আজ বহুদিন পর!
আমি না আসলেও চলতো! এটা যেমন সত্য,
তেমনি ধ্রুব সত্য আমার আগমন অজরুরি নয়
স্রষ্টা কাউকে অযথা সৃষ্টি করেছেন, এ দোষ দেওয়া যায় না।
ব্লগের প্রথম পাতা থেকে ব্যান খেয়ে সেইযে চুপ হয়ে গেলাম
আর আসবোই না ভেবেছিলাম! এর সবই ঠিক থাকত যদি..
যদি না আজকের ঘটনাটি ঘটত!
গতকাল বাসা খুঁজতে বেরিয়েছিলাম আমি আর আমার এক কাজিন
রাতে থেকে গিয়েছিলাম দক্ষিণ বনশ্রি, আরেক কাজিনের বাসায়।
ওদের কাছাকাছি কোনও বাসা নিতে চাই, বাসা খালি আছে, কিন্তু সমস্যা যোগাযোগ! বিশেষকরে আমার!
সেজন্যই সরেজমিন তদন্তে গিয়েছিলাম।
ফেরার পথে একেবারে বাসার কাছ থেকে উঠলাম বেঙ্গল পরিবহনে।
বেঙ্গলের যে সুন্দর সিট! ঝাক্কাস চেয়ারকোচ সিট।
উঠেই সিট নামিয়ে আরাম করে বসলাম! পাশে সেই কাজিন।
একটু পর পেছন থেকে এক যুবক আপত্তি জানাল, কাজটা নাকি ভালো হয়নি, তাদের কষ্ট হচ্ছে। আমি সিটটা উঠিয়ে নিলাম। আমার সুখের জন্য অন্যের কষ্ট হোক সেটা আমি চাই না!
কিন্তু বাধসাধল কাজিনটা। ভাই আপনার সিটটাও নামিয়ে নিন! তাহলে আর কষ্ট হবে না। ছেলেটি তাতে সম্মত নয়।
এক কথা দুই কথা, এটা বাড়ি নয় গাড়ি, এতো সুখ ভালো না।
উচ্চবাচ্য'র এক পর্যায়ে গাড়ির সবলোক দলাদলি করে ফেলল, একদল আমার কাজিনের পক্ষে আর একদল ওই ছেলেটার পক্ষে।
আমার কাজিন ইংরেজি ভাষায় খুবই দক্ষ, কিন্তু সচরাচর সে ইংরেজি ব্যবহার করে না। চেষ্টা করে শুদ্ধ বাংলা বলতে। কিন্তু এবার তার ছাতি গরম। ছেলেটি তাকে ইংরেজিতে গালি দিয়েছে
কাওয়ার্ড বলেছে, বলেছে মেয়েমানুষ সঙ্গে থাকলে বীরপুরুষ হওয়ার খায়েশ হয়? আমার কাজিনের ব্যক্তিত্বে ভীষণ নাড়া দিল। সে এমনই উত্তেজিত যে আমি কিছুতেই থামাতে পারছি না।
আমি শুধু আল্লাহ আল্লাহ করছিলাম নাজানি হাতাহাতি হয়ে যায়।
ভাগ্যিস সেটা আর হয়নি। কখন যে গাড়ি গন্তব্যে চলে এসছে কেউ খেয়াল করেনি। অমীমাংসিতভাবেই বিদায় নিতে হলো আমাদের।
লজ্জায়, গ্লানীতে বিশ্রী লাগতে লাগল।
কেন এমন হলো?
মনেমনে ভাবছিলাম আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে, আর মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম সেই বদ ছেলেটার যেন ভয়ানক কিছু হয়। নিজেতো পারলাম না, আল্লাহ যেন শাস্তি দেয় ওকে। আর সেইসঙ্গে ওর দালালমার্কা সাপোর্টারদেরও, যারা শুধুশুধু গায়েপড়ে উস্কানী দিয়ে ঝগড়াটা বাড়িয়েছিল।
খুবই মনখারাপ নিয়ে বাসার দিকে এগুচ্ছি! কেউ কারও সঙ্গে কথাটিও বলছি না। হয়ত ওও লজ্জিত! কিন্তু এমন ঘটনা কেন ঘটল? কী ভালো রেখেছে আল্লাহ! শিক্ষা! ধৈর্য ধারণের শিক্ষা? তাতোএতো অপমান করে না দিলেও হতো! বোধয় এই এলাকায় বাসা না নেওয়াই ভালো তারই ইঙ্গিত!
অনেক হাবিজাবি ভাবছি। হঠাৎ ও মুখ খুলল;
খুব খারাপ লাগছে?
-হুঁ
-আসলে এতো উত্তেজিত না হলেও চলত। আসলে অধিকার সচেতন হতে চেয়ে...
-অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে বসেছিলে!
-আর কখনও উত্তেজিত হ্ইও না। ছিঃ কী বিশ্রি!
আমরা কথা বলতে বলতে হাঁটছি, হঠাৎ একটা রিকসা বেলটেল দেওয়ার নাম নাই, ওর হাঁটুতে গুঁতা মেরে চলে গেল।
ও ঘুরে গিয়ে রিকসা অলার কলার চেপে ধরে মারতে যাচ্ছিল, হঠাৎ থেমে গল, বলল বুড়ো মানুষ!
আবার হাঁটছি আমরা। একটুপর রিকসার ভদ্রলোকটি ডেকে অনুরোধ করল একটু দাঁড়াতে।
অমুক হাসপাতালটা কোনদিকে বাবা!
-যাবেন কোথায়?
-ঐ হাসপাতালেই, ঐখানেই বাসা।
-কার বাসা? আপনার কোনও আত্মীয়?
-আত্মীয় না, সম্রাট সাহেবের মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের...
-নামকি আপনার ছেলের, ওর কণ্ঠে যথার্থ ভদ্রতা!
-আরমান, আমি আরমানের বাবা, আপনারা?
-আমি... আমি শামীম , সামিয়ার বড়ভাই।
মানুষটা ভীষণ খুশি! কাকাতালীয়ভাবে পেয়ে যাওয়ায়। এবং আমার ধারণা; ওর সংযত হওয়া ব্যবহারে লোকটি খুব খুশি। সম্ভবত আত্মীয়তা হয়ে যাবে।
আমি জানি, গাড়ির ওই ঘটনাটা না ঘটলেও ও রিকসাঅলাকে দুচারঘা না মেরে ছাড়ত না। আর তাতে ঘটনা কী ঘটত? একটি প্রত্যাশিত সম্বন্ধ হয়তঘটত না!
আসলেই যা ঘটে ভালোর জন্যেই ঘটে যদি আমরা তা থেকে শিক্ষা নিতে পারি।...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

