somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাল নীল গোলাপ !!!

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(১)
-এই যে মিস্টার ! ! কেমন আছেন ? এই নিন , আপনার জন্য তাজা লাল গোলাপ ।
-- প্লিজ তুমি এখন যাও । মা ডাক্তারের সাথে দেখা করতে গেছেন । তোমাকে দেখলে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন ।
- দেখুক না ! তাতে কি ? তোমার বউ হয়ে গেলে দেখবে না বুঝি ! !
-- আরে এটা তো অনেক পরের কথা । আমি এখনও তোমার কথা মাকে বলিনি । প্লিজ আমাকে আর বিপদে ফেলো না ।

- আমি তোমার জন্য এত সুন্দর ফুল আনলাম আর তুমি কিনা আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছ !
ok . . . আর কোন দিন আমার সাথে ফুচকা খাওয়ার কথা বলে দেইখো । শিক্ষা দিয়ে দিব ।
-- তুমি শুধু শুধুই রাগ করছো ।
- কেনো করবো না বলো ?
কত বার করে বললাম আর মোটরসাইকেল চালিয়ো না । শুনলে না তো !
যদি শুনতে , তাহলে কি আর আজকে এই হাসপাতালের বেডে পরে থাকতে হত ? প্রিয়জনের কথা না শুনলে এমনই হবে ।
-- বাদ দাও তো এসব কথা । কালই আমার রিলিজ হয়ে যাবে । অপেক্ষা করো । তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে ।
(২)
. . . . . কিছুদিন পর , . . . .
কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়াজকে দেখে আদ্রিতা বলল ।
--এই নিয়াজ , তুমি না বলেছিলে আমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে ? আজ কিন্তু আমার বার্থডে । আজকে সেটা দিতেই হবে । নিয়াজ
বলতে লাগলো"সারপ্রাইজটা হলো. . . . . .থাক আর বলবো না ।দেখি তুমি কতদিন সহ্য করতে পারো।"
-আমি আর পারছি না । প্লিজ বলো না . .
--ঠিক আছে । প্রথম বলে নিই ।
মাকে আমি তোমার কথা বলেছিলাম । মা , তোমার ছবি দেখে তোমার একটা উপাধিও
দিয়ে দিয়েছেন ।
- আমি জানি তোমার মা কি বলেছে । তিনি বলেছেন"২ নম্বর ছাগলের ৩ নম্বর ছাঁও"আমার যা চেহারা ! একেবারে কালো পেত্নি !
--কি যে বলো না তুমি ! শাড়িতে কিন্তু তোমাকে ভারী সুন্দর লাগে । যাই হোক আমি একটা স্কলারশিপ পেয়েছি । আগামি মাসেই M.B .A করতে আমেরিকা যাচ্ছি ।
- ভালো । খুব ভালো । সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে । বাবা তো চিরদিনের জন্যই চলে গেলেন । আপুটারও বিয়ে হয়ে গেলো । তুমিই বা থাকবা কেনো ? চলে যাও ।
-- এই যে তুমি আবার রাগ করছো । দেখো , আমি যা করছি সবই তো তোমার আর আমার
future এর জন্যই করছি ।
- আমি তো"ছেড়া পাতা"আমাকে কেউ রাখতে চায় না । আচ্ছা ? ঐ দেশে গিয়ে আমার কথা মনে রাখবা তো ? ওখানের মেয়েগুলো কিন্তু ভারী সুন্দরী !
--এখন ঈর্ষা হচ্ছে ! তাই না ? আমি প্রতিদিন তোমাকে ফোন করবো ।
- promise করো ।
-- এই যে । তোমার হাতের এই"তিল"টা ছুঁয়ে promise করলাম । মাত্রই
তো কটা বছর । দেখতে দেখতে কেটে যাবে ।
. . . . . . নিয়াজ আমেরিকা চলে যাওয়ার পর ৩ বছর কেটে গেলো । একদিন নিয়াজের বন্ধু
আকাশের সাথে আদ্রিতার দেখা হলো । আকাশ বলল"এ কি ! আদ্রিতা যে ! কেমন
আছো ?"-জ্বি ভাইয়া ভালো ।
--তা ঐ নিয়াজটার কি খবর ? ও তো আজকাল ফোনও করে না । মাঝে মাঝে ফেসবুকে চ্যাট
হতো । এখন তাকে তো অনলাইনেই পাওয়া যায় না !
- আমাকে তো গত ৬ মাস কোন ফোন করে নি !
(৩)
. . . . . .সেদিন রাতেই নিয়াজ আকাশকে ফোন করলো । নিয়াজ আকাশকে একটা প্ল্যান এর
কথা জানালো ।
আকাশ বলল"দেখ দোস্ত । তুই যে প্ল্যান করছিস । তাতে মেয়েটা মানসিকভাবে অনেক
ভেঙ্গে পরবে ।"
নিয়াজ বলল"আহা ! দেখ । আমি পরশু দেশে আসছি । এসেই ওকে ফোন করবো ।
তারপর সোজা গিয়ে উঠবো ওর বাসায় । আদ্রিতাকে একটা speical surprise দেব । তুই শুধু আমাকে একটু support দিবি ।"
(৪)
নিয়াজ দেশে ফিরেছে । ফিরেই আদ্রিতাকে ফোন করলো ।
আদ্রিতা ফোন রিসিভ করেই বললো"হ্যালো নিয়াজ । আগে বলো তুমি কেমন আছো ? কতদিন
তোমাকে দেখি না ! তুমি কবে আসবে ?"
নিয়াজ বলল"আশা করি আমাকে আর তোমার দেখতে হবে না ।
আচ্ছা তুমি কি ভাবো নিজেকে ? তোমার মতো দুশ্চরিত্র মেয়ে আমি কখনো দেখিনি !"
-আমি কিছুই বুঝতেছিনা ! প্লিজ তুমি আমাকে ভুল বুঝো না ।
-- আমি তোমার প্রতি খুব দুর্বল হয়ে পরেছিলাম । তার সুযোগটাই তুমি নিয়েছো । ছিঃ ছিঃ । তোমার মতো মেয়ের সাথে আমি সর্ম্পক রাখবো না ।
বলেই ফোনটা কেটে দিলো নিয়াজ । পাশে দাড়ানো আকাশ বললো"দোস্ত । আমার
মনে হয় তুই একটু বেশিই বলে ফেলছিস ।"
"আরে ধুর ! শোন আকাশ । ও অনেক শক্ত মনের মেয়ে । just একটু মজা করলাম । এখন
দেরি না করে চল তারাতারি ।"বলল নিয়াজ ।
(৫)
আদ্রিতাদের বাসায় পৌছে নিয়াজ হতভম্ব হয়ে গেলো । কি এক
কারনে আদ্রিতাকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে । ও সেখানে ছুটে গেলো । কিন্তু ততক্ষনে অনেক
দেরি হয়ে গেছে । আদ্রিতার ভা কান্নাভরা চোখে ওর হাতে একটা চিঠি দিলো । তাতে আদ্রিতার
হাতের শেষ লেখা
. . .
"আমি তো কোন দোষ করিনি ! তাহলে কেনো আমায় এতো বড় শাস্তি দিলে ?
সবার মতো তুমিও এই"ছেঁড়া পাতাকে"ছুঁড়ে ফেলে দিলে ! কেনো ?"
আদ্রিতার নিথর দেহটা তখন হাসপাতালের বেডে পরে আছে । চারপাশে স্বজনদের
আহাজারি । বিষক্রিয়ায় আদ্রিতার সুন্দর মুখটা নীল হয়ে খেছে । মুখের এককোনে একটু
যেনো অস্পষ্ট হাসি ।
নিয়াজ মনে মনে বলল"এই কি সেই মেয়ে ? যার জন্য আমি সারাটা জীবন অপেক্ষা করেছি ?"
আকাশের দিকে ফিরে বলল"জানিস আকাশ । ও ওই দিন কি বলেছিলো ? আমাদের সন্তান ছাড়া আর কারও জন্য ও এই বেডে শোবে না । কিন্তু ও তো কথা রাখলো না । আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলো ।"
আকাশ বলল"ও তো নিজে থেকে যায়নি নিয়াজ ! তুই । হ্যা তুই
ওকে খুন করেছিস । তুই ওকে কি surprise দিবি ? ওই তোকে সবচেয়ে বড় surprise
দিয়ে চলে গেলো । এই মজাটা না করলে কি চলতো না ? ?"
নিয়াজ আদ্রিতার নিষ্পান মুখটার দিকে চেয়ে রইলো । হটাত্ তার মনে হলো আদ্রিতা যেনো বলে উঠলো"এই যে মিস্টার ! ! এই নিন , আপনার জন্য তাজা লাল গোলাপ ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথাও কেউ নেই!

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩২

ঢাকা সিটিতে সিসিটিভি কি শুধু জরিমানা আদায়ের জন্য?

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন



রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য শুধু ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ছবি ধারণ করে জরিমানা আদায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×