আমার প্রেমমন্দিরের পাদপ্রদীপের তলে এসে,
সে আমায়
স্বপ্নের ফেরীওয়ালা হতে বলেছিল।
সে কি হবে তবে স প্নচারিনী ভিখিরিনী?
নাকি সে আমার মাথার ওপর চাপা
স্বপ্নেতে ঠাসা ঝুড়ির ভেতর থেকে
কয়েক ছটাক স্বপ্নকে নেবে শুধুকিনে -
পরম অযত্নে আর বিলাসী অবহেলায়?
সে আমার বোঝা হয়না বিলক্ষণ!
তবুও সমস্ত দিন এখন আমি
স্বপ্ন ফেরী করে বেড়াই এখানে ওখানে;
ধুলি-ধুসরিত মাঠে প্রাণচঞ্চল শিশু,
কলসীকাঁখের সলজ্জ অবনত মুখের গ্রাম্যবধু,
ভোঁ ভোঁ শব্দে দিক ভুলে গিয়ে
ঘুরপাক খাওয়া মৌমাছি -
সবাইকে লক্ষ্য করে জোর গলায় হাঁকাই,
'স্বপ্ন চাই? স্বপ্নওওওও'।
উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু,
আর দক্ষিণ মেরু থেকে উত্তর মেরুর পানে
ছুটে বেড়াই আমি দিনভর, রাতভর;
স্বপ্নের ঝোলা কাঁধে, স্বপ্নের ঝুড়ি হাতে নিয়ে।
অনন্ত বিশাল স্বপ্নের বোঝা
বয়ে বেড়াচ্ছি আমি যেন অনন্তকাল ধরে।
তবুও আমি হাতড়ে বেড়াই, মাতাল হয়ে ছুটি;
কোন এক স্বপ্নচারিনী স্বপ্নক্রেতাকে
এক বুক নিঃশ্বাসে দেখার অভিপ্রায়ে।
স্বপ্নচারিনী স্বপ্নবতী রাজকন্যা,
তোমার কথা আমি রেখেছি, অনেকদিনই তো হলো।
অথচ এখনও আমি,
সমস্তদিন স্বপ্ন ফেরী করে করে
ক্লান্ত শরীরে নদীর ধারের
সোঁদা গন্ধের ছোট্ট টিলার উপর বসে থেকে -
বিধবার শাদা শাড়ীর চেয়েও
শুভ্র সতেজ পালক-পশমের
বিরহে কাতর অশ্রুসিক্ত রাজহাঁসটাকে দেখি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



