somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের জন্য কিছু করতে চেয়ে...

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা মোটামুটি সবাই দেশের জন্য কিছু না কিছু করছি। দেশে থাকছি, দেশের পন্য ব্যবহার করছি, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছি। যারা দেশের বাইরে থাকছি তারা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছি, নিজের দেশের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করছি, দেশকে জনসংখ্যা ভারমুক্ত করছি। এরপরেও আমরা কেউ কেউ এর বাইরেও কিছু করতে চাই। একটু বেশী কিছু। কেন করতে চাই বা করে লাভ হবে না ক্ষতি হবে সে প্রসঙ্গে এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিভাবে করা যাবে এবং কি করা যাবে সেটাই আলোচনা করতে চাইছি। বলা বাহুল্য এই প্রসঙ্গটা এসেছে রাগ ইমনের দেশের জন্য কিছু করা সংক্রান্ত পোস্ট থেকে।

প্রথম যে বিষয়টা আমার মাথায় আসে সেটা হল স্কোপ। দেশের কাজ করার জন্য আপনার ক্ষমতা বা পরিধি কতটা। আপনি যদি সাধারন একজন মানুষ হন তাহলে আপনার কাজের পরিধি যতটা আপনি যদি পিএইচডি করা কেউ হন তাহলে আপনার ক্ষমতা ও পরিধি তার থেকে অনেক বেশী। তাই বড় কিছু করতে দরকার বড় পরিধি আর আপনার বড় যোগ্যতা। তাই যদি আপনার পরিধি নিয়ে চিন্তা করুন। আপনার পরিধি যদি কেবল আপনি নিজে হন তাহলে নিজেকেই সংশোধন করুন, যদি শুধু পরিবার হয় তাহলে পরিবারকে সংশোধন করুন। যারা এখনও ছাত্র বা অল্প বয়স - শিখছেন সব কিছু - তারা চেষ্টা করতে পারেনা আপনার স্কোপ বাড়াতে - যাতে দেশের জন্য কিছু করার স্কোপ অনেক বেড়ে যায় আপনার।

দ্্বিতীয় যে ব্যাপারটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সেটা হল লিডারশীপ বা নেতর্ৃত্ব দেবার ক্ষমতা। সবাই নেতর্ৃত্ব দিতে পারে না। আপনি একটা বড় গ্রুপের সদস্য হতে পারেন, সেক্ষেত্রে গ্রুপে আপনার মেসেজ দেবার স্কোপ আছে - কিন্তু গ্রুপকে আপনার মেসেজে ইনফ্লুয়েনস না করতে পারেন, তাদেরকে লিড করে কাজটা আগাতে না পারেন তাহলে আপনার মেসেজে কোন কাজই হবে না। তবে আশার কথা হচ্ছে লিডারশীপ অর্জন করা যায়। বিশ্বস্ততা, সততা, পারস্পরিক যোগাযোগ এইসব ব্যাপার লিডারশীপ ইনফ্লুয়েনস করতে পারে। এব্যাপারে যারা হিউম্যান রিসের্াস ম্যানেজমেন্ট করছেন তারা আরো ভাল বলতে পারবেন।

তৃতীয় যে ব্যাপারটা দরকার সেটা হচ্ছে আইডিয়া। আইডিয়ার অভাব নেই, কিন্তু যে আইডিয়া ঠিক মতো কাজ করবে, আপনার জন্য করা সহজ হবে, এবং সবের্াপরি ইফেক্টিভ হবে সেটা বের করাটা সত্যিই দুরূহ। প্রথমে আইডিয়া গুলো সংগ্রহ করে তারপর যদি একটু সময় নিয়ে ভেবে দেখতে পারেন তাহলে বেশ ভাল হয়।

যে কয়টা ব্যাপার বল্লাম সেগুলো একজন মানুষের পক্ষে কি করা যেতে পারে তার ভিত্তিতে বলা। অনেক সময় গ্রুপে করলে পুরো ব্যাপারটি অনেক সহজ হয়। কিন্তু আমাদের বাঙ্গালীদের গ্রুপে কাজ করা নিয়ে দুর্নাম আছে (যদিও বিদেশে এই বাঙ্গালীরাই আবার খুব ভাল গ্রুপে কাজ করতে পারে)।

একজন মানুষ কি করতে পারে দেশের জন্য যেমনটা রাগ-ইমন জানতে চেয়েছিলেন, সেটা করতে গেলে প্রথমে স্টাডি করতে হবে তার শিক্ষা, সামাজিক অবস্থান এসবের ভিত্তিতে তার স্কোপ কতটুকু। তারপর দেখতে হবে তার ইনফ্লুয়েনস করার ক্ষমতা কতটুকু। এবং এসবের ভিত্তিতে ঠিক করতে হবে তার কি করা উচিৎ। এছাড়া যে কেউ এক গাদা উপদেশ বানী ছেড়ে দিতে পারে, অনেক আইডিয়া দিতে পারে, শুনতে ভাল লাগলেও কিন্তু সেগুলো ইফেক্টিভ নাও হতে পারে। পুরো ব্যাপারটাই তাই মানুষে মানুষে ভিন্ন হবে।

আমার উদাহরন দিতে পারি। হাবিব মহাজনের মতো নিজের ঢাক ঢোল পেটানো হবে হয়তো। ক্ষমা করে দিয়েন সে ক্ষেত্রে। আমার বিদেশে আসার প্রাথমিক কারন ছিলো অবশ্যই নিজের শ্রমের মূল্য বাড়ানো। যাতে ভালো চাকরী পাই, ভালো ভাবে দুমুঠো ভাত খেয়ে পরে বাঁচতে পারি। কিন্তু এর পিছনেও কি কোন কারন ছিলনা? আমি চেয়েছিলাম পিএইচডি করে দেশে ফিরব, সেক্ষেত্রে আমার কাজের পরিধি অনেক বেড়ে যাবে - সত্যিই বড় কিছু করতে পারব দেশের জন্য। এখনও স্বপ্ন দেখি কম্পিউটার এইডেড প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট সেন্টার করার - যেটা বাইরে থেকে কাজ নিয়ে আসতে পারবে। চীনের সাথে পাল্লা দিয়ে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর মতো প্রডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারীংয়েও বাংলাদেশ অন্তত একটা অবস্থান তৈরী করবে পৃথিবীতে।

অনেক বড় বড় কথা বলে ফেল্লাম। কিছুই হয়ত করা হবে না। মাস্টর্াস শেষে একটা চাকরীতে ঢুকে হয়ত বাকিটা জীবন এখানেই কাটিয়ে ফেলব। আমার বাচ্চা কাচ্চারা হবে ABCD : আমেরিকান বর্ন কনফিউজড দেশী। মাঝে মাঝে আফসোস করব আর হাবিব মহাকনের মত বড় বড় কথা বলব।

কিন্তু যে ব্যাপারটা বোঝাতে চাচ্ছিলাম। সেটা হচ্ছে যে দেশের জন্য কিছু করার আমার যে প্ল্যান সেটা কিন্তু আমাকেই ভাবতে হয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ আমার চেয়ে ভাল বলতে চাইলে তার আমাকে স্টাডি করতে হবে। তাই বলছিলাম আপনার হাতে আইডিয়াগুলোকে নিয়ে অপশনকে নিয়ে ভাবুন। আপনি নিজেই হয়ত ভাল কিছু বের করে ফেলবেন।

লেখাটি তৈরী করতে কোন জার্নাল, বা কারো লেখার সাহায্য নেইনি। কোন গবেষনাও চালাইনি। রাগ ইমন প্রশ্ন করবার পর আমার চিন্তার প্রিয় একটা জায়গা - কমোডে বসে ভেবেছি। তাই লেখাটির গভীরতা নিতান্তই কম। যদি এই লেখাটার একটা লাইনও কারও কোন কাজে আসে ভীষন ভালো লাগবে।

অনেক দিন ড্রাফট হিসেবে পড়ে ছিল লেখাটা। রাগ ইমনকে ধন্যবাদ এই বিষয়টি নিয়ে ভাববার এবং ইঁচড়ে পাকামীর সুযোগ করে দেবার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কি নারী নেতৃত্ব বিরোধী?

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েজ কিনা এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় মূলক বেশ কিছু পোষ্টও আমার চোখে পড়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×