somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রইলে জেগে বোবা বুকের বিকল হাহাকারে

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

০১
:"হরিতকীর ফুল কি রং এর হয় বলতো"?
বরাবরের মত আমি চুপ। 'হরিতকী' নামে যে কোন ফুল হয় সেটাই আমি জানতাম না। তুমি অবশ্য উত্তরের অপেক্ষায় থাক নি। আমার ভূবন জোড়া মূর্খতায় ততদিনে তুমি অভ্যস্ত। বুঝে গিয়েছিলে, যা কিছু "না জানা সম্ভব" আমি তার চেয়েও "বেশী কিছু" জানি না।
সেবার নাকি সারা বসন্ত জুড়ে তুমি কোকিলের ডাক শোন নি। আফসোস করে বলেছিলে একদিন।
আমি কোকিলের বাসা খুঁজতে লেগে গেলাম। তারপর যেদিন এসে তোমায় বললামঃ 'একটা কোকিলের বাসা খুঁজে পেয়েছি। কখন ডাকে খেয়াল রাখতে হবে।'
জলতরঙ্গের মত কাঁচভাঙ্গা হাসিতে ভেঙ্গে পড়তে পড়তে কোনরকমে বললেঃ 'তুমি এত বোকা কেন? কোকিল কি কখনো বাসা বাঁধে?'
তাইতো! আমার তখন কেবল মনে পড়ল, এমন কি যেন একটা সুদূর শৈশবে দেখে এসেছিলাম পাঠ্য বইয়ের পাতায়।
আমার বিরল নির্বুদ্ধিতায় তোমার প্রানখোলা খুশীতে আমিও খুশী হয়ে যেতাম।
আমার আরো নির্বোধ হতে ইচ্ছে করতো।

০২
তোমার খুব স্বর্গে যাওয়ার লোভ ছিল। আমার ছিল শুধু তোমার সাথে থাকার লোভ। সেজন্যই হয়তো আনমনে তুমি যখন স্বর্গপূরীর গল্প বলতে, আমিও মনযোগ দিয়ে ভাবতে বসতাম। তুমি 'মন্দারের' জলে পা ভিজিয়ে বসে থাকার কথা ভেবে শিহরিত হতে। "মন্দার" স্বর্গের একটি নদী। আমি জানতামনা। তোমার কাছ থেকে শিখেছি। আমি তোমার কাছ থেকেই শিখি।
: 'আমি তোমাকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ শেখাব'। এক গোছা অলক কানের উপর দিয়ে পেছনে ঠেলে দিতে দিতে একদিন বললে।
: আচ্ছা কবে শেখাবে?
: আগে আমি শিখে নেই, তার পর।
জীবনের নাগরদোলা আমাকে আর সব ছন্দ খুব ভালোই শিখিয়ে ছেড়েছে। পারেনি শুধু 'অমিত্রাক্ষার' শেখাতে। পারবেও না। তোমার কাছ থেকে শেখার পণ করে আমি আজো অচল আর অটল।

০৩
:"তুমিতো জোসনায় খুব ঘুরে বেড়াও। জোসনার ছায়া দেখেছো কখনো?" তোমার এমন এক একটা প্রশ্ন শুনে আমার আক্কেল গুড়ুম হয়ে যেত।
জোসনায় আমি হেঁটে বেড়াই ঠিকই। কিন্তু জোসনার ছায়া-র কথা কখনো তো মাথায় আসে নি। আসার সুযোগ কই? আমার মাথা জুড়ে থাকে তোমার ভাবনা। অথচ তোমার প্রশ্নের জবাবে সে কথা আমি তোমায় বলতে পারি নি। বললে কি তুমি হেসে ফেলতে? হয়তো হাসতে। হয়তো হাসতে না।
আমি তোমাকে বুঝতে পারি না।
তোমার কাছে আমি যেমন "সহজপাঠ্য", আমার কাছে তুমি তেমনই "দূর্বোধ্য"। উপপাদ্যের মত। ৯/১০ ক্লাসের যে উপপাদ্যগুলো আমি কখনোই বুঝে উঠতে পারি নি।
উপপাদ্যজনিত আমার এ জটিলতার কথা শুনে তুমি খুব হেসেছিলে সেদিন। তোমার সেই অপার্থিব হাসি দেখতে দেখতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি "আমাকে যদি আরো ক'টা জনম দেয়া হয়, সেই সব জনমে ও আমি উপপাদ্য বুঝব না। বোঝার কোন চেষ্টাও করব না।"
তারপর তোমাকে আবার বলবো আমার অজ্ঞতার কথা।
তুমি আবার হাসবে।
আমি দেখবো।

০৪
আকাশ জোড়া নাম না-জানা কত নক্ষত্র। তুমি নিজ থেকেই কতগুলোর নাম দিয়েছিলে। এমনভাবে সেগুলোর কথা বলতে, যেন কত দিনের পরিচয়। প্রথম যেদিন বলেছিলেঃ "কাল এত মেঘ ছিল আকাশে, আমি নূপুর-কে দেখতে পাইনি।" আমি বরাবরের মত চুপ থেকে ভেবে নিয়েছিলাম "হয়তো কোন বান্ধবী"।
: জিজ্ঞেস করলে না, নূপুর কে?
: নূপুর কে?
: আজ সন্ধ্যার পর এসো, নূপুরকে দেখাব। তুমি নূপুর চিনবে।
সন্ধ্যার পর আমি গিয়েছি। নূপুরকে দেখতে? তুমি কি তাই ভেবেছিলে? মোটেও না। আমি শুধু তোমাকে দেখতেই তোমার কাছে ছুটে যেতাম। আমি শুধু তোমাকেই দেখতে চাই।
সেদিনও ছিল আকাশ-ভরা মেঘ। তুমি পার নি নূপুরকে দেখাতে।
তারপর পার হয়ে গেছে কত কত রাত। আমার নূপুর চেনা হয় নি। নূপুর নিশ্চয়ই আজো আকাশে আছে‍! তুমি কি এখনো নূপুর দেখো?
আমার নূপুর দেখা হল না। আমার কিছুই হয় না।
আমি তোমাকেও আর দেখি না।

নূপুর দেখার পিপাসা আমার নেই। কিন্তু তোমায় দেখার তৃষ্ণা আমার কোনদিন মিটবে না।
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×