somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গালিব আফসারৗ
পড়ছি দর্শনশাস্ত্র নিয়ে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখালেখির চেষ্টা করি, তা ফল হিসেবে কাব্যগ্রন্থ "ভালোবাসা এবং অন্যান্য অশ্লীলতা" বইমেলা '১৭ তে প্রকাশিত হয়েছে। একা থাকতে ভালোবাসি।

ছোটগল্পঃ মন ভেঙে উড়ে যায় আকাশে

১২ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



- "বাবুসোনা, ঘুমুবে কখন?" নীরা খুব আস্তে করে বললো। নীরার শীতল সুন্দর কণ্ঠে নিশ্বাসের গরম বাতাসও যেন ফোনের এই প্রান্ত থেকে আমার কানে এসে সুরসুরি দিয়ে গেলো। আমি বললাম,
- হ্যা গো, ঘুমুবো তো। কিন্তু আরো কিছুক্ষণ যে কথা বলতে ইচ্ছে করছে খুব....
- ইশ, আর কথা বলতে হবে না। জানো কত রাত হয়েছে? সাড়ে তিনটা বাজে এখন, কাল সকালে আবার তোমার ক্লাস আছে। যাও ঘুমিয়ে পড়ো।
-উহু, আরেকটু কথা বলো না পাখি।
-আর একটুও না। এখন না ঘুমুলে তুমি আবার কালকে ক্লাস মিস করবে, আমারতো আর ক্লাস নেই কাল। যাও সোনা, ঘুমোও তো।
-আচ্ছা, ঘুমুতে পারি ,যদি তুমি...
-যদি কি?
-যদি তুমি একটা পাপ্পি দাও....
-ইশ্ রে, শখ কতো, যদি পাপ্পি দাও.. কোন পাপ্পিটাপ্পি হবেনা, তুমি ঘুমোও।
-তুমি পাপ্পি না দিলে সারারাত আজ একটুও ঘুমুবোনা, কালকে ক্লাসেও যাবোনা। বললাম।
-না গেলা, তো আমার কি ?
-আচ্ছা, তাই তো? মনে থাকে যেন___

এই বলে রাগ করে ফোন কেটে দিলাম। ওদিকে নীরা ভাবতে পারেনি এভাবে আমি ফোন রেখে দিবো। বেচারী বারবার ফোন করেই যাচ্ছে। করুক, এতো দ্রুত ফোন উঠাবোনা। কমপক্ষে ১০ বার ফোন করবে, তারপর পিক করবো, ভেবেছে কি।
-হ্যালো...
-এতো রাগ কই পাও সোনা? এমন হুট করে ফোন রেখে দাও যে। আচ্ছা সরি। এখন ঘুমোও। অনেক রাত হয়েছে..
-আগে আমার পাপ্পি...
-তুমি যে কি জ্বালাও না আমাকে। ওকে ঠিকাছে, এই নাও দিলাম, উম্_________

মাত্র একসপ্তাহ আগে নীরার সাথে আমার পরিচয়। আমাদের ভার্সিটিতেই পড়ে ও। আমার জুনিয়র।

সেদিন ছিলো বৃহস্পতিবার, বিকেলবেলা। বাসার ছাদের ছায়ায় বসে আছি। হঠাৎ একটা মেসেজ এলো, "ভাইয়া, কেমন আছেন?"
নীরা প্রথম কয়েকঘন্টা আমাকে ভাইয়া বলেই ডাকতো। নীরার সাথে আগেই একটু পরিচয় ছিলো, ক্যাম্পাসে চলতে ফিরতে হঠাৎ দেখা হয়ে যেতো। দূর থেকে তাকিয়ে থাকতাম। নীরা ও আমাকে লক্ষ্য করতো। একদিন দুদিন তিনদিন, এভাবে দূর থেকে চোখাচুখি করতেই সময় চলে গেলো। তারপর, যা ভাবিইনি, তাই হলো। ও আমাকে ফেসবুকে নক করলো। আমরা কথা বলতে শুরু করলাম। খুব দ্রুতোই বুঝতে চাইলাম একে অপরের মন। মনদুটো কেনো জানি হঠাৎ করেই দুজনার খুব কাছে এসে গেলো। আমি ওকে ভাইয়া ডাকতে মানা করলাম, আপনি থেকে নীরা তুমিতে নেমে এলো। এতো অল্প সময়েই ওকে আমার অতীত বলে দিলাম, বললাম- আমার আগের কিছু গল্প আছে, ভালোবাসতাম অন্য একজনকে। কিন্তু ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, অবশ্য ধোকা ও দেয়নি, নিরুপায় হয়েই। তারপর এইভাবে একা কেটে যাচ্ছিলো সময়। এখন তো আর একলা চলার দিন শেষ নীরা, তুমি যে পাশে এসেছো। তোমার হাত ধরে জোছনা জ্বলা জোনাকির লক্ষ কোটি রাতগুলো পার করে দিবো আমরা, তারপর আমাদের পড়ালেখা শেষ হবে, আমি ছোট্ট একটা চাকরী নেবো। শহরের এক কোণে ছায়াময় শীতল সমীরের মাঝে আমাদের একটা বাড়ি থাকবে, তারপর আমাদের ছেলেমেয়েরা...

এভাবেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম নীরাকে নিয়ে। নীরা আমাকে ভালোবাসার কথা শুনাতো, আমাকে সাহস দিতো। বলতো, তোমার শক্তিকে কখনোই অবিশ্বাস করবে না, আমি জানি তুমি পারবে, অনেক বড় হবে তুমি।
অবশ্য বড় হওয়ার স্বপ্ন নীরারও ছিলো, কিন্তু ওর আর আমার স্বপ্ন তখন জোড় বেঁধেছে।

নীরা বলতো, আচ্ছা সোনা, এই এত অল্প সময়ে তুমি আমাকে এমন ভালোবাসলে কেমন করে?
-ভালোবাসতে কি বছর বছর সময় লাগে, বলো? কারো প্রেমে পড়ার জন্য সময় হিসেব করতে হয়না, মাত্র মুহূর্তেই কাউকে ভালোলাগতে পারে, ভালোবাসা হয়ে যায় এক সেকেন্ডেই।
-ওহ, তাই বুঝি। আচ্ছা, এত দ্রুত তোমার কাছাকাছি এসেছি, দ্রুতই আবার আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না তো তুমি?
-নীরা, এমন কথা কখনো বলবেনা, প্লিজ। কলিজায় এসে আঘাত করে, নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তোমাকে আমি এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারবোনা। আমার ভালোবাসা স্বস্তা কিছু না নীরা। শুধু তুমি আমার পাশে থেকো, দেখবে পৃথিবীর সবচে আকাঙ্ক্ষিত সুখগুলো আমি তোমাকে এনে দেবো।

রাতকে রাত, দিনকে দিন, নীরার সাথে ফোনে কথা বলতাম। ভার্সিটিতে গেলে দেখা করতাম। তারপর নির্জন এক যায়গা দেখে বসে যেতাম। কত কথাই না জানতো মেয়েটা, সারাক্ষণ কথা বলতো। আমি অবাক হয়ে শুনতাম, এত সুন্দর মিষ্টি কণ্ঠ, কোকিলের সুর বেজে ওঠে প্রতিটি কথায়।

আজ দুদিন হয়ে গেলো। যে নাম্বারে কথা বলতাম, নীরার সেই ফোন নাম্বারটা অফ দেখাচ্ছে। ফেসবুকে মেসেজ করতেছি, কিন্তু নীরা সীন করছেনা। কি হলো ওর? অসুখ করেনি তো? সেরকম কিছু হলে ফোন অফ রাখবে কেনো? একবার একটা মেসেজও তো করতে পারে, ওর কি কোন বিপদ হয়েছে? নাহ, কিছুই আর ভাবতে পারছি না আমি। নীরাকে ছাড়া আমার সময়গুলো দমবন্ধ করে মুষড়ে পরে আছে। আমি কি করবো, রাতে ঘুম হচ্ছেনা, ভার্সিটিতে ক্লাস করতে পারছিনা। শুধু নীরার কথা ভাবছি। কি হলো নীরার? সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, নীরার তুমি কোন বিপদ দিও না।
ওর বান্ধবীদের কাছে খোজ নিলাম। নীরা এ দুইদিন ক্যাম্পাসেও আসেনি। কেউ কিছুই জানেনা ওর সম্পর্কে।

তারপর, তৃতীয় দিনে। আমার ফেসবুকে একটা মেসেজ এলো। "রিহান, পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। তুমি খুব ভালো একজন ছেলে, এই কয়েকটা দিনেই অনেক জেনেছি তোমাকে। কিন্তু এই পরিচয়টুকু সামনে বাড়াতে পারছিনা। আমাকে ভুলে যেও। আমাকে আর ভেবোনা, ধরে নিও, তোমার নীরা পৃথিবীতে আর নেই। কোনোকিছু না বলেই হঠাৎ আমি এরকম কেন করছি, জিজ্ঞেস করোনা, আর আমার সাথে আর যোগাযোগ করার চেষ্টা করিওনা প্লিজ, যদি আমার ভালো চাও। তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো মেয়ে ডিজার্ভ করো। ভালো থেকো। বাই।"

মেসেজটা পড়ার পর থেকে নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছি। বাতাস থেমে গেছে, চারদিকে কোন শব্দ নেই, মাথার ওপরে আকাশ নেই, পায়ের নিচে মাটি নেই, আমি বলতেই কিছু নেই। মনে হচ্ছে সব কিছু পৃথিবীতে আমার শত্রু হয়ে গেছে। কিছুই সহ্য হয়না এখন আর।

তারপর, কেটে যাচ্ছে সময়। বেঁচে আছি, যেভাবেই হোক। নীরা কেন এমন করলো এখনও জানতে পারিনি। শুনেছি, আজকাল নীরা ভালোই আছে। এখন ও ক্যাম্পাসেও আসে। ভাগ্য তবুও আমা
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৫১
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন মরুঝড়: রেড নোটিশের খোঁজে আরিয়ান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:১৬



দুবাইয়ের জুমেইরাহ বিচের বিলাসবহুল পেন্টহাউসের কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের কৃত্রিম দ্বীপগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলেন সায়েম চৌধুরী। একসময় ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×