somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইঞ্জিনিয়ার কবির আহমেদ মাধব
এটাই আমার একমত্র আইডি। আমার আর কোন আইডি নেই। আমার নাম,ছবি দিয়ে ফ্যাক কয়েকটা আইডি খোলা হয়েছে। সো সাবধান থাকুন। পারলে ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করুন। আমি করেছি,লাভ হয় নাই। ওদের যন্ত্রণায় কমেন্ট অপশনও বন্ধ রাখা হয়েছে ধন্যযোগ,সাথে থাকার জন্য।

১৫ ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস না আওয়ামী নেতা-কর্মীদের পিকনিক,বিরানী পার্টি দিবস!!!

১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হেডিংটা পড়েই অনেকে হয়ত মনে মনে বলতে শুরু করছেন,আসছে জামাত বিএনপির একজন! আসলে আপনাদের কোন দোষ নেই আমাদের সমাজটাই এমন যেখানে কোন না কোন দল আপনাকে করতেই হবে,না চাইলেও লোকজন জোর করে অমুক দল তমুকলীগ এর সমর্থক বানিয়ে দিবে । নিজেদের বিপক্ষে হলেই সে বিরধীদলের কেউ।

যাহোক,যা বলছিলাম। আজ সকালে হাটার জন্য বের হয়েছিলাম। রাস্তাঘাটের সবখানেই শোক শোক একটা পরিবেশ পোস্টার ব্যানারের কারনে কিন্তু যতটা না শোক তার থেকে কেমনযেন খুশির আমেজটাই বেশি দেখলাম। এমন কোন পোস্টার ,ব্যানার দেখলাম না যেখানে শোকের কথা বলে অমুক ভাই তমুক ভাই দাঁত কেলিয়ে হাসি দেওয়া ছবি দেন নাই। সব ভাই ই শোক প্রকাশ করছেন কিন্তু সুন্দর একখানা হাসিমাখা মুখ নিয়ে।

কিছু পোস্টারে ,ব্যানারে লিখা "কাঁদো বাঙ্গালী কাঁদো"
জাতীকে কাদতে বলে নিজেরা এমন করে হাসি দিয়ে কি প্রকাশ করতে চাচ্ছে? তারা আমাদের বিদ্রুপ করছে না ত? না জাতীর কাঁদার কথা মনে করে তাদের হাসি পায়। কেউ একজন বল্ল
"দাদা ,বিরানী ভুরিভোজ হবে ত তাই শত শোকের মাঝেও হাসি চাপা রাখতে পারে নাই!"

একটু সামনে আগাতেই বৈশাখী টিভির অফিসের সামনে ছোট পার্কের (এটাকে ঠিক পার্ক বলাযায় না,উচু একটা যায়গা। যেখানে আগে মুখমুখি আওয়ামী-বিএনপির অফিস ছিল। দেশের অন্য কোথাও এমন বিরল জায়গা আছে কিনা জানা নাই। যার কারনে প্রতিদিনিই দু গ্রুপের বিবাদ লেগেই থাকত তাই অফিস উঠিয়ে জায়গাটা্র চারপাশে অনেকগুলা লোক বসার জায়গা করে দেয়া হয়েছে,এখন অবশ্য আওয়ামী নেতারা আবার তা দখলে নিয়েছে ৫ই জানুয়ারির পর বিএনপি অফিসের চিহ্নও দেখি নাই) সামনে দেখলাম ছোট একটা তাবু টানানো হয়েছে,কিছু সাউন্ড বক্স দেখলাম দেখলাম। বুঝলাম শোকদিবসের ভালই প্রস্তুতি চলছে।

গত ১৫ ই আগষ্টে দেখলাম এই পার্কের উচু জায়গায় কিছু নারী মঠেল মেকাপ নিয়া বসে আছে,স্পিকারে গান বাজতেছে,পাশে বিরাট পাতিলে কিযেন রান্না হচ্ছে। সবাই হাসি তামাশা করছে,নিজেদের মাঝে। শুরুতে ভাবলাম বৈশাখী চ্যানেলের কোন শুটিং হবে মনে হয়! কিন্তু পাশে থাকা একজন ভুল ভাঙ্গালো।
"আরে,শোকদিবসের কাঙ্গালী ভোজের রান্না হচ্ছে। আর ওনারা মঠেল না! আওয়ামী মহিলালীগের নেত্রী ইনারা!!"

আমার পাল্টা প্রশ্ন ছিল "শোক দিবস না বিরানী পার্টি? আর শোক দিবসের প্রোগ্রামে এত মেকাপ,গেটাপ,হাসি তামাসা কেন?" উত্তর পাই নি। কে জানে হয় ত এটাই তাদের শোক জানানোর ভাষা বা নিয়ম!

এতগেল মহিলালীগের কথা,এবার আসি সোনার ছেলেদের কথা। তারা কিন্তু অনেক দায়িত্ববান এই প্রোগ্রামকে নিয়ে। এলাকা থেকে চাঁদা উঠানো থেকে শুরু করে স্পিকার ভাড়া করার কাজ বড়দের পরামর্শ নিয়ে এরাই করে।
সারা রাত কাজ করে তারা যখন ক্লান্ত তখন সেই লাউড স্পিকার থেকে ৭ ই মার্চের ভাষনের পরিবর্তে হিন্দিগানের আওয়াজ যদি শুনতে পান তবে অবাক হওয়ার মত কিছু না। শরীর বড়ই ক্লান্ত,একটু বিনোদন সবাই চায়। এর মাজে কেউ একজন সেই গানের তালে নেচে উঠে। গ্রাম হলে, পাশের গ্রাম থেকে চুরি করে আনা মুরগি বা খাসি দিয়ে হয় ভুরি ভোজের প্রথম প্রহর শুরু। আর শহুরেরা ত আর মুরগি ,খাসি চুরি করবে না! আসলে স্কোপ নাই ,তাই ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উঠানো চাদার টাকায় তারাও পরের দিন সকালের কাজ কর্মের শক্তি জোগাতে ভুলে না।
বোতল থেকে লাল পানি খেলে নাকি মাংস বেশি খাওয়াযায়! পুর্ব প্রস্তুতি হিসাবে তারা এই কাজটাও করে নেয়।

সকালে আসে বড়ভাই নেতাকর্মীরা,চলে মিটিং,বক্তিতা শেষে অনেকে নেমে পড়েন যারযার কাজে। কোথাও খাসি জবাই বা কোথাও গরু জবাই দেয়া হয়। সেটাকে কেটেকুটে রান্না করার উপযোগী করতে করতে দুপুর। তারপর সেই গরু বা খাসি উনুনে বসানো হয়। গানের তালে তালে হয় রান্না। এই রান্নাটা হচ্ছে এলাকার গরীবদের জন্য। যেটাকে কাঙ্গালী ভোজ বলে তারা।

রান্না শেষ হতে হতে প্রায় বিকেল হয়েযায়। নেতাকর্মীদের পেটে তখন রাজ্যের খুদা। তারা বেমালুম ভুলেযায় রান্নাটা কাদের জন্য করা হয়েছিল। খেতে বসে সবাই। নিজেরা খাওয়দাওয়া শেষ করতে করতে সুর্যি মামা বিদায় নিল বুঝি। বাহিরে এসে দেখে গরীব দুখি কেউ নাই। দেশ মধ্যম আয়ের দেশ। গরীবের বড়ই অভাব তাই দু-চারজন যা আছে তাদের কয়েক প্যাকেট দিয়ে বিদায় করা হয়।

কাঙ্গালী ভোজ বিতরন শেষে নেতা দেখলো এখনো অনেক বিরানী বাকি। আশেপাশের নিজেদের লোকদের বাসায় তা পাঠানো হয়। বড় ভাই আবার বলে, তোদের ভাবি বিরানী অনেক পছন্দ করে। আজকের বিরানীটাও ভাল হইছে। কে আছরে বাসায় কয়েক প্যাকেট দিয়ে আয়। আদেশ পাওয়া মাত্র ২০/৩০ প্যাকেট নিয়া দৌড় বড়ভাইয়ের বাসায়। এভাবেই শেষ হয় শোক দিবসের প্রোগ্রাম। তবে ব্যতিক্রমও আছে,অনেক জায়গায় ধর্মীয় উপাসানালয়ে নিহতদের জন্য দোয়া চাওয়া হয় যেটা খুবই নগণ্য।


দিন শেষে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, যাদের জন্য এই আয়োজন করা হল বা যার জন্য করা হল ,কাজের কাজ কি হল?
নেতাকর্মীদের চাদাবাজী,ভুরিভোজ,হাই ভলুউমে স্পিকারে গানবাজনা,ছাত্র-ছাত্রীদের পরাশুনার ক্ষতি ছাড়া কিছুই না।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী হয় ত জানেন না,শোক দিবসের নামে,তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু দিবসে ,তার পরিবারকে ঘিরে কতটা উল্লাশ,হাসি-তামাশা,বিদ্রুপ করা হয়! যদি জানতেন তবে প্রত্যেক নেতা কর্মীকে আদেশ দিতেন। যাও ধর্মীয় উপাসানালয়ে যাও,মৃত্দের আত্তার শান্তির জন্য প্রার্থনা কর।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১০:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

**চিঠি ০৩ : ক্যাফের চিঠি** ☕️

লিখেছেন চারাগাছ, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০৫




বহু বছর পর আজ তোমাকে দেখলাম।

একটা ক্যাফেতে।

জানালার পাশের টেবিলে বসে ছিলে তুমি। সামনে একটা বই, পাশে একটা Affogato। মাঝে মাঝে কফিতে চুমুক দিচ্ছিলে, আবার বইয়ের পাতায় চোখ রাখছিলে।

আমি ক্যাফেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×