somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলিশের ঔদ্ধত্যের শেষ কোথায়?

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি শেষ হয়ে গেছি। আমাকে বাঁচান। আমার পাশে কেউ নেই। চিকিৎসা করানোরও টাকা নেই।’
এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন মো. সাজু। তিনি রোববার রাতে পোড়া বস্তিতে পুলিশের গুলিতে আহত হন। বর্তমানে মিরপুর ১০ নম্বরের গ্যালাক্সি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। সাজুর গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলায়।
এদিকে, বস্তিতে রিকশাচালককে গুলি করার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে পুলিশ।
সাজু বলেন, ‘রোববার গভীর রাতে মিরপুর থানার এসআই পলাশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ১০ নম্বরের গ্যালাক্সি হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে যান। কারো সঙ্গে কথা বলতেও বারণ করেন। সেই থেকে আর কেউ তার খোঁজ নেয়নি। সোমবার সকালে পায়ের আঙুলের কিছু অংশ অপারেশন করে ফেল দেওয়া হয়। এখন অপারেশনের পর টাকা দিতে না পারায় কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চাচ্ছে। অথচ আমার যে অবস্থা, তাতে হাঁটা তো দূরের কথা, নড়াচড়া করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই রিকশাচালক আরো বলেন, ‘ডাক্তাররা বলেছে, প্রায় লক্ষাধিক টাকা লাগবে। আমি একজন রিকশাচালক। দিন আনি দিন খাই। এত টাকা কোথায় পাব? আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সংসারে দুই দুই মেয়ে। এখন রিকশা চালাতে না পারলে চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, পরিবারের ভরণপোষণ পর্যন্ত করা যাবে না। তারপর কতদিন এভাবে থাকতে হবে তারও কোনো হিসাব নেই। আবার বস্তির ঘরও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন আমি কী করব? আপনারা একটু আমার পাশে দাঁড়ান।’
গ্যালাক্সি হাসপাতালের ৭ম তলায় চিকিৎসাধীন সাজু সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি স্মরণ করে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে বিকেল ৫টার দিকে বস্তিতে আসি। শীত থাকায় কয়েকজন আগুন পোহাচ্ছিলাম। এ সময় ওই দুই পুলিশ আসে। তারা এসেই চাঁদা দাবি করে। মোবাইল কেড়ে নেয়। প্রথমে চড়-থাপ্পর মারে। এরপর রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আমার ঠোঁট ফেটে যায়। তারা দুজন আমাকে ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে নিয়ে যায়। তখনই মনে হয়েছিল, জীবন শেষ। এখানে আনার পর প্রথমে মারধর করে। পরে পায়ে গুলি করে। মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন এ স্মৃতি ভোলার নয়। সুস্থ হলেই পরবর্তী চিন্তা করব।’
অন্যদিকে থানার একটি সূত্র বলছে, সাজুকে মূলত ওসির নির্দেশে রাতে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা যেন আর বেশি দূর গড়াতে না পারে, সেজন্য গোপনে তাকে ভর্তি করা হয়। কোনো সাংবাদিক যেন না আসতে প ারে, সাজুর সঙ্গে কথা বলতে না পারে, সেজন্য এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর এসব করা হচ্ছে ওসির নিজেকে রক্ষা করতে। কেননা ওই দুই পুলিশ সদস্য যদি দায়ী হয়, তাহলে তিনিও এর বাইরে নন। কেননা, তারা ওসির অধীনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে সন্ধ্যায় মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ভূঁইয়া মাহবুব হাসান রাইজিংবিডিকে জানান, পুলিশের কনস্টেবল রিজভি ও হারুনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। মামলা চলাকালে তদন্ত হবে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে, তাদের স্থায়ীভাবে চাকরি হারাতে হবে। এক্ষেত্রে নিজেকে বাঁচানোর প্রশ্নই ওঠে না।
পুলিশের প্রাক্তন আইজি এ এস এম শাহজাহান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের আচরণ পুরো বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই যে পুলিশ সদস্য দায়ী, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের রক্ষক দ্বারা এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘পুলিশ যা করছে, তা সব রেকর্ডকে হার মানিয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা না দিয়ে তাদের দ্বারাই মানুষ হামলা শিকার হচ্ছে। পুলিশের এত ক্ষমতা কোথা থেকে পেল, তা খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে এ ধরনের আচরণকারী পুলিশ সদস্যকে বাহিনী থেকে বের করে দেওয়ারও কোনো বিকল্প নেই। আনতে হবে বিচারের আওতায়।’

বিদ্রোহী জনতা
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৫৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×