এইটা আমার লেখা প্রথম গল্প। কোন সালে লেখা হইছে মনে নাই। তবে তখন টিনেজার ছিলাম এইটুকু জানি। গল্পে ভাবাবেগ বেশী। এখন অনেক কিছু অন্যরকম ভাবি আমি। কিন্তু গল্পটা বদলালাম না, কারণ ওই সময়ের ভাবনাগুলি ভালোভাবেই আসছে এতে মনে হয়। আর যে বয়সের কথা লেখা আছে ওতে, তার সাথে এখনকার আমি'র চেয়ে তখনকার আমিই ভালো রিলেট করতে পারে বোধহয়। এটাও অনলাইন ওয়েবজিন পরবাসে ছাপা হয়েছিল
--------------------
বিকাল বেলায় ঘুম ভাঙলে কিছুক্ষণ বোঝাই যায় না সকাল কি বিকাল । চোখের ওপর তখনও ঘুরে বেড়ায় টুকরো টুকরো এলোমেলো স্বপ্নের ঘোর। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা ছিঁটেফোঁটা হাসির শব্দ ঘুমের রেশটুকু আলগোছে সরিয়ে নিয়ে যায় আর সেখানে এসে ভর করে ক্ষীণ একটা মন খারাপের অনুভুতি। ঘড়ি বলছে সাড়ে পাঁচটা বাজে...অর্থাৎ রান্নাঘরে এখন ভীড় ভিষণ। সবাই তোড়জোর করছে রান্নার। ফ্লোরের বারোজন মানুষের জন্য রান্নাঘরটা বড্ড ছোট মনে হয়। চাপাচাপি লেগেই আছে, কেউ কেউ আবার রান্না শুরু করার আগেই দৌড়ে গিয়ে ডেকচি চাপিয়ে দেয় চুলায়, নিরাপদ থাকার জন্য। আজ এই যুদ্ধের ভেতর যেতে মন চাইছিল না একটুও।
দুই মাস কেটে গেল একা। ভাবাই যায় না। আমি কি বড় হয়ে গেলাম ? সত্যিই? ইউনিভার্সিটি বাসা থেকে দুইঘন্টার পথ। গতবছরও বাসা থেকেই আসতাম। যেই শুনতো চোখ কপালে তুলে বলতো - প্রতিদিন চার ঘন্টা জার্নি! মারাত্মক।
আমার অবশ্য অভ্যাস হয়ে গেছিল। কিন্তু আব্বার ধারণা এই দুরত্বের কারণেই গত বছর আমার পরীক্ষার ফলাফল ভালো হয় নি। কাজেই এই বছর এ ব্যবস্থা। আমি অবশ্য কখনোই এমন চাইনি কিন্তু কিছু বলি নি। বোধহয় অভিমান করে...
আমার এ ঘরটা অন্য ঘরগুলোর চেয়ে ছোট। এখানে এ ঘরগুলিকে বলে বক্স রুম। ছোটঘরে আমার অসুবিধা হয় না। শুধু কষ্ট লাগে জানালাটা ভীষণ রকম ছোট বলে। অন্য ঘরগুলিতে দেয়ালজোড়া জানালা। আমার জানালার ওপাশে যেটুকু আকাশ, তাও সীমাবদ্ধ। ভীষণ কষ্ট লাগে, আধুনিকতার কারাগারে, আকাশেরও স্বাধীনতা নেই অসীম হওয়ার। বিকাল প্রায় শেষ হয়ে এল। রোদটাও ন্যাতানো। জানালার সামনের ইউক্যালিপটাসেরও মনে হয় খুব মন খারাপ। ওর দিকে তাকিয়ে আবৃত্তি করি -
মন ভালো নেই, মন ভালো নেই, মন ভালো নেই
কেউ তা জানে না..
সকলই গোপন মুখে ছায়া নেই
চোখ খোলা তবু চোখ বুজে আছি,
কেউ তা দেখেনি...
ও আমার কথা বুঝতে পারে কিনা জানি না। কিন্তু তাকে মনে হয় গভীর মনোযোগী। সুনীলবাবুকে আরেকটা চিঠি লিখতে খুব ইচ্ছা হয়। কে জানে আমার চিঠিগুলি তাঁর কাছে পৌঁছায় কিনা। ইদানিং চিঠি ডাকে দেবার সাথে সাথেই ভয় করতে থাকে, মনে হয় ঠিকানায় ভুল আছে কোথাও না কোথাও। আমার চিঠিগুলি কখনোই পৌঁছাবেনা যেখানে তাদের যাওয়ার কথা।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



