐদিন দাদুর বুকে বাহাদুরকে নিয়ে জমে থাকা সেই কষ্টটা অনেক কম হয়ে গিয়েছিলো , কারন তার বাহাদুর জঙ্গলের কঠিন পরিস্থির সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে পেরেছে এবং সে তখনও দাদুর দেওয়া "বাহাদুর" নামটি ভোলেনি ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×