
পায়খানা, টাট্টিখানা, প্রক্ষালন কক্ষ, টয়লেট, বাধরুম, শৌচাগার কিংবা হালজামানায় ওয়াশরুম যেটাই বলি না কেনো, এই টয়লেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অংশ। একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৩/৪ বার টয়লেট ব্যবহার করে।
প্রাকৃতিক এই কর্মটি করতে আমাদের যেমন দরকার সেইফ একটি ক্ষেত্র তেমনই দরকার সচেতনতা। আর এই সেইফ ও সচেতনতার বিষয় মাথায় রেখে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গানাইজেশন ২০০১ সালে সারাবিশ্বে টয়লেট ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন সম্পর্কে ক্যাম্পেইন শুরু করে।
এরপর থেকে প্রতিবছরের ১৯ শে নভেম্বর টয়লেট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
একটা সময় বাংলাদেশের অঞ্চলগুলোতে অধিকাংশ বাড়ির কোণায় খোলা শৌচাগার দেখা যেত। খালের পাশে, পুকুরের কোণায় থাকতো মলত্যাগের স্থান কিংবা ফাঁকা যায়গা দেখে মানুষ বাধরুম করতে বসে যেত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে।
সরকারি হিসাব বলছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থসম্মত টয়লেট ব্যবহার করছে।
কিন্তু বাস্তব হিসাবটা একটু ভিন্নই। বাংলাদেশের অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দাবী করে আসছে, এখনো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। মানুষ এখনো খোলা যায়গায় মলত্যাগ করছে, সচেতন হচ্ছেনা।
বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির সময় গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। আমাদের বাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলেই বলা চলে। বাড়ির পাশেই নদী, চর, কাশবন ও নদীর কূলের শষ্যক্ষেত। ইচ্ছে হয় বিকেলবেলা একটু নদীর কূল ধরে কিছুদূর হাটতে। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারিনা। মলমূত্রের দুর্গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে আসে। গ্রামের মানুষ এখনো টয়লেট ব্যবহারে অনেকটাই অনিচ্ছুক, তারা খোলা যায়গায় টাট্টি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। যদিও অধিকাংশের বাড়িতে টয়লেটের ব্যবস্থা আছেই।
অর্যমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০১৩ সালের বাজেট বক্তৃতায় বলেন, দেশের ৯০ শতাংশ পরিবারকে স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আনা হয়েছে।
যদিও বাস্তব চিত্র আমরা ভিন্নই দেখি।
আওয়ামীলীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সকল মানুষের জন্য উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার কথা বলেছিলো। কিন্তু তা তারা আজও করতে পারেনি। ঢাকা শহরের পাবলিক টয়লেটের পরিসংখ্যান ও অবস্থাদৃষ্টে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের প্রায় একশো কোটি মানুষ এখনো বনে-বাদাড়ে, খালে-বিলে, নদীর তীরে কিংবা রাস্তার পাশে মলমূত্র ত্যাগ করে চলছে। এবং বিশ্বের আড়াইশো কোটি মানুষের জন্য উন্নত শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই।
এর ফলে ইবোলার মত জটিল রোগ ছড়াচ্ছে। মলমূত্রের দ্বারা কলেরা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগ হয়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতেছে।
আজ বিশ্ব টয়লেট দিবস। আসুন, টয়লেট ব্যবহারে সচেতন হই ও এব্যপারে আমাদের আশেপাশের মানুষকে সচেতন করে তুলি। আমাদের গ্রামগুলো যেন এব্যপারে আরো সচেতন হয় সেজন্য সরকারি উদ্যোগ আরো জোরদার হোক সে কামনা।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


