somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিল্পী মুর্তজা বশীরের সাক্ষাতকার ১

৩১ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পেইন্টিং, মুরাল, ছাপচিত্রসহ চিত্রকলার নানা ফর্মে কাজ করেছেন মুর্তজা বশীর। বাংলাদেশের চিত্রকলায় অগ্রগণ্য অবস্থান তার। লিখেছেন গল্প, কবিতা, উপন্যাস। উর্দু মুভি কারোয়ার চিত্রনাট্য লিখেছেন। হুমায়ুন কবীরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত আলমগীর কবিরের মুভি নদী ও নারীতে কাজ করেছেন চিত্রনাট্যকার, শিল্প নির্দেশক ও প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে। গবেষক হিসেবে মুদ্রা ও শিলালিপির আলোকে রচনা করেছেন বাংলার হাবশি সুলতানদের ইতিহাস। শিল্পকলা বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন চিটাগং ইউনিভার্সিটিতে। এতো কিছুর পরও ফটোগ্রাফি, ডাকটিকেট সংগ্রহের মতো শখের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অবিরাম পাঠ করে চলেছেন ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্ব বিষয়ক বইপত্র। তারুণ্যের দীপ্তি তাকে রাখে সদাচঞ্চল। ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী শিল্পী চান ৯৩ বছরের জীবন। নির্মাণ করতে চান চারটি ডকুমেন্টারি মুভি। মে মাসেই একে ফেলতে চান ডানা সিরিজের ১৫টি ছবি। দ্রুত ঘুরে আসতে চান বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতœস্থল। তার জন্ম ঢাকায়, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র কনিষ্ঠ সন্তান তিনি। চিত্রকলা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন ঢাকা আর্ট ইন্সটিটিউট, আশুতোষ মিউজিয়াম, ফ্লোরেন্সের দ্যেল বেল্লে আরটি, প্যারিসের ইকোলে ন্যাশনাল সুপিরিয়র দ্য বোজার্ট ও আকাদেমি গোয়েৎস-এ। ভ্রমণ করেছেন নানা দেশ, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন বাংলার লোকশিল্প। ১৯৯৮ সালে চিটাগং ইউনিভার্সিটি থেকে অবসর নিয়ে ২০০৩ সাল থেকে স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকছেন। কর্ম উদ্যোগী এ শিল্পী কথা বলেছেন যায়যায়দিনের সঙ্গে। দু’দফায় আয়োজিত ইন্টারভিউতে তিনি বলেছেন নিজের শিল্প, জীবন ও নন্দনতত্ত্ব ভাবনা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা ও মাহবুব মোর্শেদ। ছবি তুলেছেন শরীফ সারওয়ার।

সাধারণভাবে আমরা জানি মুখ্যত বেঙ্গল স্কুলের মাধ্যমেই বাংলায় আধুনিক চিত্রকলা চর্চার সূচনা ঘটেছে। বেঙ্গল স্কুলের পর পশ্চিম বাংলা ও বাংলাদেশে বঙ্গীয় শিল্পধারা বলে কি কিছু তৈরি হয়েছে?


এ প্রসঙ্গে একটি কথা সর্বপ্রথম বলা উচিত যে, বাংলাদেশের বেশির ভাগ শিল্পী মনে করেন, শিল্পকলার ভাষা হলো আন্তর্জাতিক। অতএব আন্তর্জাতিকতা তার শিল্পে থাকতে হবে। এখানে একটি জিনিস আমার কাছে বেখাপ্পা লাগে, আন্তর্জাতিক ভাষা আমি স্বীকার করি কিন্তু সে ভাষায় তো মাটির গন্ধ থাকতে হবে। আমরা আমেরিকার অ্যাবস্ট্রাক্ট এক্সপ্রেশনিস্টদের কাজ দেখি, তারা রঙ ছিটিয়েছে, ছড়িয়ে দিয়েছে, রাগের সঙ্গে চওড়া ব্রাশ দিয়ে ইচ্ছা মতো আকাঝুকি করেছে। কেন? আমেরিকার সোসাইটি ছিল ভাঙনমুখী। বাবা ছেড়ে চলে গেছে, মা ছেড়ে চলে গেছে। এই যে টোটাল একটা এলিয়েনেটেড সমাজ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যান্ত্রিকতা সেখানে। মানুষ সেখানে অনেকটা যন্ত্রের কাছে পরাজিত হয়েছে। ভেতরের এ রাগের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখছি শিল্পীদের রঙ ব্যবহারে, সেটার মধ্যে এক ধরনের অ্যাঙ্গার প্রকাশিত হচ্ছে। সাইড বাই সাইড আমরা দেখছি ওই সময় সাহিত্য ক্ষেত্রে বিট জেনারেশন। বিলেতে অ্যাংরি ইয়াং ম্যান। জন অসবর্ন বিলেতে লুক ব্যাক ইন অ্যাংগার লিখলেন। সঙ্গে আরো অনেকে জন ওয়াইন, ফিলিপ লারকিন, কিংসলি অ্যামিস। বাংলাদেশে তো এখনো একান্নবর্তী পরিবার। পাশ্চাত্যের ওই সেন্সে এখনো কিন্তু এখানে একজন মানুষ এলিয়েনেটেড হয়নি, এখনো যৌথ পরিবার। বাবা-মা-ভাই-বোন নিয়ে থাকে। টোটালি এলিয়েনেটেড মানুষের পার্সেন্টেজ খুব কম। এখানে শিল্পকলার আন্তর্জাতিক ভাষার চিন্তাধারার ফলে দেখা গেল, এসব চিত্রকলায় মাটির গন্ধ আর দেশজ রঙ থাকলো না।
এর আরেকটি কারণ হলো, শিল্প সংগ্রাহক বলতে যা বোঝায় তা সেভাবে গড়ে ওঠেনি। শিল্প সংগ্রাহকরা যতোক্ষণ না আর্টকে একটি পণ্য হিসেবে লগ্নি করবে ততোক্ষণ এখানে আর্ট ওইভাবে বিকশিত হবে না। এখানে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া আমাদের দেশে আর্ট সংগ্রাহক গড়ে ওঠেনি। এখানে ছবির বেশির ভাগই বিক্রি হচ্ছে অনেকটা ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন হিসেবে। ঘরের দেয়ালের রঙ, পর্দার রঙ, কার্পেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। ফলে শিল্পীদের কাজেও উজ্জ্বল রঙের প্রয়োগ আমরা দেখি না। আমার জীবনে এমন ঘটেছে, আমি হয়তো লাল রঙ ব্যবহার করেছি কিন্তু সে ছবি বিক্রি হচ্ছে না। বায়ার আমাকে বলেছে, আপনার এ ছবির সঙ্গে আমরা তো বসবাস করতে পারবো না। আমি যদি ওখানে কম্প্রোমাইজ করে ফেলি তাহলে তো আমি আমার ছবি করতে পারবো না।
বাংলার নিজস্ব ঘরানা গড়ে ওঠেনি, কারণ আমরা কথায় বলি আমরা বাঙালি কিন্তু বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি সম্পর্কে আমরা কতোটুকু জানি? এটার জন্য অনেক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে ছোটবেলাতেই যোগসূত্র স্থাপন করে দিতে হবে। আমি যখন প্যারিসে ছিলাম আমার বড় মেয়ে ফরাসি স্কুলে যেতো। দেখা যেতো স্কুল থেকে তাদের ভার্সাই প্যালেসসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হতো। বাংলাদেশে কি আমরা ময়নামতি, মহাস্থান কিংবা পাহাড়পুর, কান্তজীর মন্দির এগুলোতে আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে যাই? যাই না। ফলে ঐতিহ্যের সঙ্গে আমাদের যোগ নেই। এই যে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে উয়ারি-বটেশ্বরে খনন হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি সেখানকার কয়টা ছেলেকে উয়ারি-বটেশ্বরে নিয়ে গেছে? আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে ছোটবেলা থেকে আমরা যোগসূত্র তৈরি করতে পারিনি।
তারপরও আমাদের এখানে যে একেবারেই কাজ হচ্ছে না তা নয়। আমাদের কামরুল হাসান লোকশিল্প, কালীঘাটের চিত্রকলা ইত্যাদির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। রশীদ চৌধুরী ট্যাপেস্টৃর ফর্ম আমাদের নিজস্ব লোকশিল্প লক্ষ্মীর সরা থেকে নিচ্ছেন। আবার কাইয়ুম চৌধুরীকে আমারা দেখলাম, একদিকে কালীঘাট থেকে নিচ্ছেন অন্যদিকে তার মধ্যে জ্যামিতিক যে বিন্যাস আমার মতে, সেটা অনেকটা জামদানি শাড়ির মতো। এ রকম হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্যরা আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি আকর্ষণ বোধ করছেন বলে তো আমি দেখছি না।
আমি ব্যক্তিগতভাবে ইওরোপিয়ান ঘরানার শিল্পী ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম, আমার শিল্পকলায় মাটির গন্ধ নেই, দেশের গন্ধ নেই তখন আমার মনে হলো, একজন কৃষকের প্রধান কাজ হলো জমিটাকে চেনা। জমিটাকে চিনলেই সে সঠিক বীজটা রোপণ করতে পারবে। একজন শিল্পীকে কৃষক হতে হবে, তাকে বুঝতে হবে আমার মাটি কেমন।
ঐতিহ্যে হাত দিতে গিয়ে দেখলাম, আমার আগে দু’জন অলরেডি সেখানে হাত দিয়ে কাজ করেছেন একজন যামিনী রায় আরেকজন কামরুল হাসান। আমার কাছে মনে হলো, এরা বিরাট দুটি পাহাড় এবং এ পাহাড়কে অতিক্রম করার মতো শক্তিশালী শিল্পী সত্তা আমার নেই। আমি জানি, পিকাসো যখন কিউবিক পদ্ধতিতে শিল্পকলা সৃষ্টি করলেন যে কেউ কিউবিজম করতে গিয়ে পিকাসোর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। কারণ পিকাসো কিউবিজমকে এমন একটা স্যাচুরেটেড পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন যে, পিকাসোর গন্ধটা মুছে ফেলা কঠিন কাজ ছিল। তেমনি দেখলাম, আমার কাজে যদি কামরুল হাসান বা যামিনী রায়ের গন্ধ থাকে তবে সেটা একজন আত্মম্ভরী শিল্পীর জন্য প্রশংসার কথা নয়। আমি তাহলে কি করতে পারি? আমি ঠিক করলাম, আমার পাশ্চাত্যের শিক্ষা-দীক্ষা ও আমার ঐতিহ্যকে যদি মেলবন্ধনে আনতে পারি তাহলে আমি ওদের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো এবং আমি সেভাবে বেশ কিছু ফিগারেটিভ কাজ ২৫ বছর পর ১৯৯৩-তে শুরু করি। তবে এখনো মনে হয়, বাংলাদেশে আমরা ছবি আকছি ঠিকই কিন্তু নামটা যদি মুছে ফেলা যায় তবে শিল্পীর আইডেন্টিটি দেখা খুব মুশকিল। সে কি ফরাশি, নাকি ইংরেজ নাকি আমেরিকান যে এ দেশে এসেছে এখানকার নিসর্গ কিংবা এখানকার মানুষ আকছে বোঝা মুশকিল।
এখানে মূল ব্যাপার হলো, আমার ঐতিহ্যের প্রতি, সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আমার ঐতিহ্যকে জানতে হবে, তার মধ্যে অবগাহন করে যদি শিল্প সৃষ্টি করা হয় তাহলেই একটি নিজস্ব শিল্পধারা গড়ে উঠবে।

আমাদের ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্ব বিষয়গুলো গভীর অভিনিবেশে পাঠ করেন। এ বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণামূলক কাজও করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে ইতিহাসের মতো বিষয়ের প্রতি আপনার আগ্রহের সূচনা কিভাবে ঘটলো?

আমি মনে প্রাণে ইওরোপিয়ান চিন্তাধারায় আক্রান্ত ছিলাম। আমার বয়স যখন ২২ বছর, আমি এক রাতে বাড়ি ফিরিনি। আমার বাবা জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি বাড়িতে ফিরলে না কেন? আমি বড় হয়েছি। এটা আমাদের সমাজে বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্ত পরিবারে হয় না। আমার বাবা আমাকে ইটালিতে পড়তে পাঠিয়েছিলেন। আমি ঢাকায় ফিরে আসার পর যখন কোনো চাকরি পেলাম না তখন সিদ্ধান্ত নিলাম করাচি চলে যাবো। আমি যখন কাপড়-চোপড় গোছাচ্ছি, আমার বাবা এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি আমাকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন বোধ করলে না? আমি বললাম, নো, আমি গ্রোন আপ।
কিন্তু ১৯৮০ সালে যখন বাংলাদেশ সরকার ও শিল্পকলা একাডেমি আমাকে জাপানে ফুকোকা সিটিতে একটি সেমিনারে পাঠালো আমার ইন্টারপ্রেটার মেয়েটি ছিল সুন্দরী, তরুণী, বেশভুষায় আধুনিক। আমি যখন তার দিকে করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলাম সে কিন্তু হাত বাড়ালো না। সে তাদের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে মাথাটা ঝুকিয়ে আমাকে অভিবাদন জানালো। এটা আমাকে ভীষণভাবে আহত করলো। আমার তখন ঈশপের গল্প মনে হলো। একটা কাক ময়ূরের পুচ্ছ পরে ছিল। সে কাকও হতে পারেনি, ময়ূরও হতে পারেনি। আমার মনে হলো, বাংলাদেশ তো বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ নয়, এটি এ উপমহাদেশেরই অংশ এবং এ উপমহাদেশের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা। লোকজ উপাদান ও জলবায়ুর প্রভাব থাকতে হবে কিন্তু ধারাবাহিকতা তো অস্বীকার করা যায় না। তখন আমার জানার ইচ্ছা হলো, আমি কে, আমি কি, কোত্থেকে এসেছি। এটি যখন আমার মাথায় ঢুকলো তখন দেখা গেল আমি আসলেই আর কোনো ছবি আকতে পারছি না। আমি ’৮০ থেকে ’৮৪ পর্যন্ত কোনো ছবি আকিনি। সে সময় আমি নিজেকে খোজার জন্য এ দেশের ধর্মীয় গ্রন্থ, ইতিহাস, সামাজিক ইতিহাস, অর্থনৈতিক ইতিহাস, রাজনৈতিক ইতিহাস, যে স্মৃতি ও শাস্ত্রগুলো আছে, পুরাণ এগুলো পড়া শুরু করলাম।
তখন চিটাগং ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছি, অ্যাসিস্টান্ট বা অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরের বেতনে তো আর সংসার চলে না। ফলে ছবি আকতে হয়। যেহেতু ছবি আকা ছাড়া অন্য কোনো বিদ্যা জানি না, যা থেকে কিছু পয়সা আসতে পারে। যেহেতু কমার্শিয়াল কাজ আমি করতাম না। বইয়ের প্রচ্ছদ, ইলাস্ট্রেশন আমার দ্বারা হতো না। জানতাম না বলে লোকের কোনো চাহিদাও ছিল না। এ জন্য অতিরিক্ত অর্থের জন্য আকাআকি চালাতে হতো। ইচ্ছার বিরুদ্ধে ’৮৪ সালে একটি প্রদর্শনী করলাম। পরে আবার ছবি আকা বন্ধ হয়ে গেল। আবার ’৮৮ সালে কয়েকটি ছবি আকলাম।
তারপর ১৯৯০ থেকে ’৯৭ এ সাতটি বছরে আমি গবেষণা করতে শুরু করলাম। আমার কাছে খুব অবাক লেগেছিল বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে চারজন অ্যাবেসিনিয়ান। এরা এসেছিল দাস হিসেবে। এরা পরে ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। আমি ওই সময় একটি বই করি, মুদ্রা ও শিলালিপির আলোকে বাংলার হাবশি সুলতান ও তৎকালীন সমাজ নামে।
আমার মতে, ইউনিভার্সিটিগুলোর ইতিহাস কিভাবে মুদ্রাতত্ত্ব ও শিলালিপি সম্পর্কে পাঠদান করা উচিত। তাহলে এ দেশের ইতিহাস, মুদ্রা, সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে। ইউনিভার্সিটি লেভেলে এগুলো পাঠ্য থাকলে সামাজিক কাঠামো বোঝা যেতো। আমরা মুখে বলি বাঙালি বাঙালি, অন্তর থেকে বলি না। শুধু পহেলা বৈশাখ আর ঢাকঢোক পেটালেই বাঙালি সংস্কৃতি হয় না। এগুলো লোক দেখানো। সংস্কৃতিকে তো লালন-পালন করতে হবে।
জাপানের ওই ঘটনা থেকেই আমার মধ্যে দেশের সংস্কৃতি নিয়ে, ইতিহাস নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হলো। এই যে আমি বসে আছি, আমার পেছনে আছে বাংলাদেশের বিরাট একটা ম্যাপ। আমি ম্যাপে দাগ দিয়ে রেখেছি কোথায় আমাদের লোকশিল্প, টেরাকোটা, প্রতœসম্পদ আছে। শুধু মন্দিরে না, মসজিদেও। এগুলো তো দেখতে হবে। এগুলো আমাদের মাটি থেকে উঠে আসা। এ দেশের গ্রামীণ শিল্পীরা এগুলো করেছে।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্রিকেটের রাজাকার ট্যাগ পাচ্ছেন বুলবুল আহমেদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।
বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০


কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------






























... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×