অবাক হলাম যখন সেই প্রোফাইল ধরে একটা মেইল পেলাম। একটা মেয়ে, ব্রিটেনে থাকে, নাম জানাল তাজ, কথা বলে সিলেটি ভাষায় (সে তাই বলেছে)। ভীষন মজা পেলাম। জানা গেল সে আমার বয়সী। কোন বিষয়ে যেন ব্যাচেলর করছিল এখন মনে পড়ছে না। আমাদের ফ্রেন্ডশীপ বাড়তে লাগল। তারুন্যের চঞ্চলতায় আমি তখন খুব বকবক করতাম ইমেইলে। এবং মেয়েদের সভাবসুলত পরিনত ভাব ভঙ্গীতে আমাকে ছেলেমানুষ হিসেবে ট্রিট করত তাজ। মাঝে মাঝে আমার দুর্বল ইংরেজী নিয়ে ভীষন হাসা হাসি করত। আমি আমার সব কিছু শেয়ার করতাম, কার সাথে ভাব হল, কার সাথে রাগারাগি হল সব কিছু (বোকার মত)।
এর মাঝে আমার কয়েকজন বন্ধুর ইমেইল এড্রেস দিলাম তাকে। তাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করল সে। তো তাদের সাথে আরেকটা দুষ্টুমী শুরু করল সে। আমাদের বন্ধুদেরকে সে দুটা আইডি থেকে ইমেইল করত, তাজ আর নাজ। বলত তাজ আর নাজ নাকি যমজ। তাজ জানতে চাইত নাজ কেমন, আর নাজ জানতে চাইত তাজ কেমন।
হঠাৎ একদিন সে জানাল সিলেটে আসবে সে, কিন্তু যাবে ঢাকা হয়ে। তাই আমি যেন বন্ধুদের নিয়ে তার সাথে দেখা করি। একটা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অপেক্ষা করলেই হবে। তখন চলছে আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল। বন্ধুদের সাথে কথা বল্লাম কেউ রাজি না। তো কি আর করা, না করে দিলাম তাকে।
তারপর থেকে ব্রিটেনে ফিরে গিয়ে যোগাযোগ আস্তে আস্তে কমিয়ে দিল সে। এক সময় জানিয়ে দিল, ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে বেরিয়ে যাচ্ছে সে তাই আর হয়ত যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না। এরপর কালেভদ্রে একটা দুটা ছাড়া ইমেইলের আর কোন রিপ্লাই সে দিত না। মাঝখানে একবার জানিয়েছিল সে চাকুরী পেয়েছে। এভাবেই আস্তে আস্তে মৃতু্য ঘটে আমার সে বন্ধুত্বের।
বছর দুয়েক আগে একটা ওয়েবসার্ভিসে বার্থডে রিমাইন্ডারের জন্য একটা একাউন্ট খুললাম। আমার ইয়াহুর সমস্ত ইমেইল এড্রেসে আমি ইমেইল পাঠালাম বার্থডে জানতে চেয়ে, তাজেরটা সহ। অবাক কান্ড হচ্ছে, সেখানে দেখি সে তার বার্থডে যুক্ত করেছে। কিন্তু ইমেইল করলে আজো তার রিপ্লাই পাইনা।
আজ 13 ই সেপ্টেম্বর হচ্ছে তার জন্মদিন। জানিনা সে কেমন আছে, কোথায় আছে। যেখানেই থাক তাজ, আমার প্রিয় বন্ধু তাজম্যানিয়া অনেক অনেক শুভ জন্মদিন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


