মামুন মাহফুজ
কাহিনী সংপে: দশবারো বছরের কিশোর ছেলে শান। পছন্দ করে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে। পাহাড়ের উপরে তাদের বসতি।্ সপ্তাহে একদিন ছেলেটি নেমে আসে সমতলে। সেদিন সবচে বড় বাজার বসে সে এলাকায়। জমজমাট বাজারে সবাই ভীষণ ব্যস্ত। শানের মনের ভেতর নানান প্রশ্নÑকৌতূহল। কিন্তু কে দেবে সেসবের জবাব? সবাই ব্যস্ত। তাই শান একদিকে তাদের কাজে সাহায্য করে বিনিময়ে শুনতে পায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন গল্প। এভাবে শান সবার কাছে বেশ প্রিয় হয়ে ওঠে। আর শান অপোয় থাকে সপ্তাহের সেই একটি দিনের। যেদিন দূরদুরান্ত থেকে মানুষ আসে বিভিন্ন পণ্যের কেনাঁেবচা করতে।
সেদিনও শান নেমে আসে বরাবরের মতো সেজেগুজে। সঙ্গে থাকে তার বাবার দেয়া উপহার বাঁশি আর মায়ের দেওয়া একটি সুদৃশ্য চটের ব্যাগ। বাজারের বহু মানুষই শান এর এ জিনিস দুটো কিনতে চায় , কিন্তু শান তা বিক্রি করে না, বাবা মার উপহার বলে।
একদিন ধূর্ত বণিক অ্যালেক্স এর চোখে পড়ে শান। শানের খুব ইচ্ছা লোকটির নৌযানে চড়ে ওপাড়ের দেশটা দেখতে যাবে। এদিকে লোকটিরও প্রয়োজন একজন সহকারীর এতোটা পথ যান চালাতে একা সে কান্ত হয়ে যায়। ানেকদিন থেকে চাইছে একটা বাচ্চা ছেলে, কিন্তু কেউই তাদের সন্তানকে এইলোকটির কাছে যেতে চায় না। কারণ সবাই জানে লোকটি ভীষণ চতুর সে নানাভাবে মানুষকে ঠকায়। কিন্তু শান দেশ দেখতে যাবার লোভে সেসব তোয়াক্কা করে না। সবাই ওকে সাবধান করে দেয়, কিন্তু ও শোনে না সেসব। অবশেষে লোকটির সঙ্গে রওনা হয় ইয়াঙ্গুনের উদ্দেশ্যে।
এেিদকে লোকটি ফন্দি করে বালকটির ব্যগ এবং বাঁশিটি হাতিয়ে নেবার। ওপারে গিয়ে লোকটি বলে তোমাকে এনেছি কারণ তুমি আমাকে যান চালাতে সাহায্য করেছ, কিন্তু তোমার খাবার ব্যবস্থাতো আমি করতে পারবো না। অসহায় ছেলেটি কোনও রাস্তা খুঁজে পায় না, কী করবে সে? লোকটিই তাকে পথ বাতলে দেয় বলে তুমি তোমার ব্যাগটা আমার কাছে বিক্রি করে দাও। ছেলেটি অস্বীকার করে বলে আমি তা বিক্রি করতে পারব না, এগুলো আমার বাবাএবং মায়ের দেওয়া উপহার। লোকটি তখন বলে ঠিক আছে, তুমি এগুলো এখন বিক্রি করো, আর সে টাকা দিয়ে এখানথেকে সস্তায় মোরগ কিনে নিয়ে যাও। ওইদেশে বেশি দামে বিক্রি করে আমার টাকা আমাকে দিলে আমি তোমার ব্যাগ ফেরৎ দিয়ে দেব।
ছেলেটি লোকটির বুদ্ধিতে রাজি হয়। এবং একজোড়া মোরগ কিনে নিয়ে আবার রওনা হয় দেশের পথে।
দেশে ফেরার পর সত্যি সত্যি বেশ ভালো দামে বিক্রি করে সে মোরগজোড়া। তারপর লোকটির টাকা লোকটিকে ফেরৎ দিলে সে বলে তাকে আরও দিতে হবে, কারণ সে শুধু ছেলেটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল, কিন্তু আসার পথে মোরগজোড়া যে তার ধান খেয়েছে সে বিল কে দেবে?
সবাই ছেলেটিকে ভৎসর্না করে বলে- তোমাকে না বলেছিলাম লোকটি খুবই চতুর , সে কৌশলে মানুষকে ঠকায়!
লোকটি এবার শর্ত দেয়, তার সঙ্গে ছেলেটিকে আবার ওই দেশে যেতে হবে, আর সে যদি এখান থেকে কোনও পণ্য কিনে নেয়, তাহলে ওই দেশে তা বেশ ভালো দামে বিক্রি করতে পারবে। বিক্রি করে তার দেনা তাকে শোধ করে দিরে সে তার জিনিস ফেরৎ দিয়ে দেবে।
ছেলেটি ভাবতে থাকে সে কী কিনবে? বহুরকম পণ্যের পসরা বণিকেরা সাজিয়ে বসিয়ে আছে। একলোক বেশ উচ্চৈ:স্বরে হেঁকেডেকে চাকু বিক্রি করছ্ েলাকি নাইপ লাকি নাইফ বলে। এই ছুরি নাকি মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারে। ছেরেটি দুইটি ছুরি কিনল্ একটি নিল হাতে আর অন্যটিকে রাখর মাযায় লুকিয়ে।
চতুর লোকটি যখন জানতে চাইলো এবার সে কী পণ্য কিনেছে তখন সে তার হাতের ছুরিটি দেখিয়ে বলে এই ভাগ্যপরিতর্বনকারী ছুরিটি সে কিনেছে। লোকটি বলে তোমাকে বাচ্চা পেয়ে লোকটি ঠকিয়েছে, ছুরি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না, সে ছেলেটিকে ভৎসর্ণা করে তার বোকামির জন্য।
ছেলেটি বলে এই ছুরি যাদু জানে, এটি কখনও হারিয়ে যায় না, এমনকি পানিতে পড়লেও ডুবে যায় না, লোকটি মানতে রাজী নয়। কেউই মানতে চায় না। তখন ছেলেটি বলে এই আমি পানিতে দাগ কেটে ছুরিটি ফেলে যাচ্ছি, যাওয়ার পথে ঠিক এখান থেকে তুলে নেবো।
চতুর লোকটির মাথায় তখন অন্য বুদ্ধি! সে বলে ঠিক আছে তোমার কথা যদি টিক থাকে তাহলে বাজি ধরো! ছেলেটি বাজি ধরতে রাজি হয়। লোকটি বলে যে তুমি যদি এই গভীর নদীতে এই ছুরিটা ফেলে দিয়ে ফের তুলে আনতে পারো, বিনা টাকায় আমি তোমার জিনিসগুলো ফেরৎ দিয়ে দেবো , আর যদি না আনতে পারো তোমার সবকিছু আমাকে দিয়ে দিতে হব্ েতোমার বাঁশি কাপড়চোপড় সব। ছেলেটি বলে আমার সবকিছু দিতে হলে তোমারও সব কিছু বাজি ধরতে হবে,
লোকটি তাতেও রাজি কারন সেতো নিশ্চিত যে এই গভীর পানিতে একবার কিছু পরলে তা আর ফেরৎ পাবার উপায় নাই।
ছেলেটি চাকু দিয়ে পানিতে দাগ কাটার চেষ্টা করল, তারপর ফেলে দিল চাকুটা। চতুর লোকটি বলে ফেরার পথে নয় তুমি এখনই চেষ্টা করে দেখো তুলতে পারো কি না। কোনওদিনই পারবে না।
চেলেটি নেমে যায় পানিতে এবং কোমরে লুকিয়ে রাখা দ্বিতীয় ছুরিটি হাতে নিয়ে ফিরে আসে সবাই বিস্ময়ে হতবাক! সবাই লোকটিকে বাধ্য করে তার সবকিছু প্রতিশ্র“তি মতো ছেলেটিকে দিয়ে দিতে।
শান’স লাকি নাইফের কাছে হেরে গেলো এতোদিন লোকঠকাতে ঝানু চতুর লোকটি। বুদ্ধিই ভাগ্য পরিবর্তন করাতে পারে ছুরি নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

