somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলেবেলার দিনগুলি - ঈদ (1)

২০ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার আব্বা ছোটবেলার অনেকটা সময় বগুড়া আর রংপুরের দিকটায় ছিলেন। বদলির চাকরী তার, সেই সুবাধেই। আমার মনে পড়ে আমাদের ঈদ কেনাকাটা গুলি হত রোজার শেষের দিকে। আব্বা, আম্মা বোনাসের টাকা পেতেন, আব্বাও আসতেন ঈদের ছুটিতে। তারপর আমাদের দুই পিঠাপিঠি ভাইকে হাত ধরে সারাদিন জুড়ে কেনাকাটা। সারাদিন ধরে সেই কেনাকাটায় আনন্দের চেয়ে কষ্টই হত বেশী।

আমার ছোট ভাইটার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল কাপড় কেউ দেখে ফেললে পুরোনো হয়ে যাবে। তাই সে জীবন দিয়ে হলেও চেষ্টা করত যাতে কেউ না দেখে। বলাই বাহুল্য সে চেষ্টা রক্ষা করা সম্ভব হতো না তার। বিকেলের মধ্যে আমাদের প্রায় সমবয়সী ফুপাতো ভাইবোন আসলে গল্পের ফাঁকে বেরিয়ে আসত তথ্য। কিংবা প্রতিবেশী বাচ্চাগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলেও কাপড় দেখিয়ে ফেলতাম আমরা।

আমাদের দুভাইয়ের বয়সের ফারাক দু বছরের মত। লম্বায়ও প্রায় সমান। তাই বিচিত্র কোন কারনে আমাদের বাবা মা আমাদের দুজনের জন্য একই পোশাক দিতেন। হুবুহু একই রকম। কেবল এক সাইজ ছোট বড়। এই প্রথাটা অনেক দিন চলে এসেছে। ঈদের দিন আমরা দুই ভাই একই ইউনিফর্ম পরে ঘুরে বেড়াতাম। তখন খুব বিরক্ত হয়ে এই প্রথার বিরুদ্ধে লেগেছিলাম। এখন এতদিন পরে দুরদেশে বসে ঈদের দিন ভাইটার মতো একই পোশাক পড়তে ইচ্ছে করছে। আহারে ভাইটা আমার, সব সময় আমাদের মধ্যে যুদ্ধ লেগে থাকত; অথচ আমেরিকা আসবার আগেরদিন হঠাৎ জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে সে কি কান্না!

আমার আম্মা সবসময় ঈদের পোশাক কিনে দেবার ব্যাপারে সাথে যাবেই। যে ভাবেই হোক। এমনকি যখন বুয়েটে পড়ি, বন্ধুরা মিলে একসাথে কেনা কাটা করতে যাবো; আম্মাকে বললাম টাকাটা দাও কেনাকাটা করি। কোনভাবেই পুরোটাকা দিল না। বলল কিছুটা কিনে নিয়ে আয়, বাকিটা আমাদের সাথে কিনবি। প্রবল আপত্তি করতাম প্রথমে, পরে মেনে নিয়েছি। আসার আগ পর্যন্তও ঈদে আব্বু আর আম্মুর হাত ধরে শপিংয়ে গিয়েছি। আম্মুর নিশ্চয়ই খুব মন খারাপ হয় এখন!

তবে চাঁন রাতের কেনাকাটা সত্যিই খুব মিস করি। আর সেই সাথে যদি কারো কোন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কেনা বাকি থাকে তাহলে তো কথাই নেই। প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে আড্ডা দিতে দিতে, টাংকি মারতে মারতে শপিং করার সেই মজাটার কোন তুলনাই হয় না। এক সময় দেখা যায় কেনা কাটা বাদ দিয়ে কোন সুন্দরীর পিছনে পিছনে শাড়ীর দোকানে দোকানে ঘুরছি আমরা।

ঈদের ঈদি খুব মিস করি আমি। ছোট বেলায় টাকা কামানোর অন্যতম সোর্স ছিল এই ঈদ। ঈদের বহু আগে থেকে প্ল্যান হয়ে থাকত কি করব। তবু ঠিক ফিক্স করতে পারতাম না শেষ পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত আম্মুর কাছে গচ্ছিত রাখতাম টাকাটা। সবচেয়ে বেশী সম্মানী দিত ছোট কাকা। তিনি ছিলেন ছোটদের মহলে ফেভারিট। তো ঈদ হলেই মোটা অংকের ঈদি পেতাম তার কাছে। উপরি হিসেবে তার যখন ভাংতি শেষ হয়ে যেত তখন 80/90 টাকা দিয়ে একশটাকা হাতিয়ে নিতাম আমরা। সেই লোভে তার সাথে সাথে ঘুরতাম সারা সকাল।

দেখতে দেখতে একটা সময় চলে আসল যখন দেখি পোলাপাইন আমারেই ঠুস ঠাস সালাম করে বসে। সালামী না দিলে আমরা যে একখান গালি পাড়তাম পিছনে সে কথা মনে করে সালামী না দিয়েও পারি না। তো মোট লাভের চেয়ে মোট খরচাই বেশী হয়ে যেতে লাগল। তখনও ছাত্র আমি। টিউশনি পড়াই না, ভাল লাগে না বলে। পত্রিকায় লেখে টুকটাক আয় করি, জমে না মোটেই। তাই ঈদ আসলেই টুকটাক জমিয়ে রাখতাম সম্মান বাঁচাবার জন্য। তখন গাইল পাড়তাম এই সিস্টেমটার।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×