somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিবহণ সন্ত্রাস

০৭ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক'দিন আগে সকাল বেলা আম্মাকে নিয়ে বার হলাম গুলশান ল্যাব এইডে আসব বলে। আম্মার কিছু ডাক্তারী পরী ক্ষা করানো দরকার ছিলো। বাসা থেকে বার হয়ে সি.এন.জি. স্কুটারগুলোকে জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু তারা গুলশান যেতে যাইল না। খানিকটা হেঁটে সামনে এসে সি.এন.জি ছাড়াও হলুদ/কালো/নীল ক্যাবগুলোকে জিজ্ঞেস করলে তারাও অসম্মতি জানাল। ভাবলাম রিকসা নিয়ে মিরপুর-10 এর দিকে যাই, পথে হয়ত পেয়েও যেতে পারি। যেতে যেতে আমার মেজাজটা প্রতি সেকেন্ডে তিরিক্ষি হতে থাকল। মাঝ পথে রিকসা থামিয়ে জিজ্ঞেস করেও লাভ হলো না। মিরপুর-10 আসার একটু আগে আগে একটা হলুদ ক্যাবওয়ালা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে আবদার করল যে, তাকে বিশ টাকা বেশী দিতে হবে।

এ রকম আবদার আমাদের দেখে নতুন নয়। উপায় না দেখে এসব আবদার রক্ষাও করে থাকি, কিন্তু তখন মাথা গরম আমার। ইচ্ছে হচ্ছিল সব ক্যাব ড্রাইভারদের কষে দু'টা চটকানা মারি আর ক্যাব স্কুটারগুলো উল্টে, ভেঁঙ্গে দেই (ছেলে হলে এতদিনে সত্যি সত্যিই করে ফেলতাম)। মিরপুর-10 এ এসেও ক্যাব/ট্যাক্সি কোনটাই গুলশানে আসতে চাইল না। ভাবলাম আবার রিকশা করে ক্যান্টটমেন্ট দিয়ে যেতে যেতে পেয়ে যাব। মিরপুর-14 তে এসেও লাভ হলোনা। মিশুকে চড়া হয়না অনেক দিন, ইচ্ছে করেই। মিশুকওয়ালা সেটারই প্রতিশোধ নিল কি না কে জানে, রাজি হলো না। ক্যান্টনমেন্ট এরিয়ার শেষ পর্যনত্দ রিকশাযোগে এসে রাসত্দা পার হয়ে বনানীতে প্রবেশ করে ওখান থেকে 30 টাকা ভাড়ায় ল্যাব এইড আসলাম শেষ পর্যন্ত।

এত লম্বা গল্পের কারণ হলো আমার কাছে মনে হয় আমাদের দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা যাত্রীদের পুরোপুরি জিম্মি করে রেখেছে। নূন্যতম যাত্রী সেবা টুকুও নেই। বাহির্বিশ্বে ক্যাবে উঠে চালককে গনত্দব্য এলাকার নাম বললেই যাত্রা শুরু হয়। আর আমাদের এখানে জিজ্ঞেস করতে হয়, এমুক জায়গায় যাবেন কি না। যদি তাদের মর্জি হয় তো ভাল কথা নয়তো যাত্রীরাই আজকাল 10/20 টাকা বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলেই ফেলে নিজে থেকে।

আমাদের দেশের বাসগুলোর যে আকৃতি, ভেতরে সিটগুলো এতো চাপাচাপি যে ভালভাবে যাওয়ার উপায় নেই। শীতাতপ বাসের প্রচলন নিত্যদিনের রূটে কেন সম্ভব নয় তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। কোন সরকারের সুনজর এই পরিবহণ ব্যবস্থার উপর ছিলনা। তাই দিন দিন এর অবনতিই হয়েছে। অনেক বারই সরকার ও পরিবহণ মালিক সমিতির আলোচনা হয়েছে। আর ফলাফল হিসেবে শুধু ভাড়াই বেড়েছে, যাত্রী সেবা বাড়েনি এতটুকুও। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও এখনো তার ব্যতিক্রম কিছু দেখলাম না।

মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে খাদ্যের মান যাচাই হচ্ছে, সোনার গহনার খাদ যাচাই হচ্ছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না তাও দেখা হচ্ছে, কিন্তু যাত্রীরা যে এভাবে হয়রানির শিকার সেটা সবাই বুঝেও না বোঝার ভান করে আছে বলে মনে হচ্ছে। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কিংবা দূর্ণীতি সংক্রানত্দ ব্যপারে আজকাল অভিযোগ বাক্স রাখা হয়েছে। কিন্তু এই যে যাত্রীরা পরিবহণ ব্যবস্থার কাছে জিম্মি হয়ে আছে সেই অভিযোগ কোথায় করব? মিটার লাগানোর পরও এই- সেই অযুহাতে 10/20 টাকা বেশী দিতে হয় ক্যাব চালকদের। আমরা আসলেই মগের মূল্লুকে আছি। এদেশে থাকতে হলে যদি নিজের বাড়ী -গাড়ী থাকে তবেই হয়তো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যনত্দ এরকম উটকো ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে সবাই অনেক আশা নিয়ে আছে। এই সরকার কি পরিবহণ ব্যবস্থাটাকে সহনশীল পর্যায়ে নিতে পারবে? নূন্যতম যাত্রীসেবা নিশ্চয়তা চাই আমরা। অনেক রকম দূর্ণীতি, সন্ত্রাসের পাশাপাশি এই সেক্টরও দূর্ণীতিগ্রস্থ। আমরা এই পরিবহণ সন্ত্রাস থেকে রেহাই চাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাউ টাকার গল্প

লিখেছেন এস আই জয়, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

সময় ২০১৪ সাল...

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×