নিহাত ছিল খুবই দুষ্ট। সে শুধুই তার ভাইদের অনিষ্ট (ক্ষতি) করত। সর্বদা তাদের সাথে সে ঝগড়া করত। সে ছিল খুবই কর্কশ ও অসভ্য। এসব আচরণের ফলে তার মা খুব ক্ষেপে যেত। সে তাকে সবসময় উপদেশ দিতঃ
“স্নেহের নিহাত, অন্যের অনুভূতিতে আঘাত করোনা। আর মানুষকে কর্কশভাবে বা অসভ্য কোন কথা বলিও না।”
কিন্তু নিহাত কখনও ভাবত না যে এগুলো খারাপ কাজ এবং এগুলো তার করা উচিৎ নয়। সে বরং বলতঃ
“এটা আমার দোষ না। আমি কোন খারাপ কিছু করিনি। তারা আমাকে রাগিয়েছে যে কারণে আমি তাদের সাথে এ ধরণের আচারণ করেছি। সুতরাং এতে আমার কোন দোষ নেই।”
একদিন তার মা তাকে বললঃ
“যদি তুমি আজ সারা দিন কারো সাথে কোন ঝগড়া না করো তাহলে তোমার পছন্দের ঐ বেল্টটি কিনে দিব যেটা তুমি দোকানের জানালায় দেখেছিলে এবং খুবই পছন্দ করেছিলে।”
নিহাত আসলেই বেল্টটা খুব পছন্দ করেছিল। যে কোন ভাবেই আর যে কোন কিছুর বিনিময়েই সে ওটা পেতে চাচ্ছিল।
তার অন্যান্য ভাইয়েরা তাদের মায়ের এ কথা গোপনে কানপেতে শুনে ফেলেছিল। তারা চাচ্ছিল নেহাতের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করাতে যাতে সে বেল্টটা না পায়। কিন্তু কোন কিছুতে আর তাকে রাগানো গেল না। নিহাত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, অন্ততঃ আজকের দিনটার জন্যে সে রাগবে না; শুধু আজকের দিনটার জন্যে।
সন্ধার সময় তার মা তাকে ডাকল এবং বললঃ
“আমি দেখলাম যে, সামান্য একটা বেল্টের জন্যে তুমি নিজেকে সংবরণ করতে পার। সুতরাং আল্লাহ অর্থাৎ তোমার সৃষ্টিকর্তার জন্যে তোমার তা করা উচিৎ। কেননা, এটা তার (আল্লাহর) জন্যেই করতে তিনি আদেশ করেছেন; কোন সাধারণ বস্তুগত জিনিসের জন্যে নয়।”
যদি কেউ নিহাত কে মহানবী (সা.) এর এ হাদীসটা শোনাতো!
“যে ঝগড়া-বিবাধ পরিত্যাগ করে এমনকি রাগান্বিত অবস্থায়ও, তার জন্যে জান্নাতের মধ্যে বিশাল অট্টালিকা তৈরী করা হয়।” (আল-তিরমিযী)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


