ঠাকুরের গ্রামে ছোট ছোট পাড়ায় পাড়ায়, মাঝে মাঝে বয়ে গেছে বিল ঝিল, নদী টাঙ্গন। সেইখানে এক গ্রামে রিকা থাকে। তার সেই বাড়ি হতে আসন্ন আশ্বিনে মাড়াই কলের ধোঁয়া দেখা যায়। আখের গাড়িতে বাহিত সুমিষ্ট আখরাশি, যাহা কিনা ঘাসের স্বজাতি, ইহাদের- তারা সব দেখে থাকে অবনীন্দ্র ঠাকুরের সনে। রিকা ও রবীন্দ্রনাথ দুইজনে বৈকালিক চায়ের আসরে ধূমায়িত অগি্নর সকাশে নানামুখি গান গেয়ে থাকে। আর জলাশয়ে, বিভিন্ন কাশের বনে আজি এ আশ্বিনে ঠাকুরের গ্রাম কাঁচসম ঝলকে ঝলকে। সেইখানে রিকা তার 22শে শ্রাবণে পাড়ায় পাড়ায় অবিরত লিখে যায় নামাবলী ইহাদের, বিনয়ের অবিনীত আকশের, ধোঁয়চ্ছন্ন গোধুলী মেঘের। এইকাশ, তুমি সখা তার প্রাণে কোন অবকাশে আরবার ফুটিয়াছো প্রভু? আর হে কদম তুমি ঈশ্বরীর হতে দূরে, অদূরবর্তী মেঘের উপরে না হয় ফুটিও এই পৌষে অথবা আশ্বিনে। আরও ধীরে জীবন বাবুর সাথে রাস্তার মোড়ের দোকানে চা খেতে খেতে স্থানীয় কাউকে না হয় জিজ্ঞাসিও কোন পথে যেতে হয় রিকাদের বাড়ি। এই শীতে নিশুতি প্রহরে। তারপরে হয়তো চলিলে একা যেই পথে তারা দুই বোন কলেজের মেয়ে হলে রাতভর ঘুমিয়ে, না ঘুমিয়েও থাকে। দ্্বার খুলে মিলে মিশে দুই বোন যখন প্রভাতে উত্তরের পানে রয়েছে তাকায়ে, সোয়েটারে ঢাকা তার লাল জামা। তখনও হয়নি চা, আবারও ডাকেনি মা। অলস হে প্রাণ তুমি শিলিগুড়ি হতে এসে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাতে অবকাশ নিরসিও ভাই। যাতে ওই হিমালয়, তাকালেই দেখা যায়। রিকাদের বাড়ি হতে সেই হিমালয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



