দেশে মানবাধিকার যখন ভূলন্ঠিত, দেশের সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখোমুখি, বিচার ব্যাবস্থা যখন ধবংস প্রাপ্ত, সীমাহীন দলীয়করনের ভারে প্রশাষন যখন স্থবির, গোপালী বিবেচনায় শিক্ষাংগনে নিয়োগ পাওয়া পরিমলদের অত্যাচারে স্কুল – কলেজে ধর্ষিতাদের আর্তনাদে বাংলার আকাশ যখন ভারী, বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যখন হয়েছে ছাত্রলীগের অস্রাগার, যখন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে নিঃষেশ করা হয়েছে, একের পর এক সকল রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান গুলোকে ধবংস করে দেশকে অকার্যকর করার সকল আয়োজন যখন সমপন্ন হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতিতে মানুষ যখন দিশেহারা, সংবিধান সংশোধন করে ইসলামকে বিদায় এবং তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে যখন ডিজিটাল বাকশালের উদ্বোধন করা হলো তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী সম্প্রতি ঘোষনা দিয়েছেন যে ‘’ মধ্যপ্রাচ্যের মতো গনঅভ্যুথ্যানের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো হবে।‘’
তিউনিশিয়া এবং মিশরের সফল গনজাগরন দেখেই তিনি যে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এব্যপারে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। বাংলাদেশের দুই নেত্রী যে কি পরিমান পড়া লেখা অথবা রিসার্স করে বক্তৃতা দেন তা দেশবাসী সকলেই কম বেশী অবগত আছেন। তারপর ও তাদের এইসব কথা বার্তা অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে কারন তারাই হলেন আমাদের দেশের নেতা…… আপাততঃ এটাই পরম সত্য।
বাংলাদেশে মিশরের মত গনঅভ্যুথ্যানের স্বপ্ন কতটা বাস্তব তা সময়ই বলে দেবে। তবে ইতিহাস কিন্তু বলে ভিন্ন কথা। মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। এ পার্থক্য ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, এবং এ পার্থক্য শিক্ষার এবং ঐতিহ্যের। হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ – অসহযোগ এগুলো এ উপমহাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। স্বৈরাচারী শক্তির অপসারনে এগুলো আন্দোলনের নিয়ামক শক্তি হিসাবে কাজ করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। বাংলাদেশে ও ক্ষমতার পরিবর্তনে এ হরতাল-অবরোধই সফল হয়েছে বারে বারে। স্বৈরাচার এরশাদের পতন, সংবিধানে তত্বাবধায়ক সরকার সংযোজন, 2001 সালে আওয়ামী দুঃশাষনের অবসান এবং সব শেষে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা হয়েছিল এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই।
বাংলাদেশের সাধারন জনগন দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ইসলামী মুল্যবোধ রক্ষায় যে কোন ত্যাগ স্বীকারে সর্ব্দাই প্রস্তুত। আর এসব ইস্যুতে সরকারের বিতর্কিত কর্মকান্ডে জনগন মুখিয়ে আছে একটা আন্দোলনের জন্য কিন্তু যখন বিরোধীদল এসব ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক দেয়না কোন এক অদৃশ্য শক্তির আহবানে, আবার কারো বাড়ি রক্ষায় দেয়া হয় হরতাল তখন এ আন্দোলনের ব্যার্থতা হয়ে ওঠে অনিবার্য। তবে কি বিরোধীদল গুলোর ব্যার্থতার জন্যই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে মধ্যপ্রাচ্যের মত গনঅভ্যুথ্যানের?
মধ্যপ্রাচ্যের গনঅভ্যুথ্যানের সাফল্য-ব্যার্থতাঃ
তিউনেশিয়া থেকে শুরু হওয়া জনরোষের বাতাসে কেপে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সবগুলো রাষ্ট্র। তিউনেশিয়া এবং মিশরে পতন হয়েছে যুগ যুগ ধরে চলা জুলুম তন্ত্রের। ফেরাউনের দেশে পতন হয়েছে তার উত্তরসূরী হোসনে মুবারকের। তবে তার পতন কিন্ত হঠাৎ করে হয়নি। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের দুঃষাশনে অনিবার্য হয়েউঠেছিল তার পতন। যারা এই গনঅভ্যুথ্যানের পিছনে ভুমিকা রেখেছেন ইখওয়ানুল মুসলিমীন তাদের অন্যতম। মুবারক তার শাষনামলে এই দলের হাজারো নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছিলেন, বিনা বিচারে জেলে পুরে ছিলেন আর করে ছিলেন দেশ ছাড়া। ইসলামী আদর্শে বিশ্বাষী সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দল টিকে এর পরেও নিঃশেষ করে দেয়া যায়নি। একটা সফল বিপ্লবের লক্ষে মানুষে মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। নৈতিকতায় বলিয়ান এক ঝাক তরুন অপেক্ষায় ছিল একটা বিপ্লবের। শুধু তাই নয় তাহরীর স্কয়ারে আগত লক্ষ লক্ষ জনতার উপড় পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের অত্যাচারে প্রায় হাজার খানেক মানুষ শাহাদাত বরন করলেও মুবারকের পতন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একটি বাবের জন্য ও ঘরে ফিরে যায়নি জনতা। তার বিপরীতে আমাদের দেশের জনগনের সচেতনতা আর বিরোধী দলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কম বেশী সবাই সম্যক অবগত।
তিউনেশিয়া এবং মিশরে এ আন্দোলন সফল হলেও সিরিয়া, ইয়েমেন ও বাহরাইনে হাজারো মানুষের রক্ত ঝরলেও মুক্তির দেখা এখনও মেলেনি জনতার, যদিও দেশের ক্ষতি হয়েছে ঢেড়। আরও বড় দুঃসংবাদ হচ্ছে এই গনঅভ্যুথ্যানের সুযোগে পশ্চিমারা ধ্বংস করে দিয়েছে লিবিয়াকে। লিবিয়ার মত সক্ষম একটা রাষ্ট্রকে কৌশলে দখল করে নিচ্ছে ঈংগ-মার্কিনীরা। গাদ্দাফীর দুঃশাষন থেকে বাচতে গিয়ে জনগন আজ আবদ্ধ হয়েছে ভিন দেশী গোলামীতে। কি সর্বনাশ হয়ে গেছে বুঝে উঠার ও যেন ফুসরত নেই আজ।
আজ যখন বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করি তখন কয়েকটি প্রশ্ন বার বার মনে উকি দেয়। তবে কি আমরা আরেকবার বাকশালী শাষন মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি!
দূর্বল বিরোধীদল যখন মধ্যপ্রাচ্যের মত গনঅভ্যুথ্যানের কথা বলে তখন মনে প্রশ্ন জাগে মিশরের মত সফল বিপ্লবের জন্য কয়েক যুগ অপেক্ষা করার প্রস্তুতি নেব? নাকি শক্তিশালী বিরোধীদল বিহীন বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে চলবে বাকশালী শাষন সিরিয়া, ইয়েমেন ও বাহরাইনের মত? নাকি আবার লিবিয়ার মত পরাধিনতার জালে আবদ্ধ হব আরেকবার?
কি আছে তবে বাংলাদেশের কপালে.........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


