

তখন সবে ভার্সিটিতে এডমিট হয়েছি। ফার্স্ট সেমিস্টারের ক্লাস হালকাপাতলা শুরু হয়েছে। ক্লাসে আসি, যাই। নতুন ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডা হয়। এরই মাঝে একদিন ক্লাসে স্যারের হস্তক্ষেপে ফ্রেন্ডদের সমর্থনে সি আর নির্বাচিতও হয়ে যাই।
সি আর নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনের কথা, ক্লাসে বসে আছি। এক অপরিচিত বড় আপু দরোজায় দাঁড়িয়ে আমার নাম ধরে ডাকছিলো। আমি উঠে নির্দেশনা অনুসারে উনার সাথে চলে গেলাম। ঐ আপু আমাকে কলাভবনের পাঁচতলায় নিয়ে গেলেন, যেখানে আরো তিনজন আপু ছিলেন। (কয়েকব্যাচ সিনিয়র ওনারা, কোন ব্যাচের সেটা বললাম না।)
গিয়ে সালাম দিলাম। আমাকে সামনে দাঁড়া করিয়ে রেখে উনারা আমার ঠিকুজি কুষ্ঠী জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, আমি জবাব দিতে থাকলাম। তারপর উনারা শুরু করলেন আসল র্যাগিং....
১ম আপুঃ এই তুমি ২০ টা বাংলা সিনেমার নাম বলো তো।
-আমি মাত্র ৫/৬ টা বলতে পারলাম, ঐ মুহূর্তে আর মনে পড়তেছিলোনা।
আপুঃ বস্তির রানী সুরিয়া মুভি দেখেছো?
- জি আপু।
আপুঃ ঐ মুভির নায়কের একটা ডায়লগ বলো তো।
- মনে নাই আপু। আর আমি ডায়লগ মনে রাখতে পারিনা।
২য় আপুঃ প্রেম করো? গার্লফ্রেণ্ড আছে?
- না আপু, নাই। প্রেম করিও নি।
আপুঃ কি! ভার্সিটি পড়ো আর এখনো প্রেম করোনি? মিথ্যে বলার যায়গা পাওনা, সত্য করে বলো।
-আমি প্রেম করিনি আপু।
৩য় আপুঃ প্রপোজ করেছো কাউকে?
-না আপু।
আপুঃ প্রপোজ কিভাবে করে জানো?
-না আপু জানিনা। করিনি তো কখনো।
আপুঃ (আমাকে একটা কলম ধরিয়ে দিয়ে) এই নাও, মনে করো এটা একটা গোলাপ। এখন এই গোলাপ দিয়ে তোমার ঐ আপুকে প্রপোজ করো, যাও।
- (আমতাআমতা করে) আপু আমি পারব না।
আপুঃ কি বলো, পারবে না! তোমাকে প্রপোজ করতে হবে, যাও বলছি।
-আমি নিরুপায় হয়ে ঐ আপুর কাছে গিয়ে কলমটা উঁচু করে ধরে বললাম "আই লাভ ইউ সো মাচ, উইল ইউ লাভ মি?"
৪র্থ আপু- এভাবে কেউ প্রপোজ করে কাউকে? এক হাটু মাটিতে রেখে ফুল উঁচু করে ধরে রোমান্টিক ভাবে বলতে হবে। তুমি যেভাবে বলছো তাতে কোন মেয়ে রাজী তো হবেই না বরং থাপ্পড় খাবা। এক হাটু নীচে ফেলে আবার প্রপোজ করো।
-আমি হাটু মাটিতে ফেলে ইতস্তত আর থতমত করে কয়েকটা কথা বলে ফেললাম। আপুরা দাত বের করে জোরেশোরে হাসতে থাকলো।
এরপরে আরেক আপু বললোঃ তুমি কি কোন মেয়েকে কিস করেছো এ পর্যন্ত?
-(আমি অত্যধিক ইতস্ততভাবে জড়সড় হয়ে গেলাম) না আপু, না। কি যে বলেন!
আপুঃ (হাসতে হাসতে) কিস করোনি এখনো? আচ্ছা কিস কিভাবে করে তা জানো?
-আপু আমি জানিনা।
২য় আপুঃ জানোনা? ইমরান হাশমির গান দেখোনি?
-না, দেখিনি তো।
আপুঃ দেখোনি? মিথ্যে কথা এটাও। আচ্ছা, তোমাকে বলে দিচ্ছি কিভাবে কিস করতে হয়। কোন মেয়েকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমো খেতে হয়, এটাকে লিপকিস বলে। বুঝেছো?
আমি আপুদের এরকম খোলামেলা কথায় যারপরনাই চমকে গেলাম, লজ্জিত হলাম আচ্ছাকরে। মাথানিচু করে হাত কচলাতে কচলাতে কিভাবে উদ্ধার পাওয়া যায় তা ভাবছি। তখন আরেকদিক থেকে এক আপু বললো, তুমি তোমার এই আপুকে লিপকিস করে দেখাও তো, কিস কিভাবে করে বুঝেছো কি না দেখি।
-(আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম, এটা কি বলে! ) আপু, এটা কি বলছেন! আমি পারব না এটা করতে। সম্ভব না।
আপুঃ পারবেনা মানে! অবশ্যই পারবে। কত্তবড় সাহস ছেলের মুখের উপরে না করে দেয়! এক্ষুনি তোমার এই আপুকে কিস করে দেখাও, আপুর ইচ্ছা হয়েছে তোমার থেকে কিস পাওয়া, যাও।
অন্য তিন আপুও জোর করে বলতেছিলো কিস করতে। কিন্তু আমি রাজী হচ্ছিলাম না, মনে হচ্ছিল হয়ত উনারা শুধু মজা করার জন্যই বলেছে, সিরিয়াস না। ভীত হয়ে পড়ছিলাম দ্রুতই, একে তো নতুন ভার্সিটিতে। ভাবছিলাম কিস করলে আবার কি থেকে না জানি কি হয়ে যায়। এদিকে ওনারা বলতেছিলো, আমি যদি কিস না করি তাহলে ছাড়বে না আমাকে। প্রত্যেকদিন এভাবে র্যাগ দেবে, আরও কিছু।
আমি পড়ে গেলাম বিপদে, কি করি এখন! ভাবলাম, কি হয় হবে। একটা লিপকিসই তো, উনারা যদি নিতে পারে তবে আমার অসুবিধে কি? যা আছে কপালেরফের, এগোও!
-পাঠক, এরপরে কি হয়েছিলো, আমি কি লিপকিস করেছিলাম উনাকে, নাকি করিনি। তা বললাম না। রহস্য থেকে যাক।
(এটি একটি সত্য ঘটনা, যা লেখকের জীবনের সাথে ঘটেছিলো)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




