somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার এক ছোট কালের বন্ধু 01>>>

২১ শে জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট কালে আমরা সবাই মিলে দূরে এক হাই স্কুলে যেতাম। আমরা ছিলাম প্রায় ছয় জন, এদের মধ্যে মিজান নামের আমার একটা বন্ধু ছিল, তার বাবা মারা গেছে সেই ছোট থাকতে । সে নিয়মিত স্কুলে যেত, মিজান ছিল খুব গরিব, তার পড়ার স্থান ছিল মাটি, মানে মাটিতে বিছানা বিছিয়ে সে পড়া লেখা করত। এর পড় ও ওর মনে এতটা দুঃখ নাই। তার নিজের খরচ নিজে বহন করত। মিজান মানুষের ঘরে মজুরি কাজ করত।আমার সবচেয়ে খারাপ লাগত যখন সে আমাদের এখানে কাজ করতে আসত। কি করি তাকে এ বেপারে বলতে ও পারিনা কিছু। তাকে আমি কোন দিন উপকার করতে পারি নাই। কারন কারোর কোন জিনিস সে নিতনা। তার লেখার স্থান ছিল কি জানেন, পিড়ি ছিল তার লেখার স্থান । আমি যখন তার নিকট যাইতাম আমার প্রচুর দুঃখ লাগত। আমার যদি সে সময় সামর্থ থাকত তাহলে আমি তাকে চেয়ার টেবিল কিনে দিতাম। আমিতো তখন ছোট ছিলাম। সে যখন প্রাইভেট পরত, আমি স্যারকে বলতাম যে, স্যার ওতো স্যার কাজ করে টাকা এনে আপনা প্রাইভেটের টাকা দেয়।
স্যার বিশ্বাস করলেন না আমার কথা, আমি স্যারকে একটা কথা বলেছিলাম স্যার যদি আমার কথা বিশ্বাস না হয় আপনার তা হলে আপনি ওর কাধটা একটু চেক করে দেখবেন, স্যার বল্ল কেন , আমি বললাম স্যার ও যে স্যার ধানের আটি কাধে করে আনতে আনতে কাধ টা ফুলে গেছে আপনি সেটা কোদিন একটু দেইখেন স্যার। স্যার ঠিকই একদিন দেখল , স্যার ভাবছিল যে আমি মিথ্যা বলছি। স্যার তার পর থেকে মিজানকে প্রাইভেটের টাকা না দেওয়ার জন্য বল্ল কিন্তু কে কার কথা শোনে দেখা গেছে মিজান আমাদের সবার আগে টাকা দিয়ে দিছে। সে সপ্তাহে দুই দিন কাজ করত বাকি দিন স্কুলে আসত , এই দুই দিনের জন্য স্যারেরা কিছুই বলত না, কারন সব স্যার তার একথা শুনেছে। সব স্যার তার জন্য দোয়া করত । আমি তাকে বলতাম যে মিজান তুই বিনা বেতনে পড়ার জন্য একটা দরখাস্ত কর , তোর বেতন লাগবেনা
সে কি বলত জানেন কারা বিনা বেতনে পড়ে জান, যারা গরীব তারা, তার কথা শুনলে আমার খুব কষ্ট লাগত । যখন আমাদের এস, এস,সি পরীক্ষা তখন তার ফরম ফিলাপের টাকা পয়োজন এক সাথে অনেক টাকা , তখন সে একটু বিপদে পরে গেল , তার বেশি না তিনশত টাকার শর্ট ছিল , আমি বললাম মিজান আমার কাছে টাকা আছে তুই নিয়ে ফরম ফিলাপ কর, অনেক জোড় করে আমি তাকে সে দিন টাকা টা দিয়ে ছিলাম। আমার যে তখন কি ভাল লাগছিল । তার যখন চার দিন পর ষে আমার তিনশত টাকা ফেরত দিতে আসল তখন আমার ছোখে পানি এসে গেল, বললাম যে মিজান আমার কাছে টাকা আছে তুই টাকাটা রাখ, পড়ে এক সময় দিস, কে কার কাথা শুনে।
বাকিটা পরে পোষ্ট করব......
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:৫৪
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×