somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুহাম্মদ তমাল
আমি তমাল। তমাল মানে তমাল বৃক্ষ! আমি বৃক্ষের মতোই সরল, সহজ এবং মোহনিয়। পেশায় একজন পুরঃ কৌশল প্রকৌশলী। কাজ করেছি দেশের স্বনামধন্য কোন এক দপ্তরে। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানীতে অবস্থান করছি। আমি ভালবাসি মানুষ,দেশ এবং পরিবেশ। ধন্যবাদ।

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত, অবিচল, অনন্ত। সহস্রাব্দ ধরে মানুষের সুখ, শোক, পরাজয়, বিশ্বাসঘাতকতা আর প্রার্থনার নির্বাক সাক্ষী হয়েও তোমার কোনো উচ্চারণ নেই।
আমার সমস্ত অন্তর্দহন, সমস্ত ব্যর্থতার ইতিহাস, সমস্ত নিষ্ফল পথপরিক্রমা-সবকিছুর সাক্ষী তুমি। আমি বারবার পরাজিত: কখনো নিয়তির কাছে, কখনো মানুষের নিষ্ঠুরতায়, আর সবচেয়ে বেশি নিজের ভেতরের ভাঙনের কাছে। প্রতিবার ভেবেছি, এবার বুঝি নিজেকে খুঁজে পাব, অথচ প্রতিবারই নিজেকে আরও দুর্বোধ্য, আরও অপরিচিত লেগেছে।

একসময় অশ্রুও তার দায়িত্ব ভুলে যায়। চোখ শুকিয়ে আসে, কিন্তু বুকের ভেতরকার বিপর্যয়ের প্রতিধ্বনি থামে না। পাঁজর ভাঙার শব্দ বাইরের পৃথিবী শুনতে পায় না, অথচ আত্মা সেই শব্দে প্রতিনিয়ত বিদীর্ণ হয়। তবুও অভিযোগ করিনি- কারণ বুঝে গেছি, সৃষ্টির কিছু নির্মম সমীকরণ আছে, যার ব্যাখ্যা মানুষের অভিধানে লেখা নেই। কখনো মনে হয়, সৃষ্টিকর্তা কি সত্যিই এত নির্দয়? নাকি নির্দয় আসলে সময়, নিয়তি আর অস্তিত্বের এই অমোঘ পরিহাস? যাকে হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিই, সে-ই একদিন মহাশূন্যের দূরতম নক্ষত্রের মতো দূরবর্তী হয়ে যায়। যে স্বপ্নকে বুকে ধারণ করি, তারই মৃত্যু ঘটে সবচেয়ে নিঃশব্দে।

আমরা এতবার কেন পরাজিত হই?
জীবন, তুমি আকাশের ভবঘুরে মেঘের মতো এত উদাসীন কেন?
কেন তোমার প্রতিটি প্রতিশ্রুতির অন্তরালে লুকিয়ে থাকে অনিশ্চয়তার অতল গহ্বর?
কেন প্রতিটি আলোর শেষে তুমি আরও দীর্ঘ অন্ধকারের আয়োজন করো?

অনুপ্রেরণার সন্ধানে বহুবার শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভিজেছি। সেই ভেজা বিকেলগুলোতে নিজেকে দিকশূন্য মনে হয়েছে। তখনই উপলব্ধি করেছি, মানুষ উত্তর খুঁজে বড় হয় না, বরং উত্তরহীনতার ভার বহন করেই পরিণত হয়।
যে প্রশ্নের কোনো সমাধান নেই,
সেগুলোকে বুকে নিয়ে পথ চলার নামই হয়তো জীবন।
প্রিয় আকাশ,
তুমি প্রতিদিন সূর্যাস্তের বিলুপ্তি দেখো, আবার সূর্যোদয়ের পুনর্জন্মও প্রত্যক্ষ করো। তাই আজ তোমার কাছে সুখ প্রার্থনা করি না, অলৌকিক কোনো মুক্তিও চাই না। শুধু এইটুকু চাই-যখন আবার বিপর্যয় আমাকে গ্রাস করবে, তখন যেন আত্মার অস্তিত্ব হারিয়ে না ফেলি, যখন আবার ভেঙে পড়ব, তখন যেন ভস্মস্তূপের ভেতর থেকেও পুনর্জন্মের সাহস খুঁজে পাই।
যদি কোনোদিন আমার অস্তিত্ব পৃথিবীর স্মৃতি থেকে মুছে যায়, তুমি শুধু এটুকু মনে রেখো-এক পথিক ছিল, শত পরাজয়ের পরও যে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিশ্বাস করত,
নৈঃশব্দ্যেরও একদিন ভাষা হবে, আর সমস্ত অন্তর্দহনের ওপারে হয়তো অপেক্ষা করে আছে কোনো অনন্ত প্রশান্তি। কারণ,
"আমাদের প্রতিপালক আমাদের কখনো নিরাশ করেন না"।

-মুহাম্মদ তমাল
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×