বরকত সাহেবের একটু ঝিমুনী লেগে এসেছিল কি আসেনি। বিকট একটা শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। শক্ত ব্রেক কষার গতি জড়তায় হুমরী খেয়ে আগিয়ে যান তিনি। বাচ্চা গুলোও একটু ভয় পেয়ে যায়। বাসটা থেমে গেলে হৈচৈ ওঠে যাত্রীদের মাঝ থেকে। বাসের চালক জানায় একটা টায়ার বার্স্ট করেছে, তবে চিন্তার কিছু নেই। বাসটা দুটো করে আটটা চাকার উপর চলে বলে কোন সমস্যা হবার কথা নয়। তবু তারা দেখছে কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং কি করা দরকার।
নাজমা উদ্্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। স্বামীকে ডেকে বললেন,
'ওগো তুমি নেমে দেখোনা কি হল।'
বরকত সাহেব একটু বিরক্ত হলেন,
'আমি কিছু বুঝি নাকি এগুলোর? চুপ করে বসে থাকো তো।'
বসে বসে নাজমার মনে কতো আকাশ পাতাল চিন্তা খেলা করতে লাগল। ঘর থেকে বেরুনোর সময়ই তিনি জানতেন কিছু একটা সমস্যা হবে আজকে। সকাল সকাল কাজের মেয়েটা খালি কলস নিয়ে সামনে দিয়ে ঘুরছিল। এক ধমক দিয়ে ঘরে ফেরত পাঠিয়েছিলেন তিনি। এগুলোর কোন জ্ঞান বোধ নেই। তখন থেকেই বুকটা কেঁপে উঠেছিল তার। তবু দেরী হয়ে যাচ্ছে দেখে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়েন ন তারা।
'নাহ একদমই ঠিক হয়নি। আমার সংসার তো আমাকেই দেখতে হবে।' মনে মনে ভাবেন তিনি।
'আম্মু আর কতক্ষন লাগবে?' ছোট ছেলেটা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায় মায়ের দিকে।
সম্বিত ফিরে তাকান তিনি ছেলের দিকে। ছেলেটা অবিকল বাবার মতো হয়েছে। নিজের উদ্্বিগ্ন ভাবটা লুকাতে পারেন না তিনি।
'এইতো বাবা আর কিছুক্ষন বোধহয়।'
বেশীক্ষন অপেক্ষা করতে হয় না তাদের। যে সময়টার কথা হচ্ছে সে সময়টা মোবাইল ফোন নামক কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। ঢাকায় কারো সাথে কথা বলা যাবে কিনা সেটা যাচাই করে নিয়ে ড্রাইভার, সুপারভাইজার আর হেলপার সিদ্ধান্ত নিল ওই অবস্থায় বাস চালিয়ে নিয়ে যাবার। এমনকি পুরোনো টায়ারটা না খুলেই। সবাইকে শান্ত থাকতে বলে তারা আবার যাত্রা শুরু করল। তাদের আন্দাজ ফেরীঘাট পর্যন্ত যেতে পারলেই টায়ারটার একটা গতি করা যাবে।
বাস চলতে শুরু করলেও সবার মধ্যে উৎকণ্ঠা কমেনি তেমনটা। তবু আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে চলতে শুরু করলেন তারা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




