কোন সন্দেহ নেই প্রথমআলো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা পত্রিকা। তবে ইদানিং তাদের কিছু কলাম,বা নিউজের ধরন দেখে আপনি নিজেও কনফিউশনে পরেযাবেন,প্রথোম আলো পড়ছি ত না অন্যকোন অনলাইন পত্রিকা? যারা এমন কিছু মানহীন নিউজ প্রকাশ করে যার হেডিং এবং ভিতরের লিখার সাথে আকাশ পাতাল পার্থক্য।
সেদিন বাসে এক হকার চিৎকার করে বলছে
"আত্বহত্যা করলেন মোনালিসা,আজকের গরম খবর,আত্ত্বহত্যা করলেন মোনালিসা!"
নিউজটা পড়ার জন্য আর তর সইছিলো না। এত জনপ্রিয় এক মঠেল কেন আত্ত্বহত্যা করবেন! আমি সহ বাসের অনেকেই পত্রিকা কিনলাম শুধু ঐ নিউজটা পড়ার জন্য। নিউজটা পড়ে নিজের মুখ দিয়ে আনায়েসে বের হয়েগেল "মাননীয় প্রথোমআলো আমি ত সাকা চৌধুরী হয়েগেলাম"
কোন এক নাটকে আত্ত্বহত্যা করেছেন মোনালিসা। আর তার হেডিং ছিল এমন।
এতগেল কিছু উদ্ভট টাইপের হেডিং র কথা,এবার নিউজ।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর এক পুত্র সন্তানের জন্মদিয়েছিলেন। প্রথোম আলো তার ৫/৬ মাস আগ থেকেই নিউজ প্রকাশ শুরু করেছেন। শাবনূর এখন কেমন আছেন!,কতটুকু ওজন বাড়ছে,স্বামী অনিক সাহেব সময় দিতে পারছেন না,বাচ্চা পেটে কয়টা লাথি মারছে থেকে শুরু করে বাচ্চা হওয়ার পর ওয়াও কান্না পর্যন্ত প্রতিদিন ফলাও করে নিউজ ছাপা হল। অনেকে দেখলাম ফেসবুকে ফান করে শাবনূরের সেই বাচ্চাকে বেবি অফ দ্যা ইয়ার ঘোষনা করল।
১০/১৫ দিন আগে বাংলাদেশের কোন এক অখ্যাত মঠেল,অভিনেত্রী রোমানার বিয়ে নিয়েও শুরু করছে তেলেস্মাতি। রোমানা কোন শাড়ী কিনলেন,ডিজাইন কে করল,গহনা কোথা থেকে কিনলেন,সেটার ডিজাইন কে করল,হাতে মেহেদি নিয়ে রোমানার অপেক্ষা এই টাইপের হেডিং দিয়ে নিউজ।
ভাবলাম রোমানা হয়ত বাংলাদেশের খুব নামকরা মঠেল বা অভিনেত্রী হবেন যা আমি জানি না । পরে জানলাম তাকে যেভাবে হাইলাইটস করছে তার ধারে কাছেও তিনি নাই। অনেকে দেখলাম প্রথোম আলোর অনলাইনে কমেন্ট করছেন এই নিউজ দেয়ার কি দরকার ছিল! ভাল এবং গঠনমুলক নিউজ দেন।
এবার শুরু করছে, ভারতের নাগরিক সুন্দর পিচাইকে নিয়ে,যে কিছুদিন আগে গুগলের প্রধান নির্বাহী হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এমন একটা সুন্দর নিউজ প্রকাশ করলে হয়ত আমাদের দেশের তরুন সমাজ উৎসাহী হবে এধরনের পদে নিজেদের নিয়েযেতে।
প্রথম দিন নিউজটা পড়লাম ভালই লাগলো। অনেকে মন্তব্য করছেন,তাদের ইচ্ছার কথা বলছেন,বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থার কিছু ত্রুটি এবং ভারতের সাথে আমাদের তুলনা বা পার্থক্যগুলো মন্তব্যকারিরা দেখাচ্ছিলেন। মুল লিখা থেকে মন্তব্যগুলো পড়তেই ভাল লাগছিল। এক হিন্দু ছেলের মন্তব্যে চোখ আটকালো, সে বলছে মাদ্রাসা বন্ধ করে দিতে,মাদ্রাসায় পড়ে এ পদে যাওয়া যায় না। আরে বেটা তুই মাদ্রাসার বারান্দা পর্যন্ত জাস নাই তুই বুঝবি কিভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার গুরুত্ত্ব। ভারতের অনেক মাদ্রাসা আছে যেখানে মুসলিমদের থেকে হিন্দু ছাত্র সংখ্যা বেশি। কারন সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষা স্কুল শিক্ষা থেকে এগিয়ে আছে যা আমাদের দেশে অবহেলিত। দু একজন দেখলাম কাওমী মাদ্রাসাকে কটুক্তি করছে। এত বড় বড় পাশ দিয়া ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে লাভ কি যদি না বাবা-মা মরার পর তাদের কবর কিভাবে জিয়ারত করতে হয়,কিভাবে তাদের জন্য দোয়া করব তা না জানি!
যাহোক তার পরদিন প্রথোমআলোর অনলাইন সংস্করনে দেখলাম "কে এই সুন্দর?" এই টাইপের একটা হেডিং সংবলিত নিউজ। সেখানে তার জীবন ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে,যা আগের দিন কিছুটা দেইয়া হয়েছিল।
তার পরের দিন দেখলাম সে কোথায় পড়ছে,বাবা কি করে,মা কি করছে,কিভাবে সে এখানে এল সব দিয়েছে। এটা দোষের কিছু না,আমাদের তরুনদের জানার দরকার আছে,কিভাবে ছোট থেকে বড় হতে। কিন্তু এক মুরগি কয়বার জবাই দিবেন?/ এক নিউজ বারবার ঘুরিয়েফিরিয়ে।
এর পরদিন দেখলাম পিচাইকে বলিউডের হিরো বানাইয়া দিছে। কার সাথে প্রেম করেছেন,ডেট করেছেন সব। সেখানেও তার জীবন ইতিহাস,যা আগের দিনেই প্রকাশ করা হয়েছে।
আজও তাকে নিয়ে লিখা হয়েছে,বিরক্ত হয়ে আর্টিকেলটা পড়িও নাই। আর কত? এক নিউজ নিয়ে ঘুরিয়েফিরিয়ে ত্যানা প্যাচাবে।
প্রথোমআলো যদি তাদের এই নিউজ বড় করা বা উদ্ভট টাইপের নিউজ প্রকাশ বন্ধ না করে তবে খুব শিগ্রেই তারা পাঠক সমাজে তাদের গ্রহনযোগ্যতা হারাবে।
প্রথোমআলোর যারা সাংবাদিক,কলামিষ্ট আছেন তারা আমার থেকে অনেক অনেক গুন জ্ঞানী। আমি শুধু পাঠক হিসাবে আমার মন্তব্যটুকু তুলে ধরলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৯:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



