somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ বহুদিন পর!

১৩ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ বহুদিন পর!
আমি না আসলেও চলতো! এটা যেমন সত্য,
তেমনি ধ্রুব সত্য আমার আগমন অজরুরি নয়
স্রষ্টা কাউকে অযথা সৃষ্টি করেছেন, এ দোষ দেওয়া যায় না।
ব্লগের প্রথম পাতা থেকে ব্যান খেয়ে সেইযে চুপ হয়ে গেলাম
আর আসবোই না ভেবেছিলাম! এর সবই ঠিক থাকত যদি..
যদি না আজকের ঘটনাটি ঘটত!

গতকাল বাসা খুঁজতে বেরিয়েছিলাম আমি আর আমার এক কাজিন
রাতে থেকে গিয়েছিলাম দক্ষিণ বনশ্রি, আরেক কাজিনের বাসায়।
ওদের কাছাকাছি কোনও বাসা নিতে চাই, বাসা খালি আছে, কিন্তু সমস্যা যোগাযোগ! বিশেষকরে আমার!
সেজন্যই সরেজমিন তদন্তে গিয়েছিলাম।
ফেরার পথে একেবারে বাসার কাছ থেকে উঠলাম বেঙ্গল পরিবহনে।
বেঙ্গলের যে সুন্দর সিট! ঝাক্কাস চেয়ারকোচ সিট।
উঠেই সিট নামিয়ে আরাম করে বসলাম! পাশে সেই কাজিন।
একটু পর পেছন থেকে এক যুবক আপত্তি জানাল, কাজটা নাকি ভালো হয়নি, তাদের কষ্ট হচ্ছে। আমি সিটটা উঠিয়ে নিলাম। আমার সুখের জন্য অন্যের কষ্ট হোক সেটা আমি চাই না!
কিন্তু বাধসাধল কাজিনটা। ভাই আপনার সিটটাও নামিয়ে নিন! তাহলে আর কষ্ট হবে না। ছেলেটি তাতে সম্মত নয়।
এক কথা দুই কথা, এটা বাড়ি নয় গাড়ি, এতো সুখ ভালো না।
উচ্চবাচ্য'র এক পর্যায়ে গাড়ির সবলোক দলাদলি করে ফেলল, একদল আমার কাজিনের পক্ষে আর একদল ওই ছেলেটার পক্ষে।
আমার কাজিন ইংরেজি ভাষায় খুবই দক্ষ, কিন্তু সচরাচর সে ইংরেজি ব্যবহার করে না। চেষ্টা করে শুদ্ধ বাংলা বলতে। কিন্তু এবার তার ছাতি গরম। ছেলেটি তাকে ইংরেজিতে গালি দিয়েছে
কাওয়ার্ড বলেছে, বলেছে মেয়েমানুষ সঙ্গে থাকলে বীরপুরুষ হওয়ার খায়েশ হয়? আমার কাজিনের ব্যক্তিত্বে ভীষণ নাড়া দিল। সে এমনই উত্তেজিত যে আমি কিছুতেই থামাতে পারছি না।
আমি শুধু আল্লাহ আল্লাহ করছিলাম নাজানি হাতাহাতি হয়ে যায়।
ভাগ্যিস সেটা আর হয়নি। কখন যে গাড়ি গন্তব্যে চলে এসছে কেউ খেয়াল করেনি। অমীমাংসিতভাবেই বিদায় নিতে হলো আমাদের।
লজ্জায়, গ্লানীতে বিশ্রী লাগতে লাগল।
কেন এমন হলো?
মনেমনে ভাবছিলাম আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে, আর মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম সেই বদ ছেলেটার যেন ভয়ানক কিছু হয়। নিজেতো পারলাম না, আল্লাহ যেন শাস্তি দেয় ওকে। আর সেইসঙ্গে ওর দালালমার্কা সাপোর্টারদেরও, যারা শুধুশুধু গায়েপড়ে উস্কানী দিয়ে ঝগড়াটা বাড়িয়েছিল।

খুবই মনখারাপ নিয়ে বাসার দিকে এগুচ্ছি! কেউ কারও সঙ্গে কথাটিও বলছি না। হয়ত ওও লজ্জিত! কিন্তু এমন ঘটনা কেন ঘটল? কী ভালো রেখেছে আল্লাহ! শিক্ষা! ধৈর্য ধারণের শিক্ষা? তাতোএতো অপমান করে না দিলেও হতো! বোধয় এই এলাকায় বাসা না নেওয়াই ভালো তারই ইঙ্গিত!
অনেক হাবিজাবি ভাবছি। হঠাৎ ও মুখ খুলল;
খুব খারাপ লাগছে?
-হুঁ
-আসলে এতো উত্তেজিত না হলেও চলত। আসলে অধিকার সচেতন হতে চেয়ে...
-অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে বসেছিলে!
-আর কখনও উত্তেজিত হ্ইও না। ছিঃ কী বিশ্রি!
আমরা কথা বলতে বলতে হাঁটছি, হঠাৎ একটা রিকসা বেলটেল দেওয়ার নাম নাই, ওর হাঁটুতে গুঁতা মেরে চলে গেল।
ও ঘুরে গিয়ে রিকসা অলার কলার চেপে ধরে মারতে যাচ্ছিল, হঠাৎ থেমে গল, বলল বুড়ো মানুষ!
আবার হাঁটছি আমরা। একটুপর রিকসার ভদ্রলোকটি ডেকে অনুরোধ করল একটু দাঁড়াতে।
অমুক হাসপাতালটা কোনদিকে বাবা!
-যাবেন কোথায়?
-ঐ হাসপাতালেই, ঐখানেই বাসা।
-কার বাসা? আপনার কোনও আত্মীয়?
-আত্মীয় না, সম্রাট সাহেবের মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের...
-নামকি আপনার ছেলের, ওর কণ্ঠে যথার্থ ভদ্রতা!
-আরমান, আমি আরমানের বাবা, আপনারা?
-আমি... আমি শামীম , সামিয়ার বড়ভাই।
মানুষটা ভীষণ খুশি! কাকাতালীয়ভাবে পেয়ে যাওয়ায়। এবং আমার ধারণা; ওর সংযত হওয়া ব্যবহারে লোকটি খুব খুশি। সম্ভবত আত্মীয়তা হয়ে যাবে।
আমি জানি, গাড়ির ওই ঘটনাটা না ঘটলেও ও রিকসাঅলাকে দুচারঘা না মেরে ছাড়ত না। আর তাতে ঘটনা কী ঘটত? একটি প্রত্যাশিত সম্বন্ধ হয়তঘটত না!
আসলেই যা ঘটে ভালোর জন্যেই ঘটে যদি আমরা তা থেকে শিক্ষা নিতে পারি।...
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×