somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবং একটি সুইসাইড নোট

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





আকাশে তারার মেলা!
অনেক গুলো তারা আকাশে!
আমি যদি একটা তারা হতাম! তবে কতো ভালোই না হতো!
বহুদীনের প্রতীক্ষার শেষে কেউ একজন প্রিয়জনের সাথে কথা বলতে বলতে হয়তো আকাশের দিকে তাকাতো!
আমি তারা হলে অনেক দূর থেকে পৃথিবীর দিকে তাকাতাম!
দুঃখ কষ্টের। এই পৃথিবীটাকে চেয়ে চেয়ে শুধু দেখতাম!
কিছু করার থাকতো না দেখা ছাড়া!
এখনই বা কি করার আছে আমার!
মানুষ হয়েও চেয়ে চেয়ে শুধু দেখি কষ্ট গুলো!
হাত পা শেকলে বাধা!
জীবনটা কে আর কেনো যেনো সহ্য হয় না!!!!


আমার ভাবনার এইখানে একটা লোকের গলা শোনা গেলো!
লোকটি চা দিয়ে গেলো!
আমি নীরব!
২১ বছর বয়স!
জীবনের এক তৃতীয়াংশ পার করেছি!!!
আমি এখন পদ্মার বুক চিড়ে ছুটে চলা এক লঞ্চের ছাদে!
প্রচন্ড শীতের জন্য!
লঞ্চের ছাদে কেউ নেই আমি ছাড়া!
চারপাশে চাদের আলো!
কুয়াশাও অনেক!
সবকিছু মিলিয়ে একটা স্বপ্নপুরীর মতো!
এই এতো রহস্যময় চিরর আকর্ষী পরিবেশ দেখে কি কল্পনা করা যায় যে পৃথিবী কতো নিষ্ঠুর হতে পারে!
লোকটি হাতে চায়ের কাপ ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো!
গরম চায়ে ধোয়া উঠছে!
কিন্তু চা এতো গরম হবার কথা ছিলো না!
নাকি আমি অনেকক্ষণ ধরে ঠান্ডায় থাকায় এই ইষৎ গরম চা আমার কাছে অনেক গরম মনে হচ্ছে!
কে জানে!
চায়ের কাপে চুমুক দেবার আগে
একটা সিগারেট ধরালাম!
প্রথমে চায়ের কাপে চুমুক দিলাম!
এতো ভালো চা!
নিজের মনে চায়ের প্রশংসা না করে পারলাম না!
সেই অনেক দিন আগে গত বছর নীলা দের বাসায় এমন চা খেয়ে ছিলাম!
সেদিন নীলা একটা কালো রংএর শাড়ী পড়েছিলো!
টেবিলে ছিলো অনেক গুলো গোলাপ!
গোলাপ গুলো এতো সুন্দর লাগতেছিলো যেন মনে হচ্ছিলো সেদিনের মুহূর্তটা রঙ্গিন করারর জন্যই এগুলোর সৃষ্টি!
নীলা খুব সুন্দর করে হাসতে পারতো!
আর সেই হাসিটা আমাকে ওর মায়ায় ফেলে দিয়েছিলো!
দুজন দুজনকে ভালো বাসতাম!
সেদিন সন্ধ্যায় দুজনের মনের কথা বললাম!
আজ নীলার সাথে আমার বিয়ে হবার কথা ছিলো কিন্তু...!
১ মাস আগে রোড় একসিডেন্ট এ নীলাকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হলো!
আচ্ছা ও কি আমার মায়াও ত্যাগ করতে
!
সেদিন জানলাম পৃথিবী খুব নিষ্ঠুর!
অন্তত আমার কাছে!

চায়ে দ্বিতীয় বার চুমুক দিলাম!
হাতে সিগারেরটায় ঠোটে নিয়ে একরাশ ধোয়া টেনে নিলাম ভেতরে!
সিগারেটের নিকোটিন আমার রক্তের প্রতিটা কনার সাথে মিশে গেলো!
রহস্যময় এই পৃথিবী আরো রহস্যময় মনে হচ্ছে!
আচ্ছা সিগারেরটা কি জানে যে আজ আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত এটা??
যদি ওর প্রাণ থাকতো ও কি কাদতো?
সিগারেটটার জীবন শেষ হলে আমার জীবনেরো অন্ত হবে
নিচে পদ্মার কালো পানি ডাকছে আমাকে!
আমাকে যেতেই হবে!
চায়ে কয়েকবার চুমুক দিলাম!
ডেকএ একটা ৫০০ টাকার নোট রেখে কাপটা দিয়ে চাপা দিয়ে রাখলাম!
জীবনের শেষ সম্বল!
আর সম্বল দিয়ে কি হবে!
জীবনই তো থাকবে না!
আচ্ছা যখন চাওয়ালা এসে আমাকে দেখতে পাবেনা কিন্তু কাপের নিচে টাকাটা দেখে সে কি খুশি হবে না?
আমার জন্য বুকে হয়তো একটু মায়া তৈরি হবে!
সে তার বাচ্চার জন্য টাকা দিয়ে খেলনা কিনে নিয়ে যাবে!
বাচ্চাটা খেলনা পেয়ে অনেক খুশিতে বাবাকে জড়িয়ে ধরবে! এসব ভাবতে ভালো লাগে খুব!
আমারো স্বপ্ন ছিলো!
আমার একটা বেবি থাকবে!
তার চোখের ভেতরে সারা পৃথিবী আমি দেখতে পাবো!
সে বাবা বলে ডাকলে আমি হারিয়ে যাবো এক অজানা পৃথিবীতে!!!!!
কিন্তু আমার বেবিটা কি দোষ করেছিলো?

হাতের সিগারেট দ্রুতো ফুরিয়ে যাচ্ছে!
হাতে ফিল্টার পোড়ার তাপটা লাগছে! আমি
চারিদিকে তাকালাম!
কুয়াশায় ঢাকা এক রহস্যময় চাদনি রাত
একটা গান মনে হলো
" ও কারিগর দয়ার সাগর ওগো দয়াময়
চাদনি পশর রাইতে যেনো আমার মরন হয়"

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৫৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×