আজ প্রিন্স উইলিয়ামস আর কেট মিডেল্টন এর বিয়ে হচ্ছে রাজকিয় আয়োজনে। যুক্তরাজ্যে আজ সরকারি ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে বিয়ে উপলক্ষে। সমস্ত বিশ্বের বার হাজারের ও বেশি সাংবাদিক এসেছে রিপোর্ট করার জন্য, বিশ্বের নামী-দামী সব সেলিব্রেটিরা এসেছে মেহমান হিসেবে, দাওয়াত না পেয়েও লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে অনুষ্ঠান দেখার জন্য, স্বনাম ধন্য সব পাদ্রীরা এসেছে বিয়ে পড়াবার জন্য, কোটি কোটি মানুষ অনুষ্ঠান উপভোগ করছে টিভির পর্দায়, কত নিরাপত্তার ব্যবস্তা, পাচ হাজার পাউন্ড করে প্রতি রাতে দিয়ে হোটেলে থাকা আর ও কতো কিছু! এই সব করতে তাদের খরচ হচ্ছে বিশ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। শত হলেও রাজকিয় ব্যপার স্যাপার। তাই এসব নিয়ে লিখতে গেলে লেখা শেষ করা যাবে না বরং সুহেদার বিয়ের ঘটনাটা লিখে তাদের উৎস্বর্গ করাকেই শ্রেয় মনে করছি।
নব্বই দশকের গোড়ার দিকের কথা। হত দরিদ্র মাতা পিতার মুখ উজ্জল করে জন্ম হয়েছিল একটা পরীর। তার নাম রাখা হলো সুহেদা। মেয়ে হয়েছে জেনে মুখ কুচকিয়ে ছিল অনেকেই। অনেকের আচরনেই প্রকাশ পেয়েছিল জাহেলিয়াতের অনুশীলন। দারিদ্রের ঘানি মাথায় নিয়েই বড় হলো সুহেদা।
সময় ঘনিয়ে এলো বিয়ের। গরীবের বিয়ে না যেন আজরাইলের সাক্ষাত দেখা - যৌতুক নামের কৌতুকের কারনে নাভিঃস্বাষ উঠা। যাই হোক শত চড়াই উতরাই পেড়িয়ে বিয়ে ঠিক হলো। বিয়ের তারিখ ঠিক করতে পেরে আনন্দিত হলো পিতা–মাতা। খুশি হলো সুহেদা। স্বপ্নে দেখলো নতুন করে জীবনকে সাজাবার।সে যে কত আনন্দ কত যে স্বপ্ন। এ স্বপ্ন কোনো রাজমুকুটের জন্য নয় তবে রানীদের স্বপ্ন আর সুহেদার স্বপ্ন এসে মিলে গেল একটি সুখী সংসার গড়ার স্বপ্নাগৃহে।
সুহেদার বিয়ের আয়োজনটা সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরলাম।
মেয়ের বিয়েতে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার ইচ্ছা ছিল সুহেদার বাবার। তাই শত কষ্ট করে হলেও কিছু টাকা জমিয়ে ছিলেন। আজ বের করে দেখলেন আট হাজার টাকা জমা হয়েছে। কিন্তু এত অল্প টাকায় কিছুতেই অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয় তাই হাত পাতলেন মানুষের কাছে- ধার করলেন কিছু টাকা। সর্বসাকুল্যে বিয়ের জন্য বাজেট হলো তেইশ হাজার টাকা বা দুইশো পাউন্ডের কিছু বেশি।
স্বল্প বাজেটে অল্প মেহমান দাওয়াত করা ছাড়া গতি নেই তাই নিকটজন আর হাতে গোনা কয়েক জনকে দাওয়াত দেয়া হলো। নামী দামী মেহমান বলতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে দাওয়াত দেয়া হলেও গরীবের বিয়েতে আসার মত সময় বের করতে না পারার কারনে বিগত নির্বাচনে পরাজিত মেম্বার পদ প্রার্থীই থাকল অনুষ্ঠানের প্রধান মেহমান।
ঘরের পাশের খালি জায়গাতে সামীয়ানা টানিয়ে দেয়া হলো আর মেহমানদের বসার জন্য গ্রামের প্রাইমারী স্কুল থেকে ভাড়া করে আনা হলো কিছু চেয়ার-টেবিল। পাশের বাড়ির ইলিয়াছকে একখানা লাঠি হাতে নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে বলা হলো যাতে খাওয়ার সময় কুকুরগুলো মেহমানদের বিরক্ত করতে না পারে। এলাকার মাসজিদের ইমাম সাহেবের বিয়ে পড়ানোর কথা থাকলেও তিনি না এসে মুয়াজ্জিনকে পাঠিয়ে দিলেন বিয়ে পড়ানোর জন্য। গরীবের বিয়ে বলে কথা! অল্প সময়েই শেষ হলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। সুহেদার বাবা-মা অশ্রু সিক্ত চোখে বিদায় জানালেন আপন মেয়েকে।সব শেষে একটি সাজানো বেবী-ট্যাক্সি তে করে স্বামী আর নতুন বধু সুহেদা রওনা হয়ে গেল তার শশুরালয়ে।
একই পিতা আদম আঃ থেকে জন্ম হলেও আজ কত পার্থক্য, কত ভেদাভেদ উচু নীচুর। কোটি কোটি মানুষের বসবাস দারিদ্রসীমার নীচে, কত বনী আদম মারা যাচ্ছে না খেয়ে। আর কিছু লোক হয়ে আছে রাজা বাদশাহ, মানুষ নয় রাজা হয়েই তারা বেচে থাকতে চায় চিরকাল। তারা বুঝতে চায় না মানুষের মানুষ হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেয়ে শান্তি আর কিছুতেই নেই। তারা হয়তো জানেনা যে ঐ মুকুটে লেগে আছে কত মানুষের অভিশাপ, দেখা যায় লুটেরাদের প্রতিচ্ছবি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


