somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিন বদলের চেষ্টা-২

০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

# কিছুটা_এডাল্ট_পোস্ট
(প্লিজ কেউ এড়িয়ে যাবেন না। সময় নিয়ে পুরো পোস্ট টা পড়ুন।)
শিহাব আর ফরহাদ বসে আছে রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানটায়! একটু পরেই ফারিহা সে রাস্তা ধরে প্রাইভেট থেকে ফিরতে লাগলো। পড়নে অনেকটা চাপা ড্রেস,আটোসাটো টি শার্টের সাথে ন্যারো থাই জিন্স। ফারিহার দৃষ্টিতে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুখে ইশশশ্ শব্দ করে শিহাব ফরহাদ কে বললো..
-কি মাল মাইরি! শালী কিন্তু সেরকম দোস্ত!
-হু। সাইজ কত হবে রে?
- ৩৪ এর কম না দোস্ত। দেখলেই শরীর গরম হয়ে যায়!
-হুম। একবার পাইলে রে দোস্ত! এরকম ফিগার বানাইলো কিভাবে!
-কে জানে! ওর ঠোট দুইটা দেখছস? সেই পিনিক!
আহা!! ফ্রেন্ড সার্কেলের মাঝে কি কনভার্সেশন! আসেন একটু লজিক খাটাই,চিন্তা করি!
ছেলেগুলা এই যে কথাগুলো বললো হয়তো কথাগুলো ফারিহার কানে যায় নি কিন্তু কথাগুলো কতটা যুক্তিসংগত? তাদের এই কথাগুলো বলা কি আসলেই ঠিক হয়েছে?
অনেকেই বলবেন এইটা কি বাস্তব গল্প কি না? উত্তর হচ্ছে "না"। আমি এটা জাস্ট নিজে লিখলাম। বাট বিলিভ মি এরকম অহরহ হচ্ছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে,কলেজের সামনে,কোচিং সেন্টারগুলোর সামনে,শপিংমল কিংবা সিনেমা হলের সামনে,বাস স্ট্যান্ড গুলোতে এসব নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গেছে।
কারা করছে এসব? আপনি,আমি,আমাদের ফ্রেন্ডরা,ছোট ভাই রা। এটা কি অাধুনিকতার বহিঃপ্রকাশ?
হ্যা এখন অনেকেই বলবেন যে ভাই শুধু ছেলেদের দোষটাই উল্লেখ করলেন, খারাপ কমেন্ট গুলো তুলে ধরলেন? কিন্তু মেয়েটা যে ছোট পোশাক পড়ে ছেলেগুলো কে প্ররোচিত করলো তার কোন দোষ নাই? সেটার কথা যে বললেন না?!
লল! খুব মজার একটা কথা বললেন ভাই। দারুণ যুক্তি দিলেন! মেয়ে টা কি পোশাক পড়েছে সেটা তো আমাদের দেখার দরকার নাই। মেয়েটা চাপা জিন্স পড়েছে নাকি টাইটফিট টপস পড়েছে সেদিকে নজর না দিলেই তো হয়! আর চোখের সামনে হঠাৎ এরকম চলে আসতেই পারে। কিন্তু চোখের সামনে আসলেই এরকম কমেন্ট করতে হবে? আজিব গল্প তো!! মেয়েটার উপরে দোষ না চাপিয়ে নিজেরা শুধরাই আগে। মেয়েটা তার এসব উগ্র অাধুনিকতার জন্য জাহান্নামের আগুনে পুড়বে। আপ্নার কি সমস্যা? আপনি যদি পারেন তাকে ভালো রাস্তা দেখান বাট এসব বাজে কমেন্ট কিংবা এর পিছনে লজিক দেখানোর কি মানে?
আমার একটা ফ্রেন্ড সার্কেল আছে। আমরা কম্বাইন্ড কলেজে পড়ি,কম্বাইন্ড কোচিং করি,অনেক মেয়েদের সাথে একসাথে ওঠা বসা করি,চলাফেরা করি। অনেক বড় লোকের মেয়েদের অনেক চাপা ড্রেস পড়ে হট লুকে দেখি! কই আমি তো আমার ফ্রেন্ডদের এরকম কমেন্ট করতে দেখলাম না কখনো।
আবার আমার অারো কিছু ফ্রেন্ড আছে যারা শুধু ক্লাসমেট না বড় আপু আন্টি যেই হোক না কেন সবাইকে নিয়েই এরকম কমেন্ট করে।
আমি আমার দুই ধরনের ফ্রেন্ড সার্কেলের কথা উল্লেখ করলাম এই কারণে যে আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে এরকম মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষগুলো কিন্তু আমাদের মাঝেই আছে,আমাদের ক্লোজ,আমাদের পাশের কেউ,আমাদেরই পরিচিত কেউ। তাদের ভালো রাস্তা টা দেখানো আপনার,আমার কর্তব্য।
অনেকেই হয়তো প্রশ্ন করবেন যে ভাই আপনি এত পন্ডিতি কথা বলেন বাট আপনি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন কি যে আপনি কখনো এরকম করেন নাই। আমি বলবো, "না। অবশ্যই আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো না যে আমি কখনো এরকম করিনি। অবশ্যই করেছি একসময়। কিন্তু এখন তো পরিবর্তিত হচ্ছি,চেঞ্জ হওয়ার চেষ্টা তো করছি।
মেয়েদের ছোট পোশাকের উপর দোষ না চাপিয়ে নিজেরা নিজেদের নাফস্ কন্ট্রোল করি আগে।"বাঘের সামনে হরিণ আসলে বাঘ তো ঝাপিয়ে পড়বেই" এরকম নিজেকে সেইভ করার উদ্ভট লজিক বাদ দেই। ইসলামিক ফতোয়া গুলো মেয়েদের না দিয়ে নিজেরা নিজেদের বিবেক কে দেই আগে।
সবশেষে একটা ছোট্ট গল্প বলি, একবার এক রাজা তার রাজ্যের সব প্রজাদের হুকুম দিল যে রাজপ্রাসাদের সম্মুখে সদ্য খনন করা পুকুরটা দুধ দিয়ে পূর্ণ করতে হবে। সবাই যেন রাতে এক গ্লাস করে দুধ এনে পুকুরটায় ঢেলে দিয়ে যায়। রাজার এই আদেশ শুনে এক প্রজা মনে মনে ভাবলো যে ধূর! দুধ দেয়ার কি আছে? সবাই তো দুধ দিবেই। আমি একজন দুধের বদলে যদি পানি ঢেলে দিয়ে আসি তাহলে বোঝা যাওয়ার তো কথা না। পরিকল্পনামত সেই প্রজা রাতের অন্ধকারে সবার সাথে গিয়ে দুধের বদলে পানি ঢেলে দিয়ে আসলো"। পরদিন সকালে কি দেখা গেল জানেন? ঐ পুকুর দুধের বদলে পানি দিয়ে ভরে গেছে। অর্থাৎ ঐ ফাঁকিবাজ প্রজার মত সবাই একই ভাবনা ভেবেছিল। অন্যের আশায় থেকে নিজের কর্তব্য ভুলে গিয়েছিল!
গল্পটা বলার কারন হলো আজকে আমাদের অবস্থা টা ঠিক এরকম হয়ে গেছে। আমরা ভাবি ধূর বাল ও এই কাজটা করতেছে আমি করলে দোষ কি? সবাই যেখানে চেঞ্জ হচ্ছে না সেখানে আমি চেঞ্জ হয়ে কি লাভ! ঐ মেয়েটা ছোট ড্রেস পড়ছে দেখেই তো আমি কমেন্ট করেছি নাহলে কি করতাম?
বাদ দেন এসব ভাই। নিজের দোষ আরেকজনের উপর চাপানোর মানে নাই। প্রবাদ আছে জানেন তো? "নিজ ভালো তো জগৎ ভালো।"
আসেন ভাই ভিশন চেঞ্জ করি। সবাই বদলালে আমি বদলাবো এরকম না ভেবে প্রথম আলোর স্লোগান টা ভাবি, "বদলে যাই এবং বদলে দেই"।
নিজেরা চেঞ্জ হই, আমাদের কাছের মানুষগুলোকে চেঞ্জ করি। সফল না হই বাট চেষ্টা তো করতে পারি।
আপু সমাজ কে বলছি "চিনির বয়াম খোলা থাকলে পিপড়ে আসবেই" ছেলেরা যেন এরকম লজিক দিতে না পারে তার দিকে একটু লক্ষ রাখেন! টিএসসি স্ক্যান্ডাল যে কাল জিয়া উদ্যান,ধানমন্ডি লেক কিংবা দিয়া বাড়িতে হবে না তার কি গ্যারান্টি?!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১১:০৪
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×