নির্বাচনের আগের দিন প্রেডিক্ট করেছিলাম—টু থার্ডস মেজোরিটি হবে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে এবং বিভিন্ন জায়গার খবর নিয়ে মনে হচ্ছিল, ২০০ প্লাস আসন নিয়েই সরকার গঠন হবে। ফলাফল সেই দিকেই গেছে, বরং প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। আলহামদুলিল্লাহ!
সত্যি বলতে কী, সন্ধ্যায় ফেসবুকে প্রাথমিক ফলাফল দেখে একটু প্যানিকড যে হইনি—তা অস্বীকার করবো না। কিন্তু দিনশেষে আবারও প্রমাণ হলো—মাঠের রাজনীতি আর অনলাইন বাস্তবতা এক জিনিস না।
এত বিশাল জয়ের মধ্যেও সবচেয়ে বড় মেসেজটা হলো—এই জয় সহজে আসেনি, ছিনিয়ে আনতে হয়েছে। উচ্চকক্ষে নিম্নকক্ষের মতো এত ম্যাসিভ ডিফারেন্স থাকবে না—এই বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে।
বড় দল এবং বিজয়ী হিসেবে এখন বিএনপির দায়িত্ব অনেক বেশি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই এখন তাদের সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনার ওপর নির্ভর করছে। আশা থাকবে—যোগ্য ও দক্ষ লোকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠন হবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা, অর্থনীতির স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একজন ক্ষুদ্র সমর্থক হিসেবে চাই—আমাদের সরকারের সময়ে মানুষের বাকস্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ না থাকুক। ওসমান হাদীর ভাষায় বললে—আমি আমার শত্রুর সাথেও ইনসাফ চাই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অসাধারণভাবে এই নির্বাচন আয়োজন করায় অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করতে চাই জুলাই যোদ্ধাদের—যাদের ত্যাগের কারণে আমরা এমন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পেয়েছি এবং গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী দুঃশাসনের ইতি ঘটেছে।
নতুন দল এনসিপির জন্য শুভকামনা—প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই তারা ভালো ফল করেছে। হাসনাতদের সংসদে দেখা সত্যিই চোখের জন্য শান্তির।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভালো ফাইট দিয়েছে। মনে রাখতে হবে—এটা তাদের প্রথমবার ন্যাশনওয়াইড এত বড় স্কেলে নির্বাচন। সেই হিসেবে তারা খারাপ করেনি। তাছাড়া উচ্চকক্ষে তাদের অংশগ্রহণও বেশ সিগনিফিকেন্ট থাকবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




