somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গালিব আফসারৗ
পড়ছি দর্শনশাস্ত্র নিয়ে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখালেখির চেষ্টা করি, তা ফল হিসেবে কাব্যগ্রন্থ "ভালোবাসা এবং অন্যান্য অশ্লীলতা" বইমেলা '১৭ তে প্রকাশিত হয়েছে। একা থাকতে ভালোবাসি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলো দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষার হাতিয়ার

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ প্রণয়নের দ্বারা সরকার আসলে মন্ত্রী-এমপি এবং দুর্নীতিবাজ আমলা, সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের দোষত্রুটি জনগণের কাছে থেকে লুকানোর পায়তারা খুঁজেছে বলেই মনে হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এরই মধ্যে বলেছেন, " আপনারা (সাংবাদিকরা) গণমাধ্যমে যেভাবে মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে রিপোর্ট করেন তাতে তাদের মান-ইজ্জত থাকেনা। তাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। তারা তো জনপ্রতিনিধি। তাই এগুলো ঠেকাতেই এ আইন করা হয়েছে।"

তোফায়েল আহমেদের এই বক্তব্য বিশ্লেষণ করলেই খুব সহজে বুঝে নেয়া সম্ভব যে, ৩২ নং ধারা মন্ত্রী-এমপিদের পাপ লুকোনোর প্রচেষ্টা মাত্র। কেননা, গণমাধ্যমে এমনকি সংবাদ তাদের নামে প্রকাশিত হয় যার জন্য তাদের মান ইজ্জত থাকেনা? নিশ্চয়ই তা তাদের অপকর্মের খবর? তাদের ভালো কাজের সংবাদ প্রকাশে তো তাদের ইজ্জত যাওয়ার কথা না কিংবা একজন সাংবাদিক তো আর কোন মন্ত্রী-এমপিদের নামে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করে তার কর্মজীবন বিপদগ্রস্ত করে তুলবেন না।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে–‘যদি কোনও ব্যক্তি বে-আইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনও সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ কোনও সংস্থার কোনও ধরনের অতি গোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত, কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনও ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ।’

সাধারণত, যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানগত গোপনীয়তা রক্ষা করার অধিকার আছে, এটা আইন দ্বারা সিদ্ধ। কিন্তু যখন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি, ঘুষ, অন্যায় কোন কর্মে লিপ্ত হয় তখন তাদের গোপনীয়তা রক্ষা নাও হতে পারে। তখন আমরা অনেক সময়ই দেখি কোন সাংবাদিক অথবা স্ব-উদ্যোগী কোন ব্যক্তি গোপনে ঐ অন্যায়কর্মের প্রমাণ সংগ্রহ করে তা গণমাধ্যম/সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন,যাতে অন্যায়কারীর শাস্তি হয় সেজন্যই।
কিন্তু ৩২ ধারা প্রণয়নের পরে কোন সাংবাদিকের বা ব্যক্তির ঐরুপ কোন ঘুষ, দুর্নীতির গোপন তথ্য সংগ্রহ করা বে-আইনি বলে বিবেচিত হবে এবং এর জন্য তথ্য সংগ্রহকারীর জেলও হবে।

কথা হলো, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন '১৮ এর ৩২ ধারাতে অনুমতি ব্যতিরেকে তথ্য সংগ্রহ করাকে গুপ্তচরবৃত্তি বলা হয়েছে আর এই গুপ্তচরবৃত্তি রুখতেই এই আইন। কিন্তু গুপ্তচরবৃত্তি রোখার জন্য তো পূর্ব থেকেই একটি আইন ছিলো। তাহলে আবার নতুন করে এই আইন কেনো? গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার জন্যই এই আইন কি? যাতে সংবাদকর্মীরা স্বাধীনভাবে ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়ের দলিল সংগ্রহ করতে না পারে?

সাংবাদিক, বিশ্লেষক, বিরোধীদল, সচেতন মহল মনে করছেন এই আইন বিলুপ্ত ৫৭ ধারার চেয়েও ভয়ংকর এবং মন্ত্রী-এমপি, আমলা, সরকারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সুরুক্ষায় এই আইন করা হয়েছে। যাতে কোন সাংবাদিক আর গোপনে কারও ঘুষ খাওয়ার তথ্য রেকর্ড করতে না পারে, কিংবা গোপনে কেউ যাতে মন্ত্রী-এমপিদের পাপকে ডিভাইসে ধারণ করে জনসম্মুখে আনতে না পারে।

কেনোনা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী দেখা যায় যে, মন্ত্রী-এমপি, পুলিশ প্রশাসন, আমলা, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, অনাচার, অন্যায়মুলক কর্মকাণ্ড কোনভাবে যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ করে তাদের বিপাকে ফেলে দেয়া না হয় তারই জন্য এই আইন সাজানো।
অনেকে মনে করেন, যেহেতু সামনে নির্বাচন, তাই নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের কোন খারাপ খবর প্রকাশ পাওয়া আত্মহত্যার শামিল, তাই ৩২ নং ধারার দ্বারা ফাঁক খোঁজা হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই হাজার বছরের এক খেলা কীভাবে জমিদারি হয়ে উঠল

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯



১৮৮৩ সালের ৩১ মার্চ, লন্ডনের কেনিংটন ওভাল। এফএ কাপের ফাইনাল।

এক দলের নাম ওল্ড এটোনিয়ানস। ইটন কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের দল। ওইদিন মাঠে নামা এগারোজনের ভেতর ছিলেন একজন ব্যারনেট, একজন ল্যাটিন ভাষার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×