somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি উপন্যাস - 2ক

০১ লা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল বেলা ঘুম থেকে টেনে তুলে সোহান আর রুহানকে রেডী করানো, সকালের নাস্তা শেষ করা, তারপর ট্যাক্সি ডেকে সবকিছু সামলে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌছানো এসব করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন নাজমা। ভাবছিলেন গাড়ীতে বসে একটু জিরোবেন। কিন্তু নাজমার কপালে যে ভাল কিছু কোনকালেই নেই সেটা তিনি ভাল করেই জানেন। বিআরটিসির লাল চৌকোনো বাস দেখে দ্্বীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো নাজমার বুক থেকে। স্বামীর ওপর তিনি তাই প্রায়ই ভরসা করতে পারেন না। বরকত সাহেব তার দিকে তাকিয়ে কৈফিয়ত দেবার ভঙ্গীতে বললেন,
'ঈদের আগে আগে বাসের টিকিট যে পাইছি সেটাই ভাগ্যের ব্যাপার। কি করব বল কম চেষ্টা তো আর করিনি।'

বাসের ভেতর দুসারি সীটের মাঝখানে চলার জায়গাটুকু যে যার মত দখল করে মালপত্র রেখেছে। সেগুলো বহু কষ্ট করে ডিঙ্গীয়ে নিজের জায়গায় গিয়ে ছেলে দুটোকে নিয়ে বসলেন নাজমা। ভীষন রোদ করেছে। এর মধ্যে সোহান বাবার সাথে গিয়ে একটা পড়ার মত পেপারব্যাকের বই কিনে নিয়ে এসেছে। ছেলেটা যে কিনা, সারাক্ষন মুখ গুঁজে খালি কিছু না কিছু পড়ছেই। ছোটটা আবার হয়েছে বাবার মত ছটফটে।

গাড়ীর ছাড়ার সময় কখন পার হয়ে গিয়েছে! তবু মালপত্র উঠছেই। যেন সারা দুনিয়ার সবকিছু তুলে ফেলবে। নাজমা তো ভয় পেয়ে বরকত সাহেব কে বলেই বসলেন,
'দেখো কত মাল উঠাচ্ছে। বাস উলটে টুলটে যাবে নাতো?'

বরকত সাহেব আশ্বাস দিলেন,
'কি যে বলো বিআরটিসির ডাবল ডেকারগুলো দেখো নাই। কখনো একটাকে এক্সিডেন্ট করতে দেখেছো?'

মাস কয়েক আগের ডাবল ডেকার দুর্ঘটনায় দেখলেও কিছু বললেন না নাজমা। তারপর বিরক্তির যখন একশেষ তখন বাসটা ছাড়ল। বাস ছাড়তেই এক ঝলক দমকা হাওয়া এসে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিল নাজমার চোখে মুখে।

কি খাটুনীই না গেছে এ'কদিন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ছোটখাট সরকারী চাকুরী করেন। ঈদের আগে বাবার বাড়ি যাবেন বলে ঠিক করে রেখেছিলেন নাজমা। তার মধ্যে নাজমার মা ফোনে জানিয়েছিলেন নাজমার ছোট ভাইটাকে এবারে বিয়ে দিতে চান। তাই অনেক দিন ধরে স্বপ্নের জাল বুনছিলেন নাজমা। এবারে গেলে খুব ধুমধাম করে ঈদ আর ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান দুটোই করে আসতে পারবেন। কত কষ্ট করে টাকা পয়সা জমিয়েছেন এ কদিন, ভাই-বোন, তাদের বাচ্চাগুলোর জন্য জামা কাপড় কিনেছেন। ভাইটার বিয়ের জন্য জিনিস পত্র কিনে এনেছেন। প্রায় তিনবছর পর আবার যাচ্ছেন নাজমা তার শৈশবের বেড়ে ওঠা বাড়িতে। ভাবতেই চোখে পানি চলে আসে নাজমার। রুহান মায়ের চোখে পানি দেখে খুব অবাক হয়ে যায়।
'কাঁদছ কেন মা?'

'কাদঁছি নাতো বাবা, এই দোখো'

চোখ মুছে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন তিনি। রোদের সাথে তাল মিলিয়ে খুশীর আলো তার চোখে মুখে ঝিলমিলিয়ে ওঠে। লাল রঙের বিআরটিসি বাস সোঁ সোঁ করে এগিয়ে চলে গন্তব্যে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:১৯
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×