somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘’মাষ্টার মাইন্ড’’ অধ্যাপক গোলাম আযমঃ আমিও আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চাই।।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হ্যা, আমি ইসলামী রেনেসা আন্দোলনের মহান নেতা গোলাম আযম সাহেবের হাজারো অপরাধের একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তার বিচারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ট্রাইবুনালে সাক্ষী দিতে চাই। তিনি যে কত বড় অপরাধী আমি তা জানি। আমি আরও জানি তিনি এসব করেছেন জেনে-বুঝে এবং ভেবে-চিন্তে। তিনি অবশ্যই জানতেন এর আগে যারা এ অপরাধ করেছে তাদের কত অপবাদ মোকাবেলা করতে হয়েছিল, তাদের পরিনাম কি হয়েছিল এবং এ কাজের পরিনতি তার জন্য কি হতে পারে তা সচেতনভাবে জেনেই তিনি সামনে অগ্রসর হয়েছেন। তার কারনেই বাংলাদেশ নিয়ে কিছু বামপন্থি রাম বাবুদের সকল পরিকল্পনা জাহান্নামে গিয়েছে। দেশ স্বাধীন হলেও পূর্ন হয়নি শাহরিয়ার কবিরদের মত রাম বাবুদের বদ উদ্দেশ্যগুলো।

স্বাধীনতা পরবর্তি বাংলাদেশে এই অধ্যাপকের হাত ধরেই পূনর্জাগরন হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের। বাতিলের সমস্ত অহংকার চূর্ন করে শহর-গ্রাম-বন্দরে ইসলামের বানী ছড়িয়ে পড়েছে এই ব্যাক্তির নেতৃত্বেই। তার দিক নির্দেশনায়ই আজ ইসলামী আন্দোলন এক মহীরুহে পরিনত হয়েছে। তিনিই হলেন আসল নাটের গুরু।

তার নেতৃত্বে গড়ে তোলা ইসলামী আন্দোলনে আজ তরুনদের জোয়ার লেগেছে। ইসলাম প্রিয়- নীতিবান লক্ষ লক্ষ তরুন-যুবকের সরব উপস্তিতিতে মুখরিত বাংলার জমিনে আজ আযাযীলের ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা। যার নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে সেই শেখের নাতি-নাতনীদেরকেও ফষ্টি-নষ্টি করতে হয় বিদেশের মাটিতে গিয়ে। ইউনিভার্সিটিগুলোতে ইচ্ছা মত ধর্ষনের সেঞ্চুরী করতে পারছে না আমাদের সোনার ছেলেরা আর বালের নেতা-এমপি আর মন্ত্রীদের সুযোগ্য সন্তানেরা। এসবের পিছনের আসল কারিগর এই গোলাম আযমই।

তার গড়া আন্দোলন উপহার দিয়েছে দুইজন দূর্নিতীমুক্ত মন্ত্রী। যেখানে আজকের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়েছিল শেখ সেলিম- নুর আলীরা, দুর্নিতীর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল শেখ হাসিনাকে আর খালেদা জিয়ার তো চৌদ্দেগোষ্ঠী গ্রেফতার হয়েছিল সেখানে নিজামী-মুজাহিদ থাকলেন সব অভিযোগের ঊর্ধ্বে। ইসলামী আন্দোলনের এই সিপাহসালারদের গড়ে তুলতে আযম সাহেবের ভুমিকা ছিল সবার চেয়ে বেশি।

ইসলাম বিরোধী মহল আজ মরন কামড় হানছে আর ভাবছে এই বুঝি নিভে যাবে আলোর প্রদীপ। শাহজালালের এই পবিত্র ভুমি বুঝি আবার দখল করে নেবে গৌরগোবিন্দের অপবিত্র প্রেতাত্বারা। কিন্তু অপবাদের পাহাড় মাড়িয়ে, জেল-জুলুম-হামলা-মামলাসহ সকল বাধা বিপত্তি পেড়িয়ে এ আন্দোলন সম্মুখে চলছে-চলবেই। গোলাম আযম যে আন্দোলনের শুরু করেছেন এই বাংলাদেশে সে আন্দোলন একদিন সফলতার চূরান্ত মঞ্জিলে পৌছবেই ইনশাল্লাহ। চেয়ে দেখ এই চরম প্রতিকূল পরিবেশেও নিত্য দিনই নতুন-নবীনদের আগমনে মুখরিত হচ্ছে আন্দোলন। নৈতিকতায় বলিয়ান এ দলের সেনানীরা আল্লাহর উপর ভরসা করে- জীবনবাজী রেখে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। অধ্যাপক গোলাম আযমের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এ আন্দোলনের পথ চলা…… তিনিই হলেন ‘’মাষ্টার মাইন্ড’’।

ট্রাইব্যুনালের প্রতি আমার আবেদন থাকবে প্লিজ আমাকে একজন সাক্ষি হিসেবে লিপিবদ্ধ করুন… আমার কথাগুলো শুনুন। আমার এই কথাগুলোর মাঝে মিথ্যার কোন লেশমাত্র নেই। আজকের এই ‘’ঘাদানিক’’ ট্রাইব্যুনালে এইসব অভিযোগেই তাকে ফাসির আদেশ দেয়া যেতে পারে। শয়তানী ও তাগুতি শক্তির হাতে যখন ক্ষমতা আসে তখন সত্য পথে চলার অপরাধে আলোর পথের সেনানীদের বিচার হবে না তা তো হতে পারেনা।

আমি জানি ট্রাইব্যুনাল আমাকে সাক্ষি বানাবে না কারন তাদের অবস্থান সত্যের বিপক্ষে এবং মিথ্যার পক্ষে। তারা খুজে বের করবে তাদের মতই গুনাম্বিত সাক্ষিদের, যাদের কেউ হবে খুনি, কেউ হবে চোর, কেউ হবে বউ পিটানো মামলার আসামী, কেউ হবে আম্লীগ আবার কেউ হবে ধর্ষনে সেঞ্চুরীকারী। মিথ্যার বেসাতি ছড়িয়েই ওরা পাড় পেতে চাইবে।
হে গৌরগোবিন্দের উত্তরসূরিরা মনে রেখ আল্লাহর সেই মহান বানীকে…………’’সত্য সমাগত ও মিথ্যা বিতারিত আর মিথ্যার পরাজয় অবশম্ভাবী’’। আর কাজী নজরুলের একটি কবিতার কিছু অংশ দিয়ে শেষ করলাম আজকেঃ

সত্য পথের তীর্থ পথিক ভয় নাহি নাহি ভয়
শান্তি যাদের লক্ষ্য তাদের নাই নাই পরাজয়
অশান্তিকামী ছলনার রুপে জয় পায় মাঝে মাঝে
অবশেষে চির লাঞ্চিত হয় অপমানে আর লাযে।
পথের উর্ধ্বে ওঠে ঝড়-বায়ে পথের আবর্জনা
তাই বলে তারা উর্ধ্বে উঠেছে কেহ কভু ভাবিওনা
উর্ধ্বে যাদের গতি তাহাদের পথে হয় এরা বাধা
পিচ্ছিল করে পথ
তাই বলে জয়ী হয় নাকো কাদা!

ভিডিও লিঙ্কঃ ভয় নাহি নাহি ভয়...
http://www.youtube.com/watch?v=k35ZBMa6GiA

১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×