somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বইমেলা, বই কেনা ও বাইয়ের দাম বিষয়ক ছাইপাশ ভাবনা

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন দশ টাকায় পাইজাম চাল কিনতাম, তখন বাজারের টাকা মেরে, বিশেষ করে মাছের দামটা নিয়ে চাপাবাজি করে দু'তিন সপ্তায় একটা করে সেবা'র বই কেনার টাকা উঠিয়ে ফেলতাম। এখন হিসেব করেন তো দেখি, তখন সেবার বইয়ের দাম কত ছিলো? নাহ, তিন সপ্তায় একুশ দিনের প্রতিদিন পাঁচ টাকা করে মেরে দিয়ে একশো পাঁচ টাকায় সেবার বই কখনো কিনতে হয়নি। দু'তিন সপ্তায় হয়তো বাজারে যাওয়ার সৌভাগ্য হতো পাঁচদিনের মতো, বহুত দরদাম করে মাছের বাজারে দু'টাকা কমে বিশটা কই আটত্রিশ টাকায় কিনে, বা দুই ভাগ চাপিলা মাছ আঠারো টাকায় কিনে বাসায় এসে বিশ দুগুণা চল্লিশ বা দশ দুগুণা বিশ বলে চালিয়ে দিয়ে, পাঁচ দুগুণা দশ টাকা জমিয়ে সেবার তিন গোয়েন্দা বা অনুবাদ কেনা যেত; পেপারব্যাকে দু'শো পৃষ্ঠার (আড়াইশো/তিনশোও ছিলো মনে হয়!) বই, মাত্র দশ টাকায়!!
তখন শক্ত বাঁধাইয়ের "ঝকঝকে তকতকে" অফসেটে এক-দেড়শো পৃষ্ঠার হুমায়ূন আহমেদীয় বই বা কোলকাতার অনুবাদগুলোকে অনেক উঁচু শেলফের পাঠ্য মনে হতো, বিষয়বস্তুর কারণে যতটা তার চেয়ে বেশী দামের কারণে, ওগুলোর দাম থাকতো কমসেকম ত্রিশ টাকা! কাজেই দশ টাকা সেরের চাল খেয়ে দশ টাকা দামের বই পড়েই সুখে থাকতে হতো।

এসব সুদূর কৈশোরের কথা, সেই ছিয়াশি/সাতাশি/আটাশি'র সময়ের কথা। এরপর অনেক জল গড়িয়েছে অনেক নদীতে, অনেক পাহাড়েরও বরফ গলেছে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ে, চালের দাম, কৈ মাছের দাম, মায়ের বাজারের বাজেট, মেরে দেয়া টাকার পরিমাণের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বইয়ের দামও। আজ পাইজামের দাম চল্লিশ টাকা (নাকি আরো বেড়ে গেছে!!), সে হিসেবে সেবার দু'শো পৃষ্ঠার পেপারব্যাক বইয়ের দামও হওয়া উচিত চল্লিশ টাকাই। জানিনা দাম কতো এখন। আবার, হার্ড কাভারের ঝকঝকে অফসেটের দেড়শো পৃষ্ঠার বইয়ের দামও হওয়া উচিত একশো বিশ টাকার কাছাকাছিই। যদিও নিশ্চিত করে বলতে পারছিনা যে বই প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বিশ বাইশ বছরে চালের দামের মতোই চারগুণ বেড়েছে কিনা। হিসেব করে দেখা যায় অবশ্য, কারণ এটুকু বলতে পারি যে, তখন সাদা কাগজের দিস্তা ছিলো বারো টাকা, নিউজপ্রিন্টের দিস্তা ছিলো তিন টাকা। এখন এসবের দিস্তা কত করে?

আরেকটা তথ্য, তখন খবরের কাগজগুলো এখনকার মতো ত্রিশ পৃষ্ঠাসমৃদ্ধ স্ফীত কলেবরে বের হতোনা, বড়জোর ষোল পৃষ্ঠা, দাম দু'টাকা।

ইন্টারপোলেশনের সুবিধার জন্য আরো কিছু উপাত্ত মনে করার চেষ্টা করি। সাতাশি/আটাশি থেকে একলাফে দুঝাজার দশে চলে আসলে গাণিতিক হিসেবে ব্যাড়াছ্যাড়া লাগতে পারে, তাই পঁচানব্বই ছিয়ানব্বইয়ের দিকের দামগুলোও মনে করার চেষ্টা করি। তখন পাইজাম চালের কেজি ছিলো পনেরো-ষোল টাকা (সাত আট বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছিলো), সাদা কাগজের দিস্তা ছিলো বিশ টাকা, নিউজপ্রিন্ট চার/পাঁচ, আর ইকোনো কলমের দাম অপরিবর্তিত -- তিন টাকা (কলমের কালির দাম বাড়েনি মনে হয় অনেকদিন, ছাপার কালির দাম?). খবরের কাগজের বপুও স্ফীত হওয়া শুরু করে, দামও ছিলো চার বা পাঁচ টাকা মনে হয়।


কিন্তু ব্লগে বিচরণ করে বইমেলার নানান খবরের ভীড়ে যেটা খচ্ করে লাগছে আজকাল, তা হলো, কোনভাবেই সাদা কাগজে হার্ড কাভারের দেড়শো পৃষ্ঠার উপন্যাস (এখন কেউ এত বড় উপন্যাস লেখে কিনা সেটাও প্রশ্ন) মনে হয় একশো বিশ টাকায় পড়া যাবেনা, মনে তো হচ্ছে আড়াইশোতে যেতে হবে।

বোঝা যাচ্ছে যে এখানে স্ফীতির হারটা অনেক বেশী, অন্য জিনিসের দাম যেখানে চারগুণের মতো বেড়েছে, সেখানে এসব বইয়ের দাম সাত-আটগুণ বেড়েছে।

প্রশ্নটা জাগে কেন? কাগজের দাম বেশী? নাকি হার্ড কাভারের? নাকি প্রিন্টিং কস্ট? নিশ্চয়ই বই প্রকাশে প্রয়োজন এমন কোন একটা উপাদানের খরচ অনেক বেড়ে গেছে!

আলোচনা চলুক, হয়তো একটা গ্রহনযোগ্য হিসেব কেউ তুলে ধরতে পারবেন।


(মানুষের আয় কেমন বেড়েছে? ৮৭/৮৮ এর দিকে বিসিএস অফিসাররা ঢুকতো ৩৫০০ এর কাছাকাছি স্কেলে মনে হয়, এখন কি ১৪ হাজারে গেছে?)

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৫
২৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×