somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৃষ্ণকান্তের উইল + এস্কেলেটর ফোবিয়া

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"তম্বুরার কাণ মুচড়াইতে দাড়িধারী তাহার তারে আঙ্গুলি দিতেছিল। যখন তারের মেও মেও আর তবলার খ্যান্‌ খ্যান্ ওস্তাদজীর বিবেচনায় এক হইয়া মিলিল তখন তিনি সেই গুম্ফশ্মশ্রুর অন্ধকারমধ্য হইতে কতকগুলি তুষারধবল দন্ত বিনির্গত করিয়া, বৃষভদুর্লভ কণ্ঠরব বাহির করিতে আরম্ভ করিলেন। রব নির্গত করিতে করিতে সে তুষারধবল দন্তগুলি বহুবিধ খিচুনিতে পরিণত হইতে লাগিল; এবং ভ্রমরকৃষ্ণ শ্মশ্রুরাশি তাহার অনুবর্ত্তন করিয়া নানাপ্রকার রঙ্গ করিতে লাগিল। তখন যুবতী খিচুনিসন্তাড়িত হইয়া সেই বৃষভদুর্লভ রবের সঙ্গে আপনার কোমলকণ্ঠ মিশাইয়া গীত আরম্ভ করিল - তাহাতে সরু মোটা আওয়াজে, সোণালি রূপালি রকম এক প্রকার গীত হইতে লাগিল।"
উপরের এই অংশটুকু বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "কৃষ্ণকান্তের উইল" বই এর দ্বিতীয় খন্ডের পঞ্চম পরিচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়েছে।
তখন পড়ি ক্লাস এইট কি নাইনে। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য ছিলাম। পড়ার বই দেখলে বমি বমি ভাব আসলেও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রতি সপ্তাহে পাওয়া বইগুলো গোগ্রাসে গিলতাম। তো একবার দুর্ভাগ্যক্রমে আমার ভাগে পড়ল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "কৃষ্ণকান্তের উইল"। মাইরি একটা বই! কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে বাংলা সাহিত্যের প্রতি চরম ভীতি চলে আসল। একে তো সাধু ভাষায় লেখা তার উপর কিছু কিছু শব্দ পড়ার সময় দাঁত ভেঙে যাবার জোগাড়।
"গোবিন্দলাল তখন কথা কহিল না। তাহার অগ্রে, আলুলায়িতকুন্তলা, অশ্রুবিপ্লুতা, বিবশা, কাতরা, মুগ্ধা, পদপ্রান্তে বিলুন্ঠিতা সেই সপ্তদশবর্ষীয়া বনিতা।".......এমন বাক্য আমার মত মোটামুটি ফাঁকা মস্তিষ্কের অধিকারিনীকে যথেষ্ট পরিমাণে বিভ্রান্ত করে ফেলল। ১০/ ১২ পাতা পড়ে আমি আর ঐ বইয়ের ধারে কাছেও ঘেঁষিনা। তারপর পড়ার চেষ্টা করেও মন বাসাতে পারিনি। আসলে মনটা তখন ঘুরত তিন গোয়েন্দা, শার্লক হোমস, টম সয়্যার, ফেলুদার পিছু পিছু। সময় অনেক গড়িয়েছে......আজ বহুবছর পর সেই বইটা পড়লাম। এখনও যে বাংলা ভাযার কঠিন কঠিন শব্দ আমার দাঁত ভেঙে ফেলেনা তা নয়.....তবে মনে হলো বইটা আগে না পড়ে ভালোই হয়েছে। ক্লাস এইটের মানসিকতা নিয়ে বইটা পড়লে হয়ত কোন মজাই পেতামনা উল্টো বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতি একটা বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হত। বাংলা সাহিত্যে এত অসাধারণ সব বই আছে যে না পড়লে সেটা আঁচ করা যায়না। "কৃষ্ণকান্তের উইল" বইয়ে বর্ণনাগুলো এক কথায় অসাধারণ.....কয়েক পরিচ্ছেদ পড়লেই ভাষার বিন্যাস মনকে আকৃষ্ট করে ফেলে (আমার ক্ষেত্রে যা হয়েছে)। খুব পরিচিত কাহিনী অথচ কি চমৎকার লেখনী।

কৃষ্ণকান্তের উইল এর গুনকীর্তন আপাতত থাক। এবার আসি আব্‌জাব্‌ কথাবার্তায়.....
আমার এক আত্মীয়ার চরম এস্কেলেটর ভীতি আছে। আধুনিক শপিং কম্প্লেক্সের বিজ্ঞাপণে সিঁড়ির বদলে এস্কেলেটর দেখলে তার চোখ মুখ রক্তশূন্য হয়ে যায়। কোন শপিং মলে গেলে তিনি সবার আগে সিঁড়ির খোঁজ নেন। এস্কেলেটরে উঠলে তার মনে হয় তার পা আটকে গেছে কিন্তু পৃথিবী ফুল স্পীডে ঘুরছে.....মাথাটা ভোঁ ভোঁ করতে থাকে....এসব চিন্তা করতে করতেই শেষ ধাপে এসে চরম একটা হোঁচট খান। তিনি খুব লজ্জিত হন। আমি তাকে নিশ্চয়তা দিয়ে বললাম "কোন ভয় নেই...প্রতিদিন নামাজের মোনাজাতে চাইবেন দেশের তাবৎ এস্কেলেটর যেন সিঁড়ি হয়ে যায়।"
কথাটা মজা করে এমনি এমনি বলেছিলাম কিন্তু এটা সত্য হয়ে যাবে ভাবিনি। সেই এস্কেলেটর ফোবিয়ায় আক্রান্ত আত্মীয়া ঈদের শপিং করে এসে অত্যন্ত খুশী হয়ে আমাকে একটা ধন্যবাদ দিলেন। তিনি হেসে বললেন, "এস্কেলেটরগুলো আসলেই চলেনা..."। পরে বুঝলাম সব হলো লোডশেডিং এর কেরামতি। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য কোন কোন শপিংমলে এস্কেলেটর বন্ধ করে রাখে :D। দেশের বাকি সবার জন্য লোডশেডিং অভিশাপ আনলেও তাঁর জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে :)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

BNP কেও আওয়ামিলীগের মত নিষিদ্ধ করা যায়...

লিখেছেন অপলক , ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৩



আমাদের দেশে দারুন কিছু ঘটনা আমরা সাদরে গ্রহন করেছি, যদিও সেগুলো স্পষ্ট অপরাধ।

উদাহরন স্বরুপ:
১. কেউ অবৈধভাবে টাকা ইনকাম করল, সেই কাল টাকা সাদা করার সুবিধা দেওয়া হত, দেয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

অলৌকিক ঘটনায় ভরপুর আল ইসরা ওয়াল মিরাজ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


...................................মহাশুন্যে উর্ধালোকে ভ্রমনের একটি কাল্পনিক বাহন.
পোস্টের শুরুতেই এখানে প্রচ্ছদে থাকা ছবিটি সম্পর্কে বিনয়ের সঙ্গে পরিষ্কার করতে চাই এই ছবিটি কোনো
বাস্তব ঘোড়া বা জীবজন্তুর রূপ হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উনার কি এখন নতুন পি,এইচ,ডি করা লাগবে? ;) (সাময়িক)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৫

সামু যাকে চিরতরে নিষিদ্ধ করেছে, তাঁর কথা বলছি। তিনি আমেরিকান কোন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রযুক্তিবিদ্যায় পিএইচডি করেছেন বলে শুনেছি। অথচ, সেই বিদ্যা এখন কাজে লাগছে না দেখছি!!! সামু'র 'গার্বেজ' সফটওয়্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=তোকে হলুদ ফুলের শুভেচ্ছা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩


হিমু,
কেমন আছিস? হলুদ ফুলের শুভেচ্ছা নিস
নিস শিশিরের স্নিগ্ধতা;
নিস কুয়াশার হিম আবেশ, মনে মাখিস
কেমন আছিস? আছিস কোথা?

এন্তার প্রহর গেল পেরিয়ে;
নিচ্ছিস না আর মনের খোঁজ,
কোথায় তুই গেলি হারিয়ে?
তুই কী জানিস, তোকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেছন থেকে আর ডেকো না

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৭

মায়া,
একদম বুকে হাত রেখে বলো তো,
আমি কি সত্যিই অনেক বদলে গেছি?
কারণে-অকারণে আর তোমাকে খুঁজি না,
চুপচাপ থাকি,একদম নিঃশব্দ।
যেমনটা তুমি এতদিন চেয়ে এসেছো,
প্রতিক্রিয়াহীন এক মানুষ।
কিন্তু বলো তো,
এই নীরবতা তোমার ভালো লাগবে ক’দিন?
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×