বহ ুবছর পর
বহু বছর আগে একদিন,
অশ্বত্থের শাখা থেকে লাশকাটা ঘরে
গিয়েছিলে তুমি - স্বেচ্ছায়;
কিসের আশায়?
কার অন্বেষণে?
জীবনের দায়, বোঝা -
বড়বেশী ভার মনে হয়েছিল বুঝি?
লাশকাটা ঘরে গিয়ে - ভারমুক্ত হয়েছিলে?
নাকি নতুন কোন ভারের বোঝায় ক্লান্ত হয়ে, খুঁজে ফিরতেছ
অন্যকোন ঘরের সন্ধানে?
আমি জানি,
তুমি গিয়েছিলে এক বিপণ্ন বিস্ময়ের সন্ধাণে।
আজ যদি প্রশ্ন করি হে প্রপিতামহ,
"পেয়েছ কি তারে?
লাশকাটা ঘরের গুমোট গহীণ অন্ধকারে?
অথবা হয়েছ কি এতখানি ক্লান্তিমুক্ত?
যারে অভিযোগে দুষি,
নিজের সত্ত্বারে করতে চেয়েছিলে বাঁধাহীন।"
বিপণ্ন বিস্ময়!
হে পূর্বপুরুষ, আমিও খুঁজে ফিরি তারে;
তোমারই দেখানো পদচিন্ন ধরে -
প্রাণচঞ্চল ফড়িঙের মাঝে, আর
শালিকের দষ্টু উড়ে যাওয়া আর বেঁচে থাকা দেখে।
তুমি কি জান হে পরমপুরুষ?
তুমি যেইভাবে দেখেছিলে,
ঠিক সেইভাবে ; আজও;
গলিত স্থবির ব্যাঙ অথবা
সোনালী রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীট ,
জীবনের জয়গান করে।
প্রাণের পুজায় এখনও,
ভীষণ ঝড়ে ক্ষুদ্্র নারকেল-সুপারীর গাছ
বাঁচবার আকুলতায় আজও লড়ে যায়।
যে গাঢ় অবিরাম বেদণার কথা তুমি
বলেছিলে অনেক বছর আগে একদিন,
সেই অবিরাম ব্যাথা তারা জয় করে -
অবিরাম প্রাণের ছোঁয়ায়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৭:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



