somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বালোকসংশ্লেষণ,এক্স-রে ও সৌরবিদ্যুৎ এর মধুর সম্পর্ক

১৫ ই মে, ২০১৫ সকাল ৭:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বালোকসংশ্লেষণঃ

আপনারা নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন স্বালোকসংশ্লেষণ সম্পর্কে লিখছি ঠিকাছে কিন্তু এখানে সৌরবিদ্যুৎ
আর এক্স-রে এল কিভাবে?? আছে ভাই সম্পর্ক আছে না থাকলে আমি বলতাম না। আপনারা নিশ্চয়ই
স্বালোকসংশ্লেষণ সম্পর্কে জানেন। তারপরও আরেকবার বলে রাখি।উদ্ভিদ সুর্যালোকের উপস্থিতে
কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে যে শর্করা এবং শক্তি ও সেই সাথে আমাদের জীবন
দ্বানকারী অক্সিজেন উৎপাদন করে। নিচে বিক্রিয়াটি দেখুন:
6CO2+12H2O—–sunlight———————–→C6H12O6+6H2O+6O2
আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে সোলার প্যানেল সুর্যালোকের উপস্থিতিতে শক্তি উৎপাদন
করে তা ব্যাটারী কোষে জমা রেখে আমাদের ব্যাবহার উপযোগী করে। দেখতে পাচ্ছেন তো এবার
সমন্বয়টা??এবার কী মনে প্রশ্ন জাগল না মনে যে আসলে দুটো প্রক্রিয়াই কি একই?? হুম আপনার সন্দেহ একদম
অমূলক নয়। আসলে আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রায় অংশই কিন্তু প্রকৃতি থেকে ধার নেওয়া।তো আসুন
এবার কম্বিনেশনটা বের করে ফেলা যাক। আমরা যারা জীববিজ্ঞান সম্পর্কে নুন্যতম ধারণা রাখি
তারা জানি স্বালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিন্থেসিসের দুটি ধাপ আছে একটি আলোক পর্যায় অন্যটি
অন্ধকার পর্যায়।আলোক পর্যায়ে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। কিন্তু গাছের
ক্লোরোফিলের রঞ্জক পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোতে সাঁড়া প্রদান করে। এআলোর
রেঞ্জ বা পাল্লা হচ্ছে ৬৭০ ন্যানোমিটার প্রায়। তাই আপনি যদি ভাবেন টর্চের আলোয়ও আপনি
গাছে স্বালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চালাবেন তবে এ সংবাদটা আপনার জন্য হতাশাজনক।এবার নিশ্চয়ই
বুঝতে পারছেন উদ্ভিদ কেন রাতে চাঁদের আলোয় স্বালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে
পারে না!! ক্লোরোফিলে NADP+H+ সৃষ্টি করতে যে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত হয় তা আমাদের
কাছে স্থিতি শক্তি হিসেবে প্রত্যক্ষ হয়।এভাবেই গাছপালা সুর্যের আলো হতে খাদ্য ও শক্তি উৎপাদন
করে। শক্তি গাছ নিজেকে বাচিঁয়ে রাখত্র এবং কার্বোহাইড্রেড প্রাণীর পুষ্টি সরবরাহে ব্যাবহৃত হয়।
সৌরবিদ্যুৎঃ

আমরা গ্রামের বাড়িতে গেলে প্রায়ই দেখছি বাড়ির উপর সোলার প্যানেল। দেখতে সাদা
প্যানেলের উপর কালো কালো ঘর করা। আমরা যারা একটু কৌতুহলী সকলেই জানি যে সৌরবিদ্যুতের
প্যানেলগুলোর উপর সিলিকনের প্রলেপ দেয়া আছে। সূর্য হতে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো পৃথিবীতে
আপতিত হয়। তার মধ্যে কিছু তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো পৃথিবীতে এসে পৌছাঁয়। আমরা ম্যাক্সওয়েলের
আলোর তরঙ্গ ধর্ম সম্পর্কে জানি।আবার এও জানি যে আলো একই সাথে কণা এবং তরঙ্গ রূপে কাজ করে।
যখন সূর্যালোক থেকে উচ্চশক্তি সম্পন্ন ফোটন কণা পৃথিবীতে পতিত হয়। তখন উচ্চশক্তিসম্পন্ন ফোটন কণা
সিলিকনের ধাতব পাতকে সজোরে আঘাত করে ফলে সিলিকনের ভেতর পঞ্চযোজী ইলেক্ট্রনের
স্থানচুত্যি ঘটে এবং ধাতব তার দিয়ে বৈদ্যুতিক কোষে গিয়ে জমা হয়। আমরা পরবর্তীতে নিজেদের
সুবিধামত সঞ্চিত বিদ্যুৎ ব্যাবহার করি। এটি হচ্ছে এক্স-রে প্রসেস এর ঠিক বিপরীত। এবং
স্বালোকসংশ্লেষণের হুবহু অনূরূপ।স্বালোকস্বংশ্লেষনের সাথে এর মূল পার্থক্য হলো স্বালোকসংশ্লেষণ
ঘটে জৈবিক উপায়ে কিন্তু সৌরবিদ্যুতের ব্যাপারটি যান্ত্রিক।
এক্স-রেঃ

এক্সরে সম্পর্কে জানেন না এমন মানুষ খুবই কম আছেন। হাত ভাংলো তো এক্স-রে পা ভাংলো তাও
এক্স-রে। ডাক্তারের ধান্ধা তাও এক্স-রে। তো আসলে এই এক্স-রে এক প্রকার রশ্মি। এটি সৌরশক্তির
ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়া। আমরা এক্স্-রে সহ বিভিন্ন রশ্মি থেকে শক্তি উৎপাদনের কথা জেনেছিলাম
কিন্তু এই সিস্টেমে ইলেক্ট্রন ধাতুকে আঘাত করে রশ্মি উৎপন্ন করে। যখন আয়নিত ক্যাথোড টিউবের
ভিতরে উচ্চ প্রবাহের বিদ্যুৎ চালনা করা হয় তখন ইলেকট্রন অতি উচ্চ গতিতে ৪৫ ডিগ্রী বাকাঁনো
ধাতবপাতকে আঘাত করে ফলে এক্স-রে নামক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মির উৎপত্তি হয়। আর দেখতেই তো
পেলেন কিভাবে স্বালোকসংশ্লেষণ, সৌরবিদ্যুত এবং এক্স-রের ভেতর নিবিড় সম্পর্ক স্থাপিত হলো।
আমি আম-আদমী মানুষ সামান্য জ্ঞান দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করেছি তাই না বুঝে থাকলে প্রশ্ন করুন।
এবং ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা করুন।আমি ব্লগে নতুন আমার লেখা আপনাদের ভাল লাগলে প্লাস,ও কমেন্ট করে উৎসাহিত করবেন

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০১৫ সকাল ৭:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×