ফ্রিদা কাহলোর জীবনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ছোটবেলার মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা ও বড়বেলায় আরেক আলোচিত মেক্সিকান পেইন্টার দিয়েগো রিভেরার সঙ্গে সম্পর্ক মানে বিয়ে। দিয়েগো রিভেরা ছিলেন হাই ক্যালিবারের শিল্পী। প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল অনেক। রিভেরা-কাহলো দম্পতির সোশালিস্ট জীবন ছিল সবার আলোচনার বিষয়। রিভেরা মেয়েদের পটানোর ব্যাপারে ছিলেন ওস্তাদ। আর পারিবারিক বিষয়ে লিবারাল। অন্যদিকে ফ্রিদাও ছিলেন মুক্তপ্রাণ বাইসেক্সুয়াল। তাকে নিয়ে ছবি শুধু ইন্টেলেকচুয়াল কারণে বিখ্যাত হবে বা বাজারে চলবে তা না ভাবাই ভাল। বরং দেখা গেছে রিউমারটাই বড় হয়ে উঠেছিল।
ছবির শুরু ফ্রিদার শৈশব থেকে মৃতু্য পর্যন্ত। তার অাঁকা নানা ছবির পরিপ্রেতি আশপাশের ঘটনা বেশ দতার সঙ্গে উঠে এসেছে। মুভি যখন স্টিল হয়ে একটি পেইন্টিংএ থেমেছে তখনই বোঝা গেছে হলিউডের কেরামতি।
ফ্রিদার জীবনে নানা পুরুষ ও নারী এসেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ও বিতর্কিত লিও ট্রটস্কি। বিখ্যাত মার্কসিস্ট ও বিপ্লবী। লেনিনের উত্তরাধিকারী হিসাবে জোসেফ স্টালিন নয়, তারই মতা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। অকাজে, অসঙ্গে থেকে শেষ পর্যন্ত যে হাতুড়ি আর কাস্তে নিয়ে তার আজীবনের স্বপ্ন সেই হাতুড়ির আঘাতেই মৃতু্যবরণ করতে হয়েছে। ঘুরতে ঘুরতে পালাতে পালাতে একদা ট্রটস্কি দিয়েগো রিভেরার ঘরে আতিথ্য বরণ করেছিলেন। তার সঙ্গে ফ্রিদার গড়ে উঠেছিল এক পাগলপারা সম্পর্ক। কিন্তু সিনেমায় একটু বেশিই দেখানো হয়েছে, এ অভিযোগ শুধু আমার না, অনেকেই করেছেন। সমাজতন্ত্রের প্রতি হলিউডের ােভ চিরকালীন একটা ব্যাপার হয়ে পড়েছে বলতেই হবে।
বাদবাকী ফ্রিদা দেখলে জোশ বলতেই হবে। একজন আর্টিস্টের একান্ত জায়গাগুলো বোঝার, তার বেদনা অনুভব করার, তার কাজের সহজসাধ্য একটা মানে বের করার চেষ্টাকে খারাপ বলা এত সহজ না।
এই মুভিতে রিভেরার চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলফ্রেড মলিনা। ট্রটস্কির চরিত্রে জিওফ্রে রাশ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


