ভার্চুয়াল সমর্্পক এতো শক্ত হতে পারে সেটা আন্দাজ করিনি কখনো। বুঝতে পারলাম যখন প্রথম কয়েকদিনের মাথায় রাগ ইমনের ফোন পেলাম। কথায় কথায় কখন ঘন্টা পার হয়ে গেল টেরই পাইনি। দেখা করব কথা দিলাম, কিন্তু দুজনের ব্যস্ততাই বাধা হয়ে দাঁড়াল। একটা বিকেল ঠিক করা হলো দেখা করব বলে কিন্তু ব্যস্ততার ধাক্কায় সেদিন দেখা হবে কিনা সেটাতে সন্দেহ লাগতে লাগল।
পরে অবশ্য সেদিন রাত নয়টায় অনেক ঝক্কি ঝামেলা করে দেখা হল কৌশিক আর রাগ ইমনের সাথে। আমি সেদিন শ্বশুর বাড়ীতে থাকব বলে বাসা থেকে এসেছি। ঠিক মতো শেইভ করা নেই একটা ঘরে পরার টি শার্ট পরে বসুন্ধরা সিটিতে এসেছি কেনা কাটা করতে। আমেরিকা প্রবাসী মাহবুব মুর্শেদকে বোধহয় আরেকটু ফিটফাট আশা করেছিলেন তারা সেটা চেহারা দেখে আন্দাজ করতে পারলাম। আমার সঙ্গে আমার দুই শ্যালিকা।
শুনলাম ব্রাত্য রাইসু নাকি আসবে। আমি একটু অবাক। বসলাম সবাই মিলে বসুন্ধরা সিটির একটি খাবারের দোকানে। দারুন দইবড়া হয় সেখানে সেটা খেতে খেতে গল্প। একটু পরে আসলেন রাইসু ও মাহবুব মোর্শেদ। রাইসুকে প্রথম আলাপে খারাপ লাগেনি। তবে মাহবুব মোর্শেদের মেয়েলী গলা শুনে ভীষন হাসি লাগছিল আমার।
বসুন্ধরা সিটি সাড়ে দশটা নাগাদ বন্ধ হয়ে যায় বিধায় উঠতে হল আমাদেরকে সেদিনের মত।
[গাঢ়]2।[/গাঢ়]
পরের দিন গিয়েছি চুল কাটতে। হঠাৎ রাইসুর ফোন। সামহোয়্যারইনে যাবো কিনা জানতে চান। আমি রাজি। পরে বিকেলে সামহোয়ার ইনে গিয়ে, বেশ ঝক্কি করে খুঁজে বার করতে হল সামহোয়্যাইনের অফিস। পরিচয় হল হাসিন, তানভীর, শাহানা, আরিলড এদের সাথে। অনেকখন গল্প করে সন্ধ্যা নাগাদ বের হলাম আমি, হাসিন, রাইসু। হাসিন আতিথেয়তা করলেন একটা ফার্স্টফুডে ভরপেট খাইয়ে।
হাসিনের সাথে অনেক অনেক বিষয়ে কথা হল। ভীষন ভাল লেগেছে তার ব্যবহার, কাজ সবকিছু।
রাইসুর সাথে আজিজ সুপার মার্কেট পর্যন্ত গেলাম। কিন্তু আর কারো সাথে দেখা হল না।
[গাঢ়]3।[/গাঢ়]
কিছুদিন বাদে কথা হল অমি ভাইয়ের সাথে। বললেন দেখা করতে পারব কিনা। আমি তো একপায়ে খাড়া। গিয়ে দেখি হিমু, অরূপ এরা আছে, ভীষন আনন্দ লাগল মোলাকাত হয়ে। সঙ্গে আমার কলেজ জীবনের এক বন্ধু। বন্ধুটার সাথে হঠাৎ দেখা, ব্লগারদের সাথে দেখা করবে বলে আমার সাথে গিয়েছিল।
ধুম আড্ডা হল সেখানে, পানীয়, ধুম্র সব কিছুরই কৃচ্ছ সাধন করা হল। রাতে ফিরলাম বাড়ি।
[গাঢ়]4।[/গাঢ়]
আরেকদিন দেখা হবার ফোন পেলাম হিমুর কাছ থেকে। গিয়ে আবিষ্কার করলাম শোহেইল ভাইকে। সেদিনের আড্ডা জমেছিল। তবে প্রায় ঘন্টা চারেক বাইরে থেকে ভীষন ঠান্ডা লেগে গিয়েছিল।
[গাঢ়]5।[/গাঢ়]
আরেকদিন নাকি আরো বড় একটা আড্ডা হয়েছিল যেটা মিস করেছিলাম সারাদিন মোবাইল ফোন চার্জবিহীন ছিল বলে। অবশ্য সেদিন ভীষন ব্যাস্তও ছিলাম।
[গাঢ়]6।[/গাঢ়]
শেষ সবার সাথে দেখা যখন কনফুসিয়াস ঢাকায়। বাইরে ছিলাম কিন্তু কনফুসিয়াসের সাথে দেখা করার লোভ সামলাতে পারলাম না। সেই সাথে দেখা রাসেল ভাইয়ের সাথে। দেরী করে গিয়ে তাড়াতাড়ি ফিরি সেদিন।
ভাচর্ুয়াল মানুষগুলো অনেক আলাদা আসল মানুষ গুলো থেকে। ইন্টারনেটে জগতে সবাই নিজেকে সেই ভাবে উপস্থাপন করে যেটা সে আইডিয়াল ভাবে। কিন্তু বাস্তব জগৎ সে হয়ত তা না। তাই সবার সাথে মোলাকাৎ হয়ে ব্লগ আইডির পেছনের মানুষটাগুলোকে দেখে বড় প্রীত হয়েছিলাম এ কয়দিন।
হিমুর পরিকল্পিত জলসার আসরে বসার খুবই শখ ছিল কিন্তু কেউ আর আয়োজন করে উঠতে পারেনি শেষ পর্যন্ত। ফিরে আসার সময় সবার সাথে ফোনেই বিদায় নিলাম। আর মনে মনে বললাম বিদায় বন্ধুরা, দেখা হবে নিশ্চয়ই আবার নতুন গানের আসরে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






