somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কনোকো-ফিলিপস এর 'পেটে' চলেছে স্বদেশ!

২৯ শে জুন, ২০১১ রাত ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খাল কেটে কুমীর আনার প্রবাদ তো শুনেছি সবাই, এবার দেখছিও। খাল কেটে (পিএসসি মডেল) কুমীর (কনকো-ফিলিপস) ডেকে এনে রাষ্ট্রীয় ভাবে কার্নিভাল (চুক্তি সই) উৎসব হয়ে গেল গত ১৬ই জুন দুপুরে।

একটা সময় জোতদাররা নিজেরা জমি কর্ষন না করে বর্গা দিত কৃষকদের। সে সময় শ্রম বিকিয়ে দিত গরিব বর্গা চাষীরা, আর রক্ত শুষে নিত শোষক জমিদাররা। আজ উল্টোচিত্র চোখে পড়ছে! জমিদারদের (রাষ্ট্র) দুর্দিন বড়! সরকার রাষ্ট্রকে বিকিয়ে দিচ্ছে! বর্গা চাষীরাই (কনকো-ফিলিপস) বুঝি হর্তাকর্তা!

রূপকের আড়ালে কনকো-ফিলিপসকে নিয়ে এতো মাথা ঘামানো হচ্ছে কেন?

পিএসসি চুক্তি সম্পাদিত হয়ে রাষ্ট্র ও কনকো-ফিলিপস (যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক তেল প্রতিষ্ঠান) এর মধ্যে, তাই।

কনকো-ফিলিপস আমাদের কাছে বিতর্কিত কেন?

আমরা কেন সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেতে প্রস্তুত?

এর কারণ –

প্রথমত, পিএসসি চুক্তি দেশিয় স্বার্থ বিরোধী
দ্বিতীয়ত, চুক্তির শর্তাবলিতে প্রাপ্ত অসংগতি
তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজের মতামতকে ক্রমাগত উপেক্ষার রাজনীতি

পিএসসি চুক্তি কী করে দেশিয় স্বার্থ বিরোধী?

আন্দোলনকারী ও বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করছেন,

- এই চুক্তি দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলবে
- এই চুক্তি দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিনষ্ট করবে
- রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে অর্থনৈতিক দিকে দিয়ে লাভবান হবে না
- বিদেশি বণিকদের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দিয়ে দেশিয় বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও দক্ষ কর্মী তৈরীতে উদ্যোগহীনতা ও অব্যবস্থাপনা জিইয়ে রাখা হবে
- দেশিয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স, পেট্রোবাংলাকে দুর্বল করে দেয়া হচ্ছে, হবে

চুক্তির শর্তাবলিতে প্রাপ্ত অসংগতিগুলো কী কী?

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় আসা ধারাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়,

চুক্তির ১৫.১, ১৫.২ ও ১৫.৩ ধারা: এই ধারা অনুযায়ী, ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান যদি এই পরিমাণ তেল/গ্যাস আবিস্কার করে যা বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক তবে তা পেট্রোবাংলাকে বিনা মূল্যে প্রস্তাব করা হবে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলা নিজ খরচে তেল-গ্যাস নিজ খরচে উত্তোলন ও ব্যবহারোপযোগী করবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, কি পরিমাণ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রাপ্ত হলে তা ইজারাপ্রাপ্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য অলাভজনক হয় সে রকম কোন ধারনা চুক্তিতে রাখা আছে কি?

যেহেতু সরকার বলছে, আমরা ’সামর্থ্যহীন’ তাহলে এই পরিস্থিতিতে অর্থ্যাৎ ইজারা লাভকারীদের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এই অলাভজনক তেল-গ্যাসকে উত্তোলন-পরিবহন আমাদের জন্য অলাভজনক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে কি? যদি থাকে সেক্ষেত্রে কি কনোকো-ফিলিপসকেই এই গ্যাস উপঢৌকন হিসেবে দেয়া হবে?

চুক্তির ১৫.৪ ধারা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারার মূল বক্তব্যটি যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়। এখানে ইজারাদার জন্য প্রতিটি গ্যাস ক্ষেত্রে প্রাপ্ত গ্যাসের ৭.৫% উত্তোলন করতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের যুক্তি হচ্ছে, যত কম করে গ্যাস উত্তোলিত হবে, তত বেশিদিন গ্যাস ক্ষেত্রটি রাখা যাবে। এখানে আশংকার অংশটি হচ্ছে, যদি ২৫% বা এর বেশি গ্যাস উত্তোলিত হতো তবে চার বছরেই মজুদ শেষ হয়ে যাবে। অথবা উত্তোলিত গ্যাস দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে ৭.৫% সমর্থনযোগ্য। কিন্তু চুক্তির এই ধারাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে এর সাথে তৃতীয় বন্ধনীতে জুড়ে দেয়া আরেকটি শর্ত, যেখানে বলা আছে,

‘বি : দ্র : অফসোর ব্লকের ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলার সম্মতিক্রমে শতকরা সাড়ে সাত ভাগের চেয়েও বেশী গ্যাস উত্তোলন করা যাবে’

আশংকা করা যায়, এই শিথিলতা গ্যাস রপ্তানিকে প্রশ্রয় দেবে। একই সাথে প্রশ্ন করা যেতে পারে, ঘোলাটে এই অংশে সাড়ে সাত ভাগের চেয়েও বেশি বলতে সর্ব্বোচ্চ কত বেশি গ্যাস উত্তোলন করার অনুমতি দিচ্ছে এই চুক্তি?

চুক্তির ১০.২৭ ধারা: জানা গেছে চুক্তির এই ধারায় ক্ষতিপূরণের কথা উল্লেখ ছিল। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ''অদক্ষতা, অযত্ন ও অবহেলা''র কারণে ঘটা দুর্ঘটনায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এই ধারা থেকে 'অদক্ষতা' শব্দটি সুকৌশলে বাদ রাখা হয়েছে বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৌলভীবাজার গ্যাসফিল্ডের মাগুরছড়া ও টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের দুর্ঘটনা পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ আদায়ে সরকারি উদ্যোগহীনতা ও ব্যর্থতা নিয়ে চুক্তি বিরোধী আন্দোলনকারীরা বারবার প্রতিবাদ করে আসছিল।
অবশেষে নাইকোর স্বীকারোক্তিতে তৎকালীন মন্ত্রী মোশাররফের ঘুষ গ্রহণ বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খোদ নাইকোকে বিব্রত করছে। এর প্রেক্ষিতে কনোকো-ফিলিপস কোন দুর্ঘটনা ঘটালে চুক্তি মোতাবেক ক্ষতিপূরণ আদায়ে সরকারের তৎপরতার ইচ্ছা ও চুক্তি অনুযায়ি সুযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বিশেষজ্ঞরা।

চুক্তির ১৫.৫.৪ ধারা: এই ধারা থেকে দেখা যায় বাংলাদেশ মোট প্রাপ্ত গ্যাসের ২০% (এর বেশি নয় কোনমতেই) এর মালিকানা পাবে, ৮০% নিশ্চিতভাবেই কনকো-ফিলিপস এর জন্য। বাংলাদেশেকে ১৭৫ মাইল দূরের গ্যাসক্ষেত্র পর্যন্ত পাইপলাইন বসিয়ে গ্যাস পরিবহনের দ্বায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা এখানে চুক্তির অসাড়তা খুঁজে পেয়েছেন। হিসেব মতে, ২০% গ্যাস পরিবহনের জন্য পাইপলাইন তৈরীতে সম্ভাব্য খরচ হবে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার, যা কনকো-ফিলিপস এর প্রারম্ভিক বিনিয়োগ ১১০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে তিনগুণ বেশি।
আশংকা হচ্ছে, এই ২০% গ্যাসও দেশে আসবে না, বরং কনকো-ফিলিপসই একে বিক্রি/রপ্তানি করবে। ফলশ্রুতিতে এই চুক্তি ১০০% গ্যাসই কনকো-ফিলিপস এর হাতে তুলে দিচ্ছে।

নাগরিক সমাজের মতামতকে ক্রমাগত উপেক্ষার রাজনীতি

পিএসসি-২০০৮ বাতিল করণে ২০১০ সালের নভেম্বর, ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন কর্মসূচী নেয়া হয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে। এর মধ্যে কয়লানীতি বিষয়ক মতামতও সরকারের কাছে পেশ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর পরেও বড় পুকুরিয়াতে সরকারি বিভিন্ন তৎপরতা ও পিএসপি-২০০৮ চুক্তি নিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

চুক্তি নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ কেবল দেশেই হয়নি, ২০০৯ সালে পূর্ব লন্ডনেও কনকো-ফিলিপসের সাথে তেল-গ্যাস ইজারা চুক্তি বিরোধী সমাবেশ হয়েছিল।

বিভিন্ন কর্মসূচী প্রদানের মাধ্যে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ বিদেশিদের হাতে উন্মুক্ত ও রপ্তানি করার বিপক্ষে ক্রমাগতভাবে সচেতন নাগরিক শ্রেনী একজোট হয়ে আসলেও, বরাবরই তাদের বক্তব্য সরকারি মহলে উপেক্ষিত থেকে গেছে এমনকি তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকারও হয়েছে।

সচেতন নাগরিকদের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারই নয় বিগত জামাত-বিএনপি সরকারও জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কয়লা ক্ষেত্র এশিয়া এনার্জি নামের একটি কোম্পানীর হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেছিলো।

সরকারের গদিকে যে কোন ইস্যুতে টলায়মান করতে বদ্ধপরিকর বিরোধীদল চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পরও এমন জাতীয় একটি ইস্যু নিয়ে বিশেষ কোন উচ্চবাচ্য তো করেইনি বরং সাম্প্রতিককালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,

“সরকার গ্যাস উত্তোলনের জন্য কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে তা যদি দেশের স্বার্থবিরোধী হয় বিএনপি অবশ্যই এর প্রতিবাদ করবে।”


মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের ’যদি’র উপস্থিতিতে সচেতন নাগরিক মহলের উপলব্ধি- প্রকাশ্যে বলা-কাওয়া না হলেও তেল ও গ্যাস বিক্রিতে দুই দলই বস্তুত একমত!

ব্লগার নাহুয়াল মিথ এর একটি মন্তব্য থেকে জানা যায়,

গত ২১ ডিসেম্বর ২০১০ উইকিলিকসের মার্কিন তথ্য ফাঁসে জানা যায় বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদুত জেমস মরিয়ার্টি দেশপ্রেমিক মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহীর সাথে একান্ত সাক্ষাতে এদেশের তেল-গ্যাস বিষয়ে সরকারের মনোভাব জানতে চান এবং দ্রুত চুক্তি করার পরামর্শ দেন ।
মার্কিন কোম্পানি কনোকোফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন অনুষ্টানে তারা দু’জনই উপস্থিত ছিলেন (!)


দূর্ঘটনা ও পরিবেশ বিপর্যয়: কনোকো-ফিলিপসকে নিয়ে অভিযোগ ও আশংকার প্রেক্ষাপট

যদিও বর্তমান চুক্তি মোতাবেক, কনকো ব্লক-১০ ও ১১-এর অবিতর্কিত এলাকায় অনুসন্ধান চালাবে, কিন্তু প্রথম দফা আলোচনায় কনকো ২২টি অফসোর ব্লকের আটটি চেয়েছিল।অবশ্য শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তাদের এই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি।

তেল উত্তোলনের যৌথ প্রজেক্টে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ ও কনকো-ফিলিপস এর আলোচনা ব্যর্থ হলে ২০০৭ সালে ভেনিজুয়েলা কনকো-ফিলিপস এর সাথে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর বাতিল করে অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে। এই সময় নিউ ইয়র্ক শেয়ার বাজারে কনকো-ফিলিপস পড়তির দিকে ছিল।

চলতি বছরের মার্চ মাসে কনকো-ফিলিপস লিবিয়া থেকে তাদের পুরো কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। লিবিয়ায় বিরাজমান অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষিতে গাদ্দাফির সিদ্ধান্ত নির্দেশ/সিদ্ধান্ত মোতাবেক তেল উৎপাদন স্থগিত করে।

হুগো শ্যাভেজকে চুক্তিতে রাষ্ট্রিয় পক্ষকে প্রাধান্য দিতে দেখা গেছে, অপরদিকে জনরোষের মুখে পতিত গাদ্দাফিকে দেখা গেছে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাধান্য দিতে। ফলশ্রুতিতে তেল উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত।

অথচ অত্যন্ত দু:খজনক, আমাদের সরকার রাষ্ট্রিয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে একটি নতজানু চুক্তি রক্ষার্থে ব্যতিব্যস্ত!

এছাড়াও ২০১০ সালে আবুধাবি শাহ -এর মত বিশাল বাজেটের প্রজেক্ট থেকেও নাটকীয়ভাবে সরে এসেছিল কনকো-ফিলিপস, যার কারণ তারা খোলাসা করেনি।

২০০২ সালের পূর্বে কনকো ও ফিলিপস দু’টি পৃথক প্রতিষ্ঠান ছিল, এবং আলাদাভাবে এ দু’টি প্রতিষ্ঠানেরই দুর্ঘটনা ঘটানোর ইতিহাস পাওয়া গেছে।

১৯৭৭ সালে নর্থ সি'র একোফিসক ব্রাভো প্লাটফর্মে ব্লো আউট ঘটেছিল। এই প্রজেক্টটি ছিল ফিলিপস পেট্রোলিয়াম এর দ্বায়িত্বে। এই দুর্ঘটনাকে এখন পর্যন্ত নর্থ সি’র সর্ব বৃহৎ ব্লো আউট গন্য করা হয়।

অপরদিকে ১৯৯৩ সালে কনকো প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট লুইজিয়ানাতেও ব্লো আউট ঘটে।

এছাড়াও ২০০৪, ২০০৬, ২০০৮ বছরগুলোর বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আলাস্কায় বিভিন্ন পরিবেশ বিপর্যয়কারী আচরণ করে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, ২০০৭ থেকে ২০১০ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অকুপেশনাল সেফটি এন্ড হেলথ এডমিনিষ্ট্রেশান (ওএসএইচএ ) প্রেরিত ১১৮টি নোটিশ প্রাপ্ত হয় কনকো-ফিলিপস, যার কারণ ছিল পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা ভঙ্গ করা।

এসব কারণে কনকো-ফিলিপসকে ’দুর্ঘটনার রাজা’ বলে আখ্যায়িত করছে দেশিয় বিশেষজ্ঞরা।

আমাদের ঘাটতি

আন্দোলনকারীরা যে পেট্রোবাংলাকে গ্যাস উত্তোলনের সাথে যুক্ত রাখতে সরকারের প্রতি বারংবার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, চুক্তির আসরে বসে সেই পেট্রোবাংলা বিরস বদনে বলছে?

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বলেন,

আমাদের সেই মানের উন্নত প্রযুক্তি বা অর্থ সংগতি নেই যে নিজেরাই অনুসন্ধান চালাবো। কাজেই একটি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করাটাই সব দিক থেকে সুবিধাজনক।

তাহলে আমাদের দিক থেকে কমতি হচ্ছে,

১. উন্নত প্রযুক্তি
২. অর্থ সংগতি


যে গুরুত্বপূর্ণ কমতিটি উহ্য রাখা হচ্ছে, তা হলো,

১. সদিচ্ছা
২. স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা


উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি এবং বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনার জন্য আরো একটা আবশ্যিক চাহিদা রয়েছে,

দক্ষ জনবল

পরিকল্পনায় যেমন দক্ষ লোকবল দরকার, তেমনি পরিকল্পনাকারীরা দক্ষ লোকবল তথা শ্রমশক্তি গড়ে তোলার কাজই করবেন।

তাহলে প্রশ্ন,

১. চাহিদানুযায়ী শ্রমশক্তি গড়ে তোলার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন? হচ্ছে না কেন? হবে কি?

২. উন্নত প্রযুক্তি, লোকবল ইত্যাদিতে আর্থিক বিনিয়োগ অব্শ্যই জরুরী। সেটা কী রকম? সরকার কতটা অসমর্থ? কতটা ঘাটতি পড়ে এইখানে?

৩. যদি সেতু, সড়ক, কনভেনশন সেন্টার ঋণ নিয়ে করা যায়, যৌথ উদ্যোগে করা যায় সেক্ষেত্রে তেল-গ্যান অনুসন্ধান, উত্তোলন, উৎপাদনে আমাদের নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য আর্থিক সহায়তা নিয়েও তো কাজ করা যায়। সেটা করা হচ্ছে না কেন?

৪. বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বড় জোর কনসালটেন্ট.সুপারভাইজার রাখা যায়, এই উদ্দেশ্যে যে মূল কাজ আমরাই করবো, বিদেশিরা আমাদের প্রয়োজনিয় প্রশিক্ষণ দেবে দক্ষতা অর্জনে। এরকম পদক্ষেপ কেন নেয়া হচ্ছে না?

একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই গ্যাস পরিবহন করা আর্থিকভাবে আমাদের জন্য লাভজনক নয়, ফলে রপ্তানি করার সুযোগ করে দেয়া হবে।

এই অংশটুকু নিয়ে বিস্তারিত জানার অবকাশ থাকে।

১. নিজ দেশে নিয়ে আসলে লাভজনক হচ্ছে না, কিন্তু বিদেশে রপ্তানি তাহলে লাভ হয় কি করে?

২. যে গ্যাস ব্লক থেকে নিজ দেশে গ্যাস নিয়ে আসলে লাভ করা সম্ভব নয়, সেই গ্যাস ব্লক চুক্তি করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার কী দরকার?

৩. আগামীতে আমরা যদি আরো তেল-গ্যাস খনিজ সন্ধান লাভ করি দেশের অভ্যন্তরে, সেগুলোও কি চুক্তি করেই ছেড়ে দেব, নাকি নিজেরা তদারকি করার মত প্রযুক্তিগত ও দক্ষ লোকবল গড়ে তোলার ব্যবস্থা নেয়া শুরু করব এখন থেকেই?

আমাদের করণীয়

তেল-গ্যাস-কয়লা খনিজ সম্পদে আমরা সমৃদ্ধ হতে যাচ্ছি এই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল বহু বছর আগে। একজন বিচক্ষণ সরকারের তখন থেকেই খনিজ অনুসন্ধান-উত্তোলন-পরিবহন-বিপণন/বিতরণের জন্য অভ্যন্তরীণ কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ ছিল অত্যাবশ্যকীয়। এ ব্যর্থতার জন্য কোন আফসোস করতে দেখা যায়নি সরকারকে, বরং এই ব্যর্থতাকেই ব্যবহার করে চুক্তি হয়েছে। চুক্তির সপক্ষে বলতে গিয়ে বারবার বলা হয়েছে, আমাদের দক্ষতা নেই! আমাদের বিনিয়োগ সামর্থ নেই! অথচ আমাদের যেটুকু ঘাটতি তা আসলে রাজনৈতিক দোষে দুষ্ট। আমাদের ইচ্ছাকৃতভাবেই পঙ্গু করে রাখা হয়েছে।

স্পষ্টভাবে মনে না পড়লেও, খেয়াল হচ্ছে টিভি খবরে কোন এক বিশেষজ্ঞ বলছিলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরণের কর্মী গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা কারিকুলাম নেই।

তার মানে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও ভঙ্গুর হয়ে আছে আজো! সহকর্মীর সাথে হালকা আলাপ হচ্ছিল, কি ধরণের কারিকুলাম, ডিগ্রী প্রয়োজন এর জন্য? আন্দাজ করা গেল কারিগরি দিকের জন্য কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং মুখ্য এই সেক্টরে । বুয়েট, রুয়েট, চুয়েটের মত বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরণের অনুষদ রয়েছে। চুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি ডিপার্টমেন্ট দেখা গেছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে আমরা আদতে ততটা ফাঁপা নই। তেল-গ্যাস-কয়লা খনিজ সম্পদ যে দেশে একটি বিশাল কর্মক্ষেত্র সৃস্টি করেছে তা প্রচার গত দিক দিয়ে বরাবর নীরব ছিল। এই কর্মক্ষেত্র পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বানের অভাব ছিল। যার ফলশ্রুতিতে এখন ’নাই নাই’ রব।

দুর্বল করে রাখা শিক্ষা ক্ষেত্রের এই অংশটির প্রতি বিশেষজ্ঞদের নজর দিতে হবে এবং একে সরব করার আন্দোলনও একই সাথে শুরু করতে হবে। তা না হলে আগামীর জন্য কোন প্রস্তুতিই থাকবে না আমাদের!


গুঞ্জরিত আন্দোলন; ফুঁসে ওঠা আন্দোলন

আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত হয় ১৯৯৮ সালে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে ২০০২ সালে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় তেল গ্যাস সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

এখন পর্যন্ত এ কমিটি বহুমুখী জাতীয় স্বার্থে বহুমুখী কর্মসূচী পালন করেছে। লং মার্চ, পুস্তিকা প্রকাশ, মত বিনিময়, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা, হরতাল পালন উল্লেখযোগ্য।

তারপরও সাধারণ পর্যায়ের মানুষের সাথে এমন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে বুঝে ওঠার ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা কাজ করছে। এই প্রেক্ষিতে কমিটি থেকে অথবা সচেতন নাগরিক মহলের উদ্যোগে গণস্বাক্ষর গ্রহণ কার্যক্রম চালালে বিষয়টি নাগরিকদের কাছে আরো সহজে পৌঁছে যেতে পারতো।

অধুনা ইন্টারনেট বিপ্লবের একটি অন্যতম হাতিয়ার। ইন্টারনেটে তেল-গ্যাস নিয়ে নাগরিক যুথবদ্ধ সচেতনতা ইতিপূর্বে কম দেখা গেলেও হালেও প্রচার-প্রচারণায় ফেসবুক ও ব্লগ এখন সরব!

ফেসবুকে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির একটি পাতা রয়েছে। প্রচার তৎপরতার অভাবে ২০শে জুন পর্যন্তও এতে মাত্র ১১০টি লাইক দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই পাতায় দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর থেকে লাইকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন তা ৫০০+! কিন্তু এই সংখ্যাটি খুব কি আশাব্যঞ্জক?

২৩শে জুন গ্লোবাল ভয়েসেস এর খবরে প্রকাশ, মালয়শিয়ায় পর্যটন মন্ত্রনালয় পর্যটনের প্রচারণার জন্য ফেসবুকের ছয়টি পাতা তৈরিতে ১.৮ মিলিয়ন মালয়েশীয় রিঙ্গিত ( ৫৯৪, ০০০ মার্কিন ডলার) খরচ করেছে।এর প্রতিবাদে ফেসবুকে পাতা খোলা হয় ক্ষুদ্ধ নাগরিকদের পক্ষ থেকে। জানিয়ে রাখি এই পাতাটির লাইক সংখ্যা ১২৯,৪০১+ !!!

আমরা তো আজকাল কথায় কথায় আলাপ করি তিউনিসিয়া-মিশরের ফেসবুক-টুইটার বিপ্লব নিয়ে, কিন্তু আমরা নিজেরা তেমন একটা বিপ্লব করতে পারছিনা কেন?

>>> ফেসবুকে ফেসবুকে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পাতাটিতে লাইক সংখ্যা হাজার না পেরোনো কে কি আমাদের ব্যর্থতা বলবো?

কনকো-ফিলিপস এরও একটি ফেসবুক পাতা আছে। এই পাতাটি আমরা ক’জন দেখেছি?

>>> একটা প্রস্তাব থাকলো নেটিজেনদের জন্য, এই পাতায় কনকো-ফিলিপস এর পক্ষ থেকে চুক্তির ধারা তৈরীতে আবদার, প্রস্তাব ইত্যাদি নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকুন। আপনি বাংলায় প্রশ্ন করতে পারেন অথবা ইংরেজিতেও। তবে বাংলা ভাষাকে আরেকবার প্রতিবাদের রূপ দিতে পারেন আপনি চাইলেই।

এই পাতায় আপনার একেকটি মন্তব্য কনকো-ফিলিপসকে বিব্রত করবে। তাতে সরকারও বিব্রত হবে। এবং এতে চুক্তিও বিব্রত হবে। এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চুক্তি নিয়ে জনগণের নাখোশ মনোভাব সহজেই আলোচিত হবে।

>>> বাংলায় ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এই বিপ্লব সাধন করতে পারবেন না?

নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া

আন্দোলন, কমিটির সিদ্ধান্ত, সরকারি মনোভাব ইত্যাদি নিয়ে আন্তর্জাল জুড়ে বিভিন্ন মতামত দেখা গেছে।

হারুন বলেছেন:
রাত্রি ১১.৪৮ মিনিট , রবিবার ১৯ জুন ২০১১
হরতাল দিয়ে কোন সমস্যার সমাধান হয়না। এদেশের একমাত্র গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানী বাপেক্সকে কোন সরকার শক্তিশালী করার উদ্দোগ নেয়নি। অথচ দুর্নিতির কারনে উন্নয়ন বাজেটের কোটি কোটি টাকা অপব্যয় হচ্ছে। রাজনীতিবিদ ও আমলারা কখোনো চায়না বাপেক্স শক্তিশালী হোক। রাজনীতিবিদদের চেয়ে আমলারা বেশি দায়ী কারন তারা সবকিছু বোঝে কিন্তু রাজনীতিবিদদের ভুল বোঝায়। মার্চে রশিদপুর গ্যাস ক্ষেত্র থ্রীডি সাইসমিক সার্ভে সফল ভাবে করে এদেশের প্রকৌশলীরা প্রমান করেছে যে যথাযথ প্রশিক্ষন এবং সুযোগসুবিধা পেলে তারা অনেককিছু করতে পারে। প্রয়োজন দেশপ্রেম আর দৃষ্ঠিভঙ্গীর পরিবর্তন। এদেশের অনেক মেধাবী পেশাজীবি দেশের বাইরে সাফল্যের সাথে কাজ করছেন প্রয়োজনে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে। জ্বালানী সংকট বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকট আকার ধারন করেছে। গভীর সমুদ্রে তৈল, গ্যাস অনুসন্ধানের মত প্রযুক্তি ও জনবল কোনটায় আমাদের নেই এমতাবস্থায় সমস্যার সমাধান কি তা ভাবা প্রয়োজন। শুধু গ্যাসের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর দিকে দৃষ্ঠি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছি।

তানজীব বলেছেন:
রাত্রি ১০.০৬ মিনিট , রবিবার ১৯ জুন ২০১১
>>> আমি একটা প্রস্তাব রাখি। সেটা হল সর্বপ্রথমে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গনসংযোগ করা। সেখানে হরতাল না করি কমপক্ষে একটা বিক্ষোভ মিছিল তো করতে পারি। আর ব্যাপারে ছাত্ররা অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে পারে তার জন্য বলছিলাম কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গনসংযোগ করতে। আর একভাবে একটা শুরু করুন আশা রাখি সফলতা আসবে। আজকে পেপারে দেখলাম স্থানীয় জনগনের বিক্ষোভের মুখে তামাবিলে ভারতকে জমি দেয়া থেকে সরে এসেছে প্রশাসন।

সত্যভাষী বলেছেন:
রাত্রি ৮.৪৬ মিনিট , বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০১১
আমি এ হরতালকে সমর্থন করি। কিন্তু এর সাথে সাথে বিষয়টি নিয়ে আদালতে গেলে ভাল হত। কারন আদালত এ ব্যাপারে ষ্টে অর্ডার দিতে পারে। পরে অবশ্যই চুক্তির বিষয়গুলো পূর্নাঙ্গভাবে বিশ্লেষন করার পথ তৈরী হত। আমার মাথায় আসেনা কেন মিঃ আনু মোহাম্মদ আদালতে যাচ্ছেন না ? এখানে কি রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা হচ্ছেনা তো ? বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার। তবে দেশের স্বার্থবিরোধী কোন চুক্তিকেই আমি সমর্থন করিনা বা করব না। তাই আপত দৃষ্টিতে হরতালকে সমর্থন করছি।

অন্যদিকে ফরহাদ মজহার আন্দোলন ও চুক্তি বিষয়ে জাতীয় কমিটির পদক্ষেপ নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ, প্রশ্ন ও পরামর্শ উত্থাপন করেছেন,

দুই একটি প্রশ্ন রেখে লেখা শেষ করা যাক। গরিব ও খেটে খাওয়া শ্রেণীর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে যারা এই আন্দোলনে সক্রিয় তাদের কয়েকটি বিষয় ভেবে দেখতে বলি।

প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, তেল-গ্যাস রক্ষার লড়াই যদি ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষার লড়াই হয়ে থাকে তাহলে এতো দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রামের পরেও এই আন্দোলন ‘জাতীয় চরিত্র” অর্জন করতে পারছে না কেন? এই আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতা এই প্রশ্ন তোলার মধ্য দিয়ে বের হয়ে আসবে বলে আমার ধারণা।

দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম না হলেও এটা মনে করার কোন কারণ নাই যে বাংলাদেশের ধনী ও উচ্চবিত্ত শ্রেণী বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে তাদের শ্রেণিস্বার্থ নিহিত রয়েছে– এই সত্য বুঝতে একদমই অক্ষম। এই তেল-গ্যাস রক্ষার আন্দোলনের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী চরিত্র আছে, কিন্তু সে চরিত্র বাংলাদেশে গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার স্বার্থে। যদি আসলেই এই আন্দোলন জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন হয়ে থাকে তাহলে এই শ্রেণীর কাছ থেকে সমর্থন আদায়ের কৌশল কী হবে?

তৃতীয়ত, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তার উপকার সরাসরি শ্রমিক, কৃষক ও গরিব জনগোষ্ঠি ভোগ করবে না। বরং সরাসরি ভোগ করবে শিল্প-কলকারখানার মালিক, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের মালিক, যানবাহনের মালিকসহ উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপরের অংশ। বলাবাহুল্য এর পরোক্ষ ফল ভোগ করবে নিম্নবিত্ত, শ্রমিক, কৃষক ও অন্যান্য খেটে খাওয়া মানুষ। এই আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং যারা মাঠে সক্রিয় তারা মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে আসা। তারা নিজেদের ‘বাম” বা ‘প্রগতিশীল” ভাবতে ভালবাসেন। তাহলে তাদের প্রশ্ন করতে হবে শ্রেণিস্বার্থ এবং জাতীয় স্বার্থের মধ্যে মিল এবং দ্বন্দ্বগুলো কী?

প্রশ্নগুলো খোলা মনে তাদের বিচার করার দরকার আছে।


মতামতে দৃষ্টিভঙ্গিতে যার যার বিশ্লেষণী স্বতন্ত্রতা থাকলেও একটি বিষয়ে সবাই এক বাক্যে একমত, এই চুক্তি প্রত্যাহার করা জরুরী। তেল-গ্যাস-কয়লা বিদেশি বণিকদের হাতে তুলে দিতে রাজি নয় দেশের জনগণ। তাই আন্দোলন চলছে। আন্দোলন চলবে। সবাই তাই সমস্বরে বলছে, আন্দোলন সফল হোক।

জনগণের যূথবদ্ধতা জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটানোর আগেই নিশ্চয়ই সরকারের টনক নড়বে! তবেই তো প্রকৃত দেশপ্রেমীর পরিচয় মিলবে!

পরিশিষ্টতে শামসুর রহমানের একটি কবিতা সকলের জন্য উৎসর্গ করা হলো-

নিজের ব্যাপারে বলা যায়, ভালোবাসি ভালোবাসি
বলে আমি ফাটাইনি গলা,
দিইনি শ্লোগান পৌরপথে কোনদিন। …
যেদিন তোমার বস্ত্রহরণের পালা
শুরু হলো, তোমার চুলের মুঠি ধরে পৈশাচিক
উল্লাসে উঠলো মেতে মদমত্ত বর্বরেরা, সেদিন যাদের
চোখ ক্রোধে রক্তজবা হয়ে উঠেছিল লহমায়,
তোমার গ্লানির কালি মুছে দিতে যারা
হলো শস্ত্রপাণি, আমি তাদের করেছি সমর্থন
সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে। …
তোমার দুর্দিনে যারা শত্রুদের হাতে হাত রেখে
খেলেছে করোটি নিয়ে ভূতূড়ে জ্যোৎস্নায়,
এবং তোমাকে চড়িয়েছে
সোৎসাহে নীলামে,…
এই উল্টোরথ দেখে, শপথ তোমার
প্রেমের, আমার আজ বড় বেশি দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে।



**** *** ***
তথ্য সূত্র:

১. তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও জাতীয় বিদ্যুৎ বন্দর-রক্ষা জাতীয় কমিটির ওয়েব সাইট
২. ‘আমরা পারব না’—এই হীনম্মন্যতাই বড় বাধা, আনু মহম্মদ, দৈনিক প্রথম আলো
৩. দুটি ব্লকের ইজারা পেল কনকো-ফিলিপস, বিডিনিউজ২৪.কম
৪.৩ জুলাই ঢাকায় আধাবেলা হরতাল, নাহুয়াল মিথ এর ব্লগ
৫. কনকো ফিলিপস- এর সাথে তেল-গ্যাস চুক্তি কেন জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থি ?- এম এম আকাশ , নাহুয়াল মিথ এর ব্লগ থেকে
৬. কিছু বিদেশী অনলাইন পত্রিকা
৭. জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কর্মসূচী সফল হোক, ফরহাদ মজহার
৮. প্রফেসর মোঃ নুরুল ইসলাম : সমুদ্রাঞ্চলে ৩টি গ্যাস ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানে অনুমতির ফলে বাংলাদেশের অবস্থা নাইজেরিয়ার ন্যায় হতে পারে
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:৩৮
৩৮টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

করোনা

লিখেছেন ম্যাড ফর সামু, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:২২




বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ভর্তি হলেন কোন একজন মন্ত্রী মহোদয়, যিনি সিঙ্গাপুর থেকে আক্রান্ত হয়ে দেশে এসে ভর্তি হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ।

তাঁকে আপাতত কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় এসেছে ঘরে ঘরে মুসলিম,হিন্দু ঐক্যবদ্ধ সংঘঠন গড়ে তুলতে হবে

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২০

ভ্স্মীভূত কোরআন এভাবেই মাটিতে পুঁতে রাখছেন স্থানীয়রা। ছবি: এএফপি[/sb
আজকাল কথায় কথায় ব্লগ সহ প্রায় সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নানান ধরনের কমেন্টে দেখা যায়,এক পক্ষ আছেন
যারা বিভিন্ন সংঘাত বা ঝামেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্লিজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৫


কিছু কথা আছে,
ফোনটা রেখোনা …………প্লিজ।

একা বসে আছি তোমারই অপেক্ষায়,
আর নিজেকে সামলাতে পারছিনা কিছুতেই
জানো কিনা জানিনা.
বোঝ কিনা বুঝিনা।
আমি সত্যি আর পারছিনা প্রিয়তমা।
আমার ঘেটে যাওয়া জীবনটাতে তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনআরসি প্রতিবাদে মুসলমানদের রাস্তায় নামা কি ঠিক?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০৮



প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেইদিন দিল্লী এলো, সেইদিনটি কি রাস্তায় এনআরসি প্রতিবাদের জন্য "উপযুক্ত দিন" ছিলো? ট্রাম্পের ভিজিট মাত্র ১ দিন, এই দিন সম্পর্কে মোদীর সরকার ও বিজেপি খুবই সেন্সসেটিভ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতের মুসলিমদের উপর অত্যাচার এবং বাংলাদেশে মুজিব বর্ষে মোদির প্রাসঙ্গিকতা।

লিখেছেন রাজজাকুর, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:১৫

ভারতের Citizenship Amendment Act (CAA) এর উদ্দেশ্য আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিষ্টান এই ছয় ধর্মাবলম্বী অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরকিত্ব দেয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×