somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডায়েরিঃ এই মাতোয়াইলা রাইতে

১৬ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


#০৫.০১.১৬.


নতুন বছরের কমন ঝামেলা শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে (ইতিমধ্যে? অভ্র দুইটাই দেখায়, আমি বিভ্রান্ত), প্রাক্টিকাল খাতা লিখছি, বছর এর জায়গায় এসে বারবার লিখে ফেলি পনেরো পনেরো পনেরো। ষোল আর হয় না। কাটাকুটি খেলার বয়স বা ইচ্ছা কোনটাই নাই, এখন সাদা কালি দিয়ে মুছে মুছে আবার লিখছি। যন্ত্রণা!

আচ্ছা বছরগুলো কেন উলটা দিকে যায় না? এই বছর ষোল। সামনের বছর পনেরো। কত সোজা হতো, ভুল হলে ষোলকে না কেটেই পনেরো বানিয়ে দেওয়া যেত। তের সালটা ভালো ছিল এদিক থেকে। টান দিয়ে চোদ্দ বানিয়ে দিয়েছি কত্ত সহজে।

চোদ্দ থেকে মনে হল, আজকাল শালীনতা নিয়ে ভাবছি। ফেসবুকে এক বন্ধুর পোস্টে যুক্তিবাচক (এবং হ, কিঞ্চিৎ আদিরসাত্মকঃ ইংরেজি বানানে হিন্দি ভাষায় "নাম তো সুনাই হোগা" বাক্যটা সহযোগে একটা কিছু লিখছিল, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম সুনা কার হোগা কার) কমেন্ট করলাম, একটু পরে দেখি ডিলিটেড। কিরে, কাহিনি কি? বন্ধুকে ধরলে বলল তাঁর বালিকাবন্ধু আছে, সে এটা দেখে সরাতে বলেছে। অবশ্যই অশালীন ছিল কথাটা। নাকি 'ফান' করে লেখা? লাইনটা কোথায়? সেটা ধ্রুব না ব্যক্তিকেন্দ্রিক?

একজনকে খুব আগ্রহ নিয়ে "এই মাতোয়াইলা রাইত" পড়ে শুনালাম, সে মুখ কুঁচকে বলল শামসুর রাহমানের নিকৃষ্ট কবিতা এটা। জিজ্ঞেস করলাম সুনীল কিংবা মলয়ের নাম শুনেছে কিনা। শ্রোতার মুখ কুঁচকানি গভীরতর হলো। এই কাহিনি দেখে বিয়ের রাতে চিন্তা করছি বউকে "প্রচন্ড বৈদ্যুতিক ছুতার" আবৃত্তি করে শোনাবো, স্রেফ রিয়াকশন-টা দ্যাখার জন্যে।

শালীনতা জিনিসটা আসলেই জানি কেম্নে কেম্নে। হদিস রাখা দায়। আমি ভেতরে পশু বাইরে যিশু এটা প্রমাণ করাই কি শালীনতার উদ্দেশ্য? আমার এক নিকটাত্মীয় আছেন যিনি স্বাভাবিকভাবে দারুণ জনপ্রিয় একজন মানুষ; প্রচন্ড মিশুক এবং সুকথক। রাতে মদ খেয়ে এসে তুমুল উৎসাহে বউ পেটান। বউও ছাড়ে না, হিংস্র কুস্তি বা জব্বারের বলি খেলার মতোন একটা চমৎকার প্রদর্শনী হয় তখন। পেটাতে পেটাতে লুঙ্গির গিঁট আলগা হয়ে খুলে যায় অনেক সময়, তিনি বউয়ের মাথা কিছুক্ষণ খামচে চুলের ওপরেই হড়হড়িয়ে বমি করে দেন। এরপরে বাইরে এসে নগ্ন অবস্থাতেই বারান্দায় সিগারেট মুখে কাটিয়ে দেন সারা রাত। তিনি কি একজন শালীন মানুষ?

শালীনতা হয়তো এটা যে, দোস্তের কাছে যে কথা চলে, মুরুব্বির কাছে চলে না; স্বপনে গোপনে যা ভাবে, সামনে এলে চেপে যায়। একটা দ্বিমুখী বিবর্তন। নানা ইনহিবিশন আর ট্যাবু সামলে মুখোশ আঁকড়ে ধরে থাকা।

কি সব লিখছি আল্লা! মাথামুথা একেবারে গেছে।


#৮.০১.১৬.


ছন্দ ঘুরে খালি মাথায়। আল্লা তুমি না দিছো গলা না দিছো শিল্পকলা, তবে এমন আছোঁলা দেবার কি মানে! যাজ্ঞা। লিখি কিছু।

"লাল ঘুড়ি
ঘোলা জল
জল ঝরে যায়
অবিরল;
বাজে মিষ্টি মিষ্টি গান
শোনো বাতাসের অভিমান
আকাশ, সবুজ ঘাসেএএএ...

লাল শাড়ি
মৃদু ছল
যেন অপ্সরা
অবিকল;
সাজে দুষ্টু দুষ্টু সাজ
দেখি ফেলে সব কাজ
আমার, চোখে ভাসেএএএ...

বেঁচে আছে
যত রঙ
তোমার মতন।
হয়ে তোমার মতন।।"


#১৬.০১.১৬.

কালকে রাত্রে মনের দুঃখে একটা কবিতা লিখছিলাম, এখন পড়ে তব্দা খাইলাম। ঘুমহীন বিরক্ত মস্তিস্ক মানেই অদ্ভুত জিনিসের কারখানা।

''আল্লার কসম আমার ঘুম আসছে না
লাইট নিভিয়ে কাঁথা আঁকড়ে শুয়েছি
বালিশটা ঠিকঠাক পড়েনি
ঘাড় ম্যাজম্যাজ করছে;
চাদরটা খসখসে, সরীসৃপের চামড়ার মতো
গা খুব চুলকোচ্ছে আমার
খুব খুব শব্দ করছে ঘড়ি
অসম্ভব চিন্তা ঘুরছে মাথায়
আর মোটেই ঘুম আসছে না।।

শালারা ঘুমোতে দে
সকালে চাস তো বিষ খেয়ে মরে যাব
এখন দুঘণ্টা ঘুমোতে দে
আমি আর কিচ্ছু চাই না।

গায়ের ওপর দিয়ে ইঁদুর দৌড়ে গেল
মোটা ওজনদার ইঁদুর
আমি নিচে শুয়ে আছি না শালারা উপরে উঠে আসছে
আঁধারে ঠাহর হয় না কিছু।
লাথ মারব? আবার কামড়ে না দেয়
ইঁদুরের কামড়ে ঘুম আসে এমন তো কোথাও শুনিনি
আমার গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, খোদা!
সারা দুনিয়া পাছা উল্টে নাক ডাকছে
আমি কেন ইঁদুরের কামড় খাব
আমাকে তোরা ঘুমুতে দে
আল্লার দোহাই লাগে।।''


#২১.০১.১৬.


ভালো মুডে আছি। চটুল গান লিখতে হাত নিশপিশ কচ্চে। আমার দোষ কি, মহান ভরতচন্দ্রও তো ষোলতম জন্মদিনে লিখেছিলেন মস্ত এক সাহিত্যকর্ম, যাকে বেশরম ইংরিজিতে বলে 'ইরোটিকা', তারপর সেই পঁচিশে গিয়ে হাত দিয়েছিলেন সিরিয়াস কাব্যে। মাঝখানে সেই রঙ্গরস-আদিকাব্য-রঙ্গরস।

তবে চটুল সাহিত্য লেখা কেন?

হাত মকশো করা। তৎকালীন নিয়ম ছিল এই- চোখকান বুজে, অমুক তমুক বিভিন্ন উপমা-রূপক ঘুঁটি মেরে একখানা জব্বর রসালো ইরোটিকা লিখে ফ্যালো, পাঠিকার গাল যত লাল হবে, বুঝবে কাব্যে তোমার ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল। অবশ্য রক্ষণশীল সমাজের ষোল বছরের পুঁচকে হয়ে, জীবনে একখানা বুকের খাঁজ না দেখেও এত রগরগে বস্তু কিভাবে লিখলেন তা গবেষণার বিষয়। হুঁ...তবে কি, পুস্কুনি-পার্শ্বস্থ আম্রবৃক্ষে চড়ে জলকেলিরত নারীদের নিরাভরণ অঙ্গসঞ্চালন দেখে কবি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন?

হেহ, এরাই তো পিম্প নামে কুখ্যাতি আনেন সাহিত্যিকের ওপরে।

পিম্প কোথাকার!



**শামসুর রাহমানের "এই মাতোয়াইলা রাইতে"

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫০
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×