somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গালিব আফসারৗ
পড়ছি দর্শনশাস্ত্র নিয়ে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখালেখির চেষ্টা করি, তা ফল হিসেবে কাব্যগ্রন্থ "ভালোবাসা এবং অন্যান্য অশ্লীলতা" বইমেলা '১৭ তে প্রকাশিত হয়েছে। একা থাকতে ভালোবাসি।

একটি ফেসবুক স্টাটাস এবং শত সহস্র গালাগালের তুবড়ি (ধর্মান্ধ বাঙালীর কথা)

২৩ শে মে, ২০১৮ সকাল ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একদিন আগে, আমি আমার ফেসবুক ওয়ালে একটা পোস্ট দিই।
সম্প্রতি সৌদি ফেরত ৬৬ জন বাংলাদেশী গৃহকর্মীর সাথে হওয়া নির্মম যৌন নির্যাতনের প্রেক্ষিতে।
সৌদির অধিকাংশ ধনকুবের-ই মনে করে যে, তাদের বাসায় কাজ করতে আসা ভিনদেশী মেয়েরা হলো দাসী, এই দাসীর সাথে যথেচ্ছা ব্যবহার করা যাবে, এবং এদের সাথে যৌন মিলনেও কোন বাঁধা নেই। তাই তারা এই বিদেশ থেকে পেটের দায়ে কাজ করতে যাওয়া অসহায় মেয়েদের একবার পিতা, আরেকবার ছেলে মিলে ধর্ষণ করে। এবং ইসলামের লেবেল মেরে এটাকে তারা বৈধ করে নেয়।
যেহেতু দাসীদের সাথে যৌন মিলন করা ইসলামে বৈধ ছিলো, এই প্রেক্ষাপট ধরে তারাও কাজের মেয়েদের দাসী ভাবে আর তাদের সাথে মিলনে নেমে পরে, নির্মমতার চরম দৃষ্টান্ত।

আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছরই অনেক সংখ্যক মহিলা সৌদিতে কাজ করতে যায়, গৃহকর্মী হয়ে। কিন্তু এই মেয়েদের সাথে সৌদির কুলাঙাররা নির্মম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত দেখায়। আর তারপর, পেটের দায়ে অসহায় হয়ে নিজের পরিবার পরিজন, এলাকা দেশ ছেড়ে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বিদেশে চলে যাওয়া মেয়েরা এমন নির্মমতার স্বীকার হয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়, এবং ফিরে এসে যখন তাদের সেই করুণ কাহিনী বর্ণনা করে টিভিতে, পেপারে; তখন আমার দু চোখ বেয়ে পানি পরে। খুব কষ্ট লাগে।

আর এই অনুভূতির কথা ব্যক্ত করতে যখন আমার ফেসবুক ওয়ালে একটা পোস্ট দেই, সৌদিদের নিন্দা করে, দাসীর সাথে সেক্স করার বিষয়ে ব্যাঙ্গ করে, তখন আমি আমার ধর্মান্ধ ফেসবুক বন্ধুদের কাছে খারাপ মানুষ বলে গণ্য হই। তারা আমাকে ইসলাম বিদ্বেষী বলে গালাগালির পাহাড় ছুড়তে থাকে। এমন অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতে থাকে, কমেন্ট করতে থাকে যে আমি খুব হতাশ হয়ে যাই।
এমনকি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত অপরিচিত অনেকে মিলে আমাকে মারার প্লান করতে থাকে, আমাকে হুমকি দিতে থাকে।

আধুনিক এই সভ্য সমাজে বসবাস করেও আমরা কতোটা নীচু মনা, সৌদিকে গালি দিলে আমাদের ধর্মে আঘাত লাগে, ইসলামের একটা বিষয় নিয়ে কথা বললে তাদের পছন্দ না হলে গালাগাল করে, মারার হুমকি দেয়।
আমরা আর তাহলে সভ্য হতে পারলাম কই। এ থেকে তো আইয়ামে জাহিলিয়াত মন্দ ছিলো না মনে হয়।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১৮ সকাল ৭:৪৫
২৫টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন মরুঝড়: রেড নোটিশের খোঁজে আরিয়ান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:১৬



দুবাইয়ের জুমেইরাহ বিচের বিলাসবহুল পেন্টহাউসের কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের কৃত্রিম দ্বীপগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলেন সায়েম চৌধুরী। একসময় ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×