এ বছরের প্রথম দিকে তার একটি সাক্ষাৎকার অনুবাদ করেছিলাম আমি। সেটি এখানে জুড়ে দিলাম। এটিতে মূলত নোবেল পুরস্কার নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি।
'লেখা চালিয়ে যেতে নোবেল পুরস্কার উৎসাহ দিয়েছিল বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি পুরস্কারটি পেয়েছি ক্যারিয়ারের শেষ বেলায়। পুরস্কার পাওয়ার পর একটি বই-ই আমি লিখেছি_ আত্মজীবনীর প্রতিধ্বনি (ইকোস অব অ্যান অটেবায়োগ্রাফি)। এখন লিখছি আরোগ্য লাভের স্বপ্ন । এমনকি কুসটুমুর উপন্যাসটিও পুরস্কার পাওয়ার আগে লেখা। পরে এটি বই হিসেবে বেরিয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে নোবেল জয় আমার ওপর এমন এক লাইফ স্টাইল চাপিয়ে দিয়েছে যাতে আমি অভ্যস্ত নই, এটাকে নিজে থেকে বেছে নেয়ারও কোনো কারণ নেই। আমাকে নিয়মিত কথা বলার জন্য মিডিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু আমার পছন্দ নিরিবিলি লেখা চালিয়ে যাওয়া।' বলেন নাগিব মাহফুজ। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল_ 'আপনার জীবনে ও পরবর্তী কাজে নোবেল পুরস্কার কোনো প্রভাব ফেলেছিল?' গত মার্চে সুইডিশ একাডেমি লাইব্রেরির পরিচালক ও নোবেল প্রাইজ কনসালটেটিভ কমিটির সদস্য লারস রিডকু্যইস্ট কায়রো সফরে গিয়েছিলেনে। নোবেল বিজয়ী মিশরীয় সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজকে তিনি কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। উদ্দেশ্য সুইডিশ একাডেমির নাগিব মাহফুজ বিষয়ক ওয়েব সাইটটিকে উন্নত করা। পুরস্কার পাওয়ার পর আপনার কি অনুভূতি হয়েছিল? প্রশ্ন করা হয় মাহফুজকে। তিনি বলেন, 'চূড়ান্ত আনন্দের পাশাপাশি ভীষণ বিস্মিত হয়েছিলাম আমি। আনাতোল ফ্রাঁস, বার্নাড শ, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, উইলিয়াম ফকনারের মতো হাইয়েস্ট ক্যালিবারের লেখকদের সমসাময়িক কালে আমি পুরস্কার পেয়েছিলাম। তখন জঁ্যা পল সার্ত্রে ও আলবেয়ার কামুও ছিলেন। মাঝে মাঝে আমি শুনতাম যে, একজন আরব পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। কিন্তু আমার ঘোর সন্দেহ ছিল ব্যাপারটি নিয়ে।' বলেন নাগিব মাহফুজ। 'আপনি নোবেল পাওয়ার পর ইজিপশিয়ান সাহিত্যে আপনার কাজের কি প্রভাব পড়েছিল?' 'উত্তরটা সমালোচকদের জন্যই তোলা থাকুক। একমাত্র তারাই বলতে পারেন আমার কাজ আরবীয় সাহিত্যকে প্রভাবিত করতে পেরেছে কি না। একটি প্রভাবের কথা আমি বলতে পারি, আমার পুরস্কার পাওয়ার পর আরবি ভাষার সাহিত্যকর্মগুলো অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আমি একথা রাশিয়ান ও জার্মান অতিথিদের কাছে শুনেছি।'
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






