'ঈদের আগে আগে বাসের টিকিট যে পাইছি সেটাই ভাগ্যের ব্যাপার। কি করব বল কম চেষ্টা তো আর করিনি।'
বাসের ভেতর দুসারি সীটের মাঝখানে চলার জায়গাটুকু যে যার মত দখল করে মালপত্র রেখেছে। সেগুলো বহু কষ্ট করে ডিঙ্গীয়ে নিজের জায়গায় গিয়ে ছেলে দুটোকে নিয়ে বসলেন নাজমা। ভীষন রোদ করেছে। এর মধ্যে সোহান বাবার সাথে গিয়ে একটা পড়ার মত পেপারব্যাকের বই কিনে নিয়ে এসেছে। ছেলেটা যে কিনা, সারাক্ষন মুখ গুঁজে খালি কিছু না কিছু পড়ছেই। ছোটটা আবার হয়েছে বাবার মত ছটফটে।
গাড়ীর ছাড়ার সময় কখন পার হয়ে গিয়েছে! তবু মালপত্র উঠছেই। যেন সারা দুনিয়ার সবকিছু তুলে ফেলবে। নাজমা তো ভয় পেয়ে বরকত সাহেব কে বলেই বসলেন,
'দেখো কত মাল উঠাচ্ছে। বাস উলটে টুলটে যাবে নাতো?'
বরকত সাহেব আশ্বাস দিলেন,
'কি যে বলো বিআরটিসির ডাবল ডেকারগুলো দেখো নাই। কখনো একটাকে এক্সিডেন্ট করতে দেখেছো?'
মাস কয়েক আগের ডাবল ডেকার দুর্ঘটনায় দেখলেও কিছু বললেন না নাজমা। তারপর বিরক্তির যখন একশেষ তখন বাসটা ছাড়ল। বাস ছাড়তেই এক ঝলক দমকা হাওয়া এসে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিল নাজমার চোখে মুখে।
কি খাটুনীই না গেছে এ'কদিন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ছোটখাট সরকারী চাকুরী করেন। ঈদের আগে বাবার বাড়ি যাবেন বলে ঠিক করে রেখেছিলেন নাজমা। তার মধ্যে নাজমার মা ফোনে জানিয়েছিলেন নাজমার ছোট ভাইটাকে এবারে বিয়ে দিতে চান। তাই অনেক দিন ধরে স্বপ্নের জাল বুনছিলেন নাজমা। এবারে গেলে খুব ধুমধাম করে ঈদ আর ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান দুটোই করে আসতে পারবেন। কত কষ্ট করে টাকা পয়সা জমিয়েছেন এ কদিন, ভাই-বোন, তাদের বাচ্চাগুলোর জন্য জামা কাপড় কিনেছেন। ভাইটার বিয়ের জন্য জিনিস পত্র কিনে এনেছেন। প্রায় তিনবছর পর আবার যাচ্ছেন নাজমা তার শৈশবের বেড়ে ওঠা বাড়িতে। ভাবতেই চোখে পানি চলে আসে নাজমার। রুহান মায়ের চোখে পানি দেখে খুব অবাক হয়ে যায়।
'কাঁদছ কেন মা?'
'কাদঁছি নাতো বাবা, এই দোখো'
চোখ মুছে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন তিনি। রোদের সাথে তাল মিলিয়ে খুশীর আলো তার চোখে মুখে ঝিলমিলিয়ে ওঠে। লাল রঙের বিআরটিসি বাস সোঁ সোঁ করে এগিয়ে চলে গন্তব্যে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




